লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে প্রচীন কামার শিল্পের কোরবানির সরঞ্জাম তৈরী কাজ চলছে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে প্রচীন কামার শিল্পের কোরবানির সরঞ্জাম তৈরী কাজ চলছে

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

লাখাইয়ে ঈদকে সামনে রেখে প্রচীন কামার শিল্পের কোরবানির সরঞ্জাম তৈরী কাজ চলছে
লাখাই প্রতিনিধি
প্রচীন শিল্প কর্মকার বা কামার শিল্পের চাহিদা বেশি থাকে পবিত্র ঈদুল আযহা আসলে এই। আর মাত্র একদিন পরেই কোরবানি ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কোরবানি করা। ঈদ-উল আযহা সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লাখাই  উপজেলার লাখাই বাজারে মুড়াকুরি বাজারে বুল্লা বাজারে,   কামার শিল্পের সব কারিগর। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ।
তবে দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা বেশি এবং ঈদের এখন এক দুই   দিন বাকি থাকায় জমে উঠেনি বটি দা, কাচি, কোপা দা, ছুরি চাপাতির বেচাকেনা। ফলে এই মুহুর্তে অলস সময় পার করছে কামার শিল্পী  ব্যবসায়ীরা।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম হচ্ছে ঈদুল আযহা। আর এই ঈদে মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা আল্লাহকে রাজি খুশি করতে পশু জবাই করে থাকে। এই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। মাংস কাটা এবং কোরবানির পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব ব্যবহার করা হয়। ঈদের বাকি আরও একসপ্তাহ। তাই পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে কামারের দোকান অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছে।
দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারের দোকান। প্রস্তুত করছেন জবাই সামগ্রী। ঈদে শত শত গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ ইত্যাদি পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। এসব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুত পর্যন্ত দা-বঁটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার আবশ্যকীয় হয়ে যায়। ঈদের আগেই পশু জবাই করার ছুরি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, চাপাতি, প্লাস্টিক ম্যাট, চাটাই, গাছের গুঁড়িসহ সবকিছু প্রস্তুতি রাখতে হয়।
দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৫ শত টাকা থেকে ৬ শত টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কামার শিল্পী গোপেশ কর্মকার জানান, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি আমরা। কোরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। এবছর  লোহার তৈরি নতুন কোন কাজ নেই। পুরাতন কাজ বেশী , নতুন কোন কাজ না থাকলে আমাদের রোজগার কেমন হয় না।
তিনি জানান, ‘ঈদের ৬/৭দিন আগে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়।  তবে এবছর অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা ভালো না । ঈদের বেচাকেনা  ১/২ আরও চলবে ।  সারা বছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টা বারবারই ব্যস্ত থাকতে হয় আমাদের।’
কামার ব্যাবসায়ী অনজন দেব জানায়, ‘এ পেশায় অধিক শ্রম, জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে আমরা এখনও আঁকড়ে ধরে আছি। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কুরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই আমরা ব্যাস্ত সময় পাড় করছি। এই ঈদ  ছাড়াও সারা বছর কাস্তে, কুড়ালও তৈরি করে সময় কাটে আমাদের।’
  শিক্ষক রহিছ মিয়া একজন ক্রেতা জানান, কোরবানির ঈদের দুই দিন  বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলতেছি আমরা। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকুর দাম একটু বেশী ।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল