রায়ের পর সিলেটে সংঘাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, গাড়ি ভাংচুর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রায়ের পর সিলেটে সংঘাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, গাড়ি ভাংচুর

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮

রায়ের পর সিলেটে সংঘাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, গাড়ি ভাংচুর

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার পর সিলেট নগরীতে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ। এসময় কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫-২০জনের মত আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। ছাত্রদল নেতা রুনু আহমদ,নজরুল ইসলাম,আব্দুল আহাদ সুমন,সেলিম মিয়া,এমদাদুল ইসলাম মিজান,সাইদুর রহমান সাইদ,আফজাল হোসেন, আহমদ শাহিন লিংকন সমা’ সহ বহু নেতা কর্মী আহত। আহতদের মধ্যে আলাউদ্দিন ও শামীম নামে দুই পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রায়ের পরপরই নগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও বন্দরবাজারে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান।

এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রায়ের পরপরই সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আদালত এলাকা থেকে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় জেলা পরিষদে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষ।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দাবি করেন, রায়ের পরপরই বিএনপি-জামায়াত ও শিবির কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা শাস্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করার সময় পুলিশ গুলি শুরু করে। এরপর সশস্ত্র আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিলে হামলা করে।

উল্লেখ্য, সরকারি টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামি হলেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। আজ বেলা আড়াইটার দিকে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

জেলের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই কোটি দশ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।