রোহিঙ্গা সমস্যায় গ্যালারীতে বসে চেঁচামেচি করা সহজ – এফ এইচ ফারহান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রোহিঙ্গা সমস্যায় গ্যালারীতে বসে চেঁচামেচি করা সহজ – এফ এইচ ফারহান

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭

রোহিঙ্গা সমস্যায় গ্যালারীতে বসে চেঁচামেচি করা সহজ – এফ এইচ ফারহান
এর্দোগান সাহেব বাংলাদেশকে বর্ডার খুলে দিতে বলেছেন, উনি সমস্ত খরচ বহন করবেন। কিন্তু কতদিন বহন করবেন ? রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের বাইরে নানা স্টেপসের কথা বলছে বিভিন্ন রাষ্ট্র, সেগুলো কতখানি কার্যকর? মিয়ানমার সরকার তো এখন পর্যন্ত এটাই স্বীকার করছে না যে, রোহিঙ্গা মুসলিমরা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে এবং করবেও না। কেননা স্বীকার করলে তাদের সরকার তথা মিয়ানমারে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত গণতন্রই হুমকির মুখে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেনাবিদ্রোহ সংঘটিত হতে পারে! স্বীকার না করেই বা যাবে কোথায় ? সূচি তো উভয় সংকটে, ভদ্রমহিলা গণতন্ত্র রক্ষা করবেন নাকি মুসলিমদের ? গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে তার অার্মিকে সাপোর্ট করতে হবে, কিন্তু সেখানে রাজ্য হারানোর ভয় থাকবে! গণতন্ত্র এবং মুসলিম উভয় রক্ষা করতে চাইলে পজিটিভ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তাকে সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করতে হবে। বিন্দুমাত্র ভুল হলে এতেও রাজ্য হারানোর ভয় থাকবে। কেননা, শকুনের দল বাইরে বসে সুযোগের অপেক্ষা করছে। এমতাবস্থায় তুর্কি অার্মি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করার চেষ্টা করলেই তো ইয়েস/নো একটা অপশন চলে অাসবে, এখানে তুর্কি অার্মিই যে সেই সুযোগ নিবে না, তার কি নিশ্চয়তা অাছে?
হ্যা, অামরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জায়গা দিলাম। খরচ বিভিন্ন অান্তর্জাতিক সংস্থা বহন করলো। তারপর এই নিশ্চয়তা কে দিবে যে, রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসন হবে বা সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে অান্তর্জাতিক চাপ বহাল থাকবে?রোহিঙ্গা এথনিক গ্রুপটির ওপর হত্যা, নির্যাতন এবং রেপ চলছে কয়েক দশক ধরে। ফলে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বৈধ ও অবৈধ শরণার্থী হিসেবে আছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ এমনিতেই দরিদ্র ও জনঘনত্বপূর্ণ দেশ। রোহিঙ্গারা এখানে শুধু আছে তা নয়, তাদের একটি অংশ বাংলাদেশের সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ।ব্যক্তিস্বার্থীয় কিছু মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে বিভিন্ন রাষ্ট্রদ্রোহি কাজে। এছাড়াও বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বহিঃদেশে গমন, ইয়াবা ব্যবসা সহ অারো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে এরা নানাভাবে জড়িয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ এক গভীর সমস্যায়। জাতিসংঘ কোনো স্টেপ নিলে অনেক অাগেই নিতে পারতো !!
রোহিঙ্গা মুসলমানরা কয়েক দশক ধরে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের ভূমিকা প্রায় শূন্য।রোহিঙ্গাদের ওখানে যত ভাবে পারা যায় সব পথে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে ।রোহিঙ্গারা আরকান রাজ্যেরই বাসিন্দা। তাই তাদের সমস্যা তাদের সেখানে বাস করতে দিয়েই সমাধান করতে হবে। অাজ যদি শকুনের দল রোহিঙ্গা ইস্যু ধরে মিয়ানমারকে টার্গেট করে, কাল বাংলাদেশকে করবে না তার কি নিশ্চয়তা অাছে? শুধুমাত্র বর্ডার খুলে মানবতা রক্ষা করতে গেলে যেমন ১৬ কোটি প্রাণের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রোহিঙ্গা মুসলিম সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনেরও নিশ্চয়তা নেই। সুচি এক বছরেরও কিছু কম সময়ে মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই মুহুর্তে সুচিকে মিয়ানমারের গণতন্ত্র রক্ষায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে । মিয়নামারের ক্ষমতাকাঠামোতে সেনাবাহিনী এখনও প্রবলভাবে উপস্থিত। তার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সুচি রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সব সমস্যা সম্পর্কে বলেছেন, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য সকলকে একটা কম্প্রোমাইজ করার প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নতুন করে রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু প্রমাণ করে যে, দেশটির সামরিক বাহিনী কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানে যেতে চায় না। রোহিঙ্গাদের ওপর সন্ত্রাসবাদের যে অভিযোগ আরোপ করা হয় তা যে তাদের ওপর দীর্ঘকালের নির্যাতনে ঘনীভূত রূপ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। রোহিঙ্গা সমস্যাটি শুধু মানবিক না ভেবে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেখার সুযোগ রয়েছে।
গ্যালারীতে বসে চেঁচামেচি করা সহজ, মাঠে নামলে অাসল মজা বুঝা যায়। মানবতা রক্ষা এবং মুসলমান হিসেবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো অামাদের গুরুদায়িত্ব, কিন্তু শুধুমাত্র বর্ডার খুলে পজিটিভ রেজাল্ট অাসার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জায়গায় সাময়িক সমাধানে জোর দিলে ভালো জিনিসটাই অাবার খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে।