লাখাইয়ে উপবৃত্তির টাকা তুলতে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে অভিবাবকরা

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

লাখাইয়ে উপবৃত্তির টাকা তুলতে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে অভিবাবকরা

আশীষ দাশ গুপ্ত, লাখাই 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের জন্য রূপালী ব্যাংক শিওর ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপবৃত্তির টাকা তুলতে গিয়ে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। করোনা ভাইরাস মহামারিতে ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই    উপজেলাতেও অপ্রতুল এজেন্ট, এজেন্টদের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা এবং টাকা তোলার সময় এজেন্টরা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত চুক্তিটি হয় ২০১৬ সালের জুনে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের এই প্রকল্পটির নাম ‘মায়ের হাসি’। এরই অংশ হিসেবে ‘শেখ হাসিনার দীক্ষা মানসম্মত শিক্ষা’ ও ‘রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশে উপবৃত্তি সারাদেশে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ  রূপালী ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং ‘শিওরক্যাশ’ এর মাধ্যমে লাখাই  উপজেলার ছয়টি  ইউনিয়নের    ৭২টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উপবৃত্তি প্রদান করেছে সরকার।

দ্রুত অভিভাবকদের কাছে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছানোর এ প্রচেষ্টাটি ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হলেও এ উপজেলায় শিওর ক্যাশ এজেন্টেদের অনেকের ‘অতিলোভী’ মনোভাবের কারণে তৃণমূলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

লাখাই বাজারে সাধারন সম্পাদক  আজিজুল রহমান সহ  কয়েকজন অভিভাবকরা জানান, শিওর ক্যাশের এজেন্টের কাছ থেকে টাকা তুলতে গেলে তারা জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা হারে টাকা কেটে রাখছে। অথচ শিওরক্যাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এজেন্টদের উপবৃত্তির টাকা প্রদানের উপর প্রাপ্ত কমিশন ইতিমধ্যেই প্রদান করেছে।

গত শুক্রবার ৬জুন   সরেজমিনে উপজেলার লাখাই  বাজার, সহ বিভিন্ন স্থানের হাট-বাজারের এজেন্টের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করলে কয়েকটি স্থানের এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে এর সত্যতা মিলেছে। ওই সময়ে এ প্রতিনিধি  অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা জানতে চাইলে একজন এজেন্ট বলেন, অভিভাবকরা খুশি করে ১০/২০ টাকা দিচ্ছে, তাই নিচ্ছেন। এই টাকা তুলতে আমাদের কয়েক মাস সময় লাগে তাই আমাদের দিতে হয় বলে একজন এজেন্ট বলে।      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  একজন এজেন্ট বলে  অভিভাবকদের একাউন্ট  নান্বার  অনেক এজেন্ট জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিভাবকরা একাউন্ট নাম্বার  জানেনা আমার নিকট আসলে অফিসে  মোবাইল করে নতুন একাউন্ট নাম্বার খোলা হলে ফোনে এই ২০/ ২৫ টাকা খরচ হয়ে যায়।     একাউন্ট নাম্বার নামিলায় কারনে রুপালী  ব্যাংকে  ফোন করলে ৬ থেকে ১২ মিনিট সময় লাগে মোবাইলে খরচ হচ্ছে টাকা।

উপজেলার একাধিক এজেন্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে উপকারভোগীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। তাদের অনেক টাকা ইতিমধ্যে মোবাইলে রয়েছে। শিওর ক্যাশ কোম্পানি এ টাকা নিয়ে তাদের সময়মতো ক্যাশ টাকা দিচ্ছে না।

এ নিয়ে এ প্রতিনিধি সাথে আলাপ কালে তিনি   লাখাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার মজনুর রহমান  বলেন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করুক,, উপবৃত্তির টাকা তুলতে কোন টাকা লাগে না।    এব্যাপারে আমাকে কেহ বলেনি।  আমি  উপজেলার     বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তারা জানান, শিওরক্যাশের এই সকল সমস্যা দূর না হলে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের মূল উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হবে।  মুড়াকুরি ফরহাদাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রানেশ গোসাঁমী বলেন এ পর্যন্ত কোন অভিভাবক  আমার নিকট কোন অভিযোগ করেনি।

জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের এ বিষয়ে তদারকি করার অনুরোধ করছেন অভিভাবক গন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল