রেড ক্রিসেন্টের নামে ত্রাণ দেয়ার প্রলোভন: হাতিয়ে নিলো টাকা

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

রেড ক্রিসেন্টের নামে ত্রাণ দেয়ার প্রলোভন: হাতিয়ে নিলো টাকা
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের বালাগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের নাম ভাঙিয়ে ত্রাণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি অসাধু চক্র। টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর ওই চক্রের মোবাইল নাম্বারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগে দুই জন লোক এসে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুরের সাথে দেখা করেন। নিজেদের তারা রেড ক্রিসেন্টের দায়িত্বশীল বলে পরিচয় দেয়। এর মধ্যে একজনের নাম আকবর হোসেন বলে পরিচয় দেন।
উপজেলা চেয়ারম্যানকে তারা জানায়- রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হবে। তাই বালাগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে প্রায় শতাধিক গরীব মানুষের তালিকা করে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান তালিকা করে দিবেন বলে তাদেরকে আশ্বস্থ করে ৬টি ইউনিয়নের পরিচিত কয়েকজনকে তালিকা তৈরীর দায়িত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে ওই প্রতারক চক্র প্রস্তুত করা তালিকা না নিয়ে কৌশলে ওই তালিকা থেকে ত্রাণের উপকারভোগীদের নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে নেয়।
এরপর প্রতারক চক্র ০১৩০৬-২৯৩৯৬৬, ০১৮৪১-০২৮৭৮৫, ০১৭৮৩-১৮৪৬৩০, ০১৭৭৬-২৮৯৭৭৫ এই নাম্বারগুলো থেকে উপকার ভোগীদের কাছে ফোন দিয়ে জানায় ত্রাণ পেতে আগ্রহী প্রতিজনকে নগদ টাকাসহ কমপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকার ত্রাণ দেওয়া হবে। ত্রাণ পেতে হলে হাজার খানেক টাকা দিতে হবে। এরমধ্যে সরল বিশ্বাসে অনেকেই ত্রাণ পাওয়ার আশায় প্রতারক চক্রকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠান। টাকা নেওয়ার পর থেকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিকাশে টাকা পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের রুজেল আহমদ, আতাসন গ্রামের রফিক মিয়া, পশ্চিম হরিশ্যাম গ্রামের কুতুব আলী, নিয়াজ আলী, সুহেল মিয়া, লায়েক মিয়া, আব্দুস ছালাম, আব্দুল বশির, কলুমপুর গ্রামের আব্দুল আলিম, আবুল মিয়া, সাবুল মিয়া ও ছাতির মিয়াসহ ২০-২৫ জন। এছাড়া দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম থেকে অনুরুপ ভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টাকা হাতিয়ে নেয়া নাম্বারগুলোর মধ্যে একটিতে ইমু সেটিং করা আছে। ওই ইমুতে জুয়েল সরকার নাম দেয়া আছে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমদ মঞ্জু। এই বিষয়ে তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। তিনি বলেন আমি তালিকায় যে ৫জনের নাম দিয়েছিলাম তাদের কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা টাকা না দিয়ে বলেছিলেন যখন ত্রাণ পাবেন তখন টাকা দেবেন।
এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান বলেন- আকবর হোসেন নামের একজনসহ দুজন আমার কাছে এসে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়ার কথা বলে তালিকা চান। রেড ক্রিসেন্টের কথা বলায় বিশ্বাস করে তালিকা দেব বলেছিলাম। তালিকা প্রস্তুতও করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ তালিকা নেয়নি। এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল