রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে বিতর্কিত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ: মির্জা আলমগীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে বিতর্কিত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ: মির্জা আলমগীর

প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে বিতর্কিত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ: মির্জা আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে আমরা যখন একটি সুষ্ঠু ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে ফিরে আনার চেষ্টা করছি। এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠন করবার জন্য যখন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন, কথা বলেছেন। সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রাষ্ট্রপতি হয়তো এমন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে। কিন্তু আওয়ামী সব সময়েই সুস্থ অবস্থায় ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তারা দেশের স্থিতি অবস্থাকে নষ্ট করে রাজনীতিতে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে ইতিমধ্যে বিতর্কিত করে ফেলেছে। এবং বিতর্কিত করতে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। অন্যথায় সেই নির্বাচন কমিশন এদেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না। যা আওয়ামী লীগের বশংবত হবে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আরাফাত রহমান কোকো’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ১/১১ যে অবৈধ সরকার যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সুপরিকল্পীতভাবে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের আর্দশের প্রতীক জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ করবার যে নীলনকশা ছিল সেই নীল নকশার অংশ হিসাবে আরাফাত রহমান কোকো’কে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছিল। যারই ধারাবাহিকতায় সেই উদ্দেশ্যকে নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও রাজনীতি এবং এই রাজনীতির পতাকা বহন করে স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক নিয়ে চলেছেন সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে তারা একদিকে রাজনীতি থেকে অন্যদিকে শারীরিকভাবে নিমূর্ল করার চেষ্টা করেছেন। এটা বিছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটা এদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবার জন্য সুপরিকল্পীতভাবে কাজ করছেন সেই নীলনকশার এই একটি অংশ।

তিনি বলেন, এই সরকার গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের এ সরকার অনৈতিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে তাদের যে বিরোধী পক্ষ অর্থ্যাৎ একমাত্র সক্ষম বিরোধী পক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তাদের নেতৃবর্গকে নিমূর্ল করে দেওয়ার জন্য আজকে নির্যাততন, নিপীড়ন, খুন, গুম ও হত্যার মধ্যে দিয়ে সারা বাংলাদেশে ক্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। এবং তারই ফলশ্রতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে রাজনীতির কথা বলা টিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, আজকে যে পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে কিন্তু এখন শুধু রাজনীতির কথা নয়, আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আজকে অত্যন্ত সক্ষম ও সবল হয়ে দাড়াতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যু ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে সকলের কাছে অম্লান হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যু আমাদের শোকাহত করেছে কিন্তু এই শোককে ধারণ করে নিশ্চিুপ হয়ে থাকলে চলবে না, বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে অপশক্তি ও বিধ্বংসী শক্তিকে অপসারণ ও পরাজিত করতে হবে। আসুন সেই শপথ করি আরাফাত রহমান কোকো’র আত্মা তখনেই সম্মানপ্রর্দশন করা সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি। জাতীয় ঐক্যে সৃষ্টি করি অপশক্তিকে পরাজিত করি।

এসময় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবু সাঈদ খান খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আবুল বাশার, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।