রোববার বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রোববার বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৭

রোববার বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১২ নভেম্বর (রোববার) ব্যাপক শোডাউনের টার্গেট নিয়েছে বিএনপি।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দেয়ার প্রত্যাশা দলটির। এ লক্ষ্যে বিএনপি সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে উজ্জীবিত হয় বিএনপি।

এরপর সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে খালেদা জিয়ার ঢাকা-কক্সবাজার যাত্রাপথে জনতার ঢল নামার পর বিএনপি আরও উজ্জীবিত হয়।

এখন দলটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি নেতাকর্মী, সমর্থক জমায়েত ঘটাতে চাইছে। এই সমাবেশকে স্মরণকালের বড় সমাবেশ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বুধবার যৌথসভাসহ কয়েক দফা বৈঠক করেছে বিএনপি ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থলও পরিদর্শন করেছেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। এদিকে রোববারের সমাবেশ করতে অনুমতি দেবে সরকার। বুধবার সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা জানা গেছে। আজ তা বিএনপিকে জানানো হবে।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে যৌথসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশটি আমরা অনুষ্ঠিত করতে চাই। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। এখন পর্যন্ত আমরা সমাবেশের অনুমতি পাইনি।

এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে একটি যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও আশপাশের জেলাগুলোর বিএনপির শীর্ষ নেতা ও দলের সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করি এ সমাবেশ অনুষ্ঠানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমরা ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। কারণ কমনওয়েথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের কথা বলে আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়নি।

এদিকে, বিকালে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সমাবেশের অনুমতি দেবে সরকার : বিএনপির ডাকা সমাবেশ বা শোডাউন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করার অনুমতি দেবে সরকার। বুধবার অনুমতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দেয় বিএনপি। আজ বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে এ বিষয়ে বুধবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সমাবেশের অনুমতি তো পুলিশ দেবে, সরকার না। বিএনপিকে অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে, পুলিশ কী বলে, সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

অপর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সরকারি পুলিশ প্রহরায় কক্সবাজার গেছেন, তাতে সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়েছে। সরকারি সার্কিট হাউস ব্যবহার করেছেন, তাতে সরকার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যদি কোনো হাঙ্গামা করেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

প্রসঙ্গত, বিএনপি ৭ নভেম্বর তাদের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবসের কর্মসূচি হিসেবে পরদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলন চলায় তা পিছিয়ে ১১ নভেম্বর ও পরে ১২ নভেম্বর সমাবেশের জন্য নতুন আবেদন করা হয়।