লক্ষাধিক টাকার ফুটপাত বাণিজ্য – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

লক্ষাধিক টাকার ফুটপাত বাণিজ্য

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

লক্ষাধিক টাকার ফুটপাত বাণিজ্য

রেজওয়ান আহমদ
সিলেট নগরীর ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ব্যবসা জাল। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত হকারদের দখলে রয়েছে। তারা ফুটপাতের উপর ব্যবসা সাজিয়ে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। যার কারণে পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে হাটার জায়গা না পেয়ে রাস্তার উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাটাচলা করছে। এতে করে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। নগরীর রাস্তাগুলো এমনিতেই ছোট তার মধ্যে রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা অন্যদিকে আবার রাস্তার মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি ও লেগুনার স্ট্যান্ড। ফুটপাত ও রাস্তা দখলে থাকার কারণে নগরীতে যানজট প্রকট আকারে রূপ নিয়েছে। সেই সাথে পথচারীদেরও ভোগান্তির শেষ নেই। অনেকসময় ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা চলতে গিয়ে হকারদের সাথে মারামারিও করতে দেখা যায়। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও তার কোনো প্রতিফলন হচ্ছে না। আদালত, মেয়র, প্রশাসনকে হকার উচ্ছেদের আদেশ দিলেও অদৃশ্য শক্তিবলে তা পালন করা হচ্ছে না। মেয়র হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন কিন্তু স্থায়ীভাবে করা হচ্ছে না।
একদিকে অভিযান করে গেলেও অন্যদিকে আবার হকাররা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা নিয়ে বসে পড়ছে। এই ফুটপাত নিয়ে চলছে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার বাণিজ্য। হকারদের কাছ থেকে আদায় হচ্ছে টাকা। প্রতিদিন নগরীর হকারদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে কয়েক হাজার হকার ব্যবসা করে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা, থানা, ফাড়ির পুলিশ, শ্রমিক নেতারাও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে।
নগরীর আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট, জেলরোড, সুবিদবাজার, রিকাবীবাজার, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার এলাকার ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার জন্য প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় তাদের। না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না। চাঁদা না দিয়ে বসলে মালামাল রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। আবার অনেকসময় পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা মালামাল নিয়ে যায়। পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে মালামাল ছাড়িয়ে আনতে হয়।
জানা যায়, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, জেলরোড এলাকায় বসা হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শ্রমিকদল নেতা নুরুল ইসলাম, লোকমান, রুমন, সুমন, মো,আব্দুল আহাদ, রাসেল, ফকির আহমদ, মখলিছুর রহমান, ইসরাত জাহান খোকন সহ ও তাদের দলবল চাঁদা আদায় করছে এবং রাতে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা ও শ্রমিকনেতারা ভাগভাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।
নগরীর মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের জন্য মেয়র, প্রশাসনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। মানববন্ধন, আলোচনা ও প্রতিবাদ সভা এমনকি স্মারকলিপি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী-এমপিদের কাছে। তারপরও হকাররা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।
রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা জানান, ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা না থাকায় আমাদের রাস্তার মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেকসময় দুর্ঘটনার মধ্যেও পড়তে হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের সাথে কথা বলাও যায় না। কিছু বললে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। মাঝেমধ্যে মেয়র-পুলিশ ফুটপাতে অভিযান চালান। কিছু সময়ের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারও হকাররা বসে পড়ে। হকারদের স্থায়ীভাবে ব্যবসা করার জন্য জায়গা না করে মাঝেমধ্যে এভাবে নাটকীয় অভিযান করে কোনো লাভ হবেনা। যারা টাকার বিনিময়ে ফুটপাতে হকারদের বসিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই ফুটপাত দখলমুক্ত হবে।
ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক অনটনের চাহিদা মেটাতে চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরেও কোনো চাকরি মিলছে না। এমনকি মার্কেটে দোকান রেখে ব্যবসা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। যার কারণে সামান্য টাকা নিয়ে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ফুটপাতে বসার জন্য অনেককে চাঁদা দিতে হয়। তার মধ্যে আবার মেয়র-পুলিশ অভিযান চালিয়ে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে না হয় নতুবা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের স্থায়ীভাবে ব্যবসা করার জন্য বসার জায়গা দিলে ফুটপাত থেকে উঠে যেতাম।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি, মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শেখ মো. মকন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি সিলেটের দিনকাল-কে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা হকার উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছে। তারপরও স্থায়ীভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। এর ফলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেয়র বলে আসছেন ফুটপাত থেকে হকারদের লালদিঘী মার্কেটে স্থানান্তর করবেন। কিন্তু এখনো তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।