রোহিঙ্গা ইস্যুতে বল এখন মিয়ানমারের কোর্টে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বল এখন মিয়ানমারের কোর্টে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৭

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বল এখন মিয়ানমারের কোর্টে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে বল এখন মিয়ানমারের কোর্টে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বলেছেন, বাংলাদেশ এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, কোনো উস্কানিতে পা দিতে চায় না। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদেরকে সমাধানের পথ খুঁজতে বলা হয়েছে। তারাই এর সমাধান দিতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, চলতি মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরে যাবেন, সেখানেও আলোচনা হবে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও মিয়ানমার যাবেন। কূটনৈতিক উপায়েই বাংলাদেশ এই সংকট থেকে উত্তরণের কথা ভাবছে।

যারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘নতজানু’ বলছেন তাদের সমালোচনা করেছেন মন্ত্রী। কারও উস্কানিতে যুদ্ধের পথে বাংলাদেশ যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ২৮টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে আমাদের সবচেয়ে বড় পর্যটন এলাকা। সেখানে ঘটছে এই ঘটনা। কাজেই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার যোগ দেয়া উচিত।’

যারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘নতজানু’ বলেন তাদের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘টক শোতে যা বলা হচ্ছে এটা কী ধরনের কথাবার্তা! আমরা তো করছি যা করার। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সব গুরুত্বপূর্ণ দেশ আমাদের সঙ্গে। এখানে কমতিটা কোথায়?’

মন্ত্রী বলেন, ‘নতজানু মানে কি ডাইরেক্ট যুদ্ধ করবো? এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ, তার কন্যার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নত দেশের জন্যও আমরা এখন রোলমডেল, আমরা কেন যুদ্ধে জড়াব? যুদ্ধ হলে তো সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। যা কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যায় সেখানে আমরা কেন সংঘাতের পথে যাবো?’

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘কেউ যুদ্ধের কথা বললেই আমরা যুদ্ধ করবো না। আমরা কেন আত্মহত্যা করতে যাবো? কেন আত্মহননের পথ বেছে নেব?’

মন্ত্রী জানান, আগামীকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইএসএস) একটি আলেবিআইএসএসএ আলোচনা হবে। ইচ্ছামতো আলোচনা করতে পারেন। অংশ নিতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমারে সফরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা চূড়ান্ত করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফরে যাবেন। এরপর তিনি নিজেও মিয়ানমারে যাবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সরকার সে দেশে কর্মরত বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূতকে রাখাইন সফরের অনুমতি দিয়েছে। মিয়ানমারে কর্মরত রাষ্ট্রদূতকে রাখাইনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।