লজ্জায় গামছা পরতে ইচ্ছা করে : ব্যারিস্টার মইনুল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

লজ্জায় গামছা পরতে ইচ্ছা করে : ব্যারিস্টার মইনুল

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮

লজ্জায় গামছা পরতে ইচ্ছা করে : ব্যারিস্টার মইনুল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেব উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, যারা দেশ শাসন করছে তারা সকলকে বোকা মনে করে। বাংলাদেশে শিক্ষিত লোক আছে, ভাল লোক আছে, তারা এটা মনে করে না।

তিনি বলেন, শিক্ষিত লোকদের অপমান করা হয়, গাধার সাথে তুলনা করা হয়।এ ইজন্য দুঃখ লাগে আমার শিক্ষিত লোক হিসেবে। সুট-টাই পরি ঠিকই কিন্ত লজ্জায় গামছা পরতে ইচ্ছা করে। আমার কোন সন্মান নাই কিন্তু আমি সুট-টাই পড়ে হাঁটছি।

শনিবার (২৪ ফেব্রয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্যা ঢাকা ফোরামের এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয় যারা দেশ শাসন করছে তারা মনে করে না আমাদের-আপনাদের মত লোক প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশে শিক্ষিত লোক আছে ভাল লোক আছে এটা মনে করে না। সকলকে বোকা মনে করা এটা তো একটা লজ্জার কথা। আমাদের মত শিক্ষিত লোকদেরকে গাধার সাথেও তুলনা করা হয়। আমাদের আপনাদের মত সকলকে বর্তমানে অপমান করা হচ্ছে। আমরা শিক্ষিত লোকরা গাধা হব আর অশিক্ষিত, যারা কথা বলতে পারে না তারা হবে আমাদের নেতা। এই প্রশ্ন মারাত্মক প্রশ্ন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, যেখানে জনগণের ভোটের অধিকার থাকে না সেখানে চাটুকারিতা থাকে। দুর্নীতি থাকে। নির্বাচনে চুরি বা দুর্নীতি সব দুর্নীতির জন্মদাতা। আজকে বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়ে গেছে একটা ক্লাস । চাটুকার দুর্নীতিপরায়ণ একটা ক্লাস আর বাকী নাগরিকরা একটা ক্লাস। এই যে একটা অবস্থা।’

তিনি বলেন, সরকার এখন শাসনতন্ত্রের দোহাই দিচ্ছে কিন্তু এই শাসনতন্ত্র যে সংসদ প্রণয়ন করেছে সেই সংসদই নড়বড়ে। সেখানে তারা ইচ্ছামত ঠিক করে নিল আমিই ক্ষমতায় থাকবো, পার্লামেন্টও থাকবো, আপনারা আসেন নির্বাচন করার জন্য। এখানে তো শিক্ষিত লোকদের বোকা মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের ভোটের শক্তি নাই মন্তব্য করে ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, এইজন্য তারা ভোট ফেস করতে সাহস পাচ্ছে না। স্বাধীন নির্বাচন সাহস করতে পারছে না। তাদের সমর্থনে জনগণ নেই। তাহলে কাদের সমর্থনে এই সরকার চলছে এটা একটা প্রশ্ন।

আর স্বাধীনতার পক্ষশক্তি আর বিপক্ষশক্তি অর্থটা কি। এর অর্থ আজকেও আমি বুঝি না। আমি তো মনে করি স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তি তারা যারা গণতন্ত্র বিরোধী। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম তো হয়েছে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে। আমরা যারা গণতন্ত্রের কথা বলি তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।

নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার ক্ষমতা এখন আর কমিশনের হাতে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাও ঠিক, ইলেকশন কমিশন যদি স্বাধীনচেতা লোক হতো সে বলতো এভাবে আমি ইলেকশন করতে পারবো না। আপনি ক্ষমতায় থাকবেন, পালার্মেন্ট ভাঙ্গবেন না, পৃথিবীর কোথায় আছে এটা প্রশ্ন রাখেন ব্যারিস্টার মইনুল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।