রুহেল হত্যা মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে, শিগগিরই চার্জশিট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রুহেল হত্যা মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে, শিগগিরই চার্জশিট

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৭

রুহেল হত্যা মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে, শিগগিরই চার্জশিট

সিলেটে রুহেল মিয়া হত্যাকা-ের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে। শিগগিরই মামলার চার্জশিট প্রদান করবে পুলিশ। গত ৬ জুলাই দক্ষিণ সুরমার খালপাড়স্থ সদরখলা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকের পাকা রাস্তা সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড় এলাকা থেকে রুহেল মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করলেও হত্যাকা-ের সাথে আরো অনেকেই জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জের হাজীপাড়া গ্রামে মৃত আবদুল সুবহানের ছেলে রুহেল মিয়া (৩২)। রুহেলের লাশ উদ্ধারের পর তার ভাই সুহেল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে রুহেল মিয়াকে ‘সবজি ব্যবসায়ী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রুহেল মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে ৫টি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। রুহেলের ভাই সুমনের বিরুদ্ধেও একটি চুরির মামলা রয়েছে। এ মামলাগুলোর তথ্য জানার পর রুহেল হত্যাকা-ের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।
সূত্র জানায়, রুহেল মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় দায়েরকৃত চুরির মামলাগুলো হচ্ছে- ১৪/১৬ তারিখ ২২/১১/২০১৬, জিআর নং ৩০১/১৬, ৫/১৬ তারিখ ৪/৮/২০১৬, ৮/২০০৫ তারিখ ৮/৬/২০০৫। রুহেলের ছোট ভাই পারভেজ আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে একই থানায় দায়েরকৃত মামলা নং হচ্ছে ১১/৮ তারিখ ১৫/৪/২০০৮।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রুহেল মিয়া তার সঙ্গী রনি ও রুজনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে সিলেট নগরীর কাষ্টঘরস্থ মাদকপাড়ায় ‘বাবা’ সেবন করেন। তারা দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা বরইকান্দি, মখন দোকান, কামাল বাজারের বেটুয়ারমুখ, খানোয়া, সদরখলা-২ এবং সর্বশেষ খালপাড় গ্রামে তাদের মোবাইলের নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ রনি ও রুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের অপর সঙ্গীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। দক্ষিণ সুরমা থানার এসি মোস্তাফিজুর রহমান রহস্যজনক মামলাটি মনিটরিং করছেন। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তিনি জোর চেষ্টা করছেন।
জানা যায়, রুহেল মিয়া হত্যাকা-ের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা হয়। তবে গত ১৩ আগস্ট খালপাড় গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে সাঈদ ও সাঈফকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাদেরকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দুজন বলেন, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে তাহাজ্জুদের সময়ে তাদের বাবা আশিক মিয়া নামাজের জন্য মসজিদে গেলে দরজা খোলা পেয়ে এক চোর ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের ছোট ভাইয়ের মোবাইল চুরি করার সময় শব্দ হলে তারা জেগে ওঠেন। এ সময় তারা ‘চোর চোর’ বলে শোর-চিৎকার দিলে গ্রামের ও আশপাশের বাড়ির মানুষ এসে জড়ো হন। তখন সবাই ওই চোরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খোঁজাখুঁজি করে চোরকে না পেয়ে সবাই বাড়িতে ফিরে যান। সকালে পুলিশ এসে সুরমা নদীর পাড় এলাকা থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে। তখন জানা যায়, ওই লাশটি রাতের চোরের।
এদিকে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালত-২ এ ১৪ আগস্টের ১৬৪ ধারার জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করেন সাঈদ ও সাঈফ। আদালতে তাদের আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘গত ১৩ আগস্ট বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আমাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। আমাদেরকে থানায় আনার কারণ জিজ্ঞেস করলে দক্ষিণ সুরমার পুলিশরা বলে, তোদের অনেক সম্পত্তি হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, এলাকার কিছু বিরোধীপক্ষ দ্বারা আমাদের ধরে এনে মিথ্যাভাবে দক্ষিণ সুরমা থানার ০৯/০৮/০৭/১৭ নং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা আমাদের অকথ্যভাবে গালাগালি করে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বলে, আমরা যদি তাদের কথা মতো আদালতে জবানবন্দি না দেই তবে আমাদেরকে ক্রসফায়ার করবে।’ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানায় এসআই রিপটন পুরকায়স্থ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মামলার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে।
তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আছে আরো অনেকে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।