লাখাইয়ে চলছে নৌকা তৈরির ধুম

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

লাখাইয়ে চলছে নৌকা তৈরির ধুম
আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই থেকে
বর্ষার আগমণকে ঘিরে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে পানি। নদ-নদী ভরে উঠছে এবং তা ছাপিয়ে পড়ছে বিলগুলোতে। গ্রামের চারপাশে বর্ষার থইথই পানির আগাম পূর্বাভাসের সাথে সাথে গ্রামগুলোতে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বর্ষায় কোথাও যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। তাইতো বর্ষাকাল আষাঢ়  মাসের  শুরুর আগে জৈষ্ঠ্যমাস শেষ দিঘ থেকে শুরু হয়ে গেছে বর্ষাকালের আয়োজন। এলাকায় কারিগরদের মহাব্যস্ততা, বিভিন্ন    পাড়া মহল্লায় তৈরী হচ্ছে   নানা রকম নৌকা। পানি আরেকটু বেশি হলে আরো কদর বাড়বে এসব নৌকার। তাই বসে নেই নৌকা তৈরীর কারিগররা। চলছে নৌকা তৈরী ও মেরামতের ধুম।
গ্রাম এলাকায় মৌসুমি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মাঝি ও কারিগররা। বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে আশ-পাশের গ্রামে গৃহস্থলি কাজে এবং খেয়া পারাপারে ও গো-খাদ্যের জন্য কোষা ও ডিঙি নৌকার কদর বেড়ে যায় কয়েকগুন এই করোনাকালেও গড়ে উঠেছে ডিঙি ও কোষা নৌকা তৈরী ও বিক্রির অস্থায়ী বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন। লাখাই  উপজেলার ক্রেতা বিক্রিতারা বি বাড়ির জেলার নাসিরনগর   বুড়িশ্বর  নৌকার বাজার  থেকে নৌকা আনছেন।
 ধলেশ্বরী, সুতাং, কলকলিয়া, বলবদ্র  নদী ঘেরা লাখাই  উপজেলার প্রায় অর্ধেক অংশ বর্ষা শুরু হওয়ার সাঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই এ এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে থাকে। উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার মাধ্যমে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাস এর কারনে স্কুল বন্ধ  থাকায় নৌকার ছাত্র ছাত্রী দের  চাপ কম।  বর্ষার শুরুতেই এলাকার মৌসুমি জেলেরা নৌকা দিয়ে রাত-দিন মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ও স্কুল, কলেজ, হাট বাজারে পারাপার হয়ে থাকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার লাখাই বাজার, শিবপুর  বাজার, কৃষ্ণপুর  বাজার, মাদনা বাজার, ভবানিপুর  বাজার, , বুল্লা বাজারে   মাছ ধরার ও চলাচলের উপযোগী নৌকা অথবা ট্রলার তৈরির ধুম পড়েছে। কেউ তার পুরানো নৌকা অথবা কাঠের ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। কেউ নতুন নৌকা তৈরী অথবা আবার কেউ কেউ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকা রং ও আলকাতরা দিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করছেন। এভাবেই মহাব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
জানা গেছে, এ বছর লাখাই উপজেলার   কয়েক হাজার নতুন নৌকা নির্মিত হচ্ছে। উপজেলার লাখাই১নং বুল্লা ইউনিয়ন বামৈ ইউনিয়নের নয়াগাঁও মুড়ামুড়ি কিছু অংশ   বেশকিছু নৌকার ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এসব গ্রামে প্রায় বাড়িতেই বর্ষাকালে যাতায়াতের অন্যতম বাহন হিসেবে রয়েছে একটি করে নৌকা। এক সময় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাল তোলা নৌকা চলতো। বিভিন্ন হাট-বাজারে মালামাল আনা নেওয়ার জন্য গয়না, ডিঙ্গি ইত্যাদি নৌকার ব্যবহার হতো।
তবে সম্প্রতি সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার  উন্নয়নের কারণে দিনদিন নৌকার ব্যবহার কমে যাওয়ায় এ পেশার সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জন্য টিকে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে নৌকা তৈরি করে আসছেন উপজেলার লাখাই  ইউনিয়নের স্বজনগ্রামের গ্রামের পূর্ন সূত্রধর । ৫৩ বছরের এ কারিগর জানান, হঠাৎ করেই বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় নৌকার কাজ বেড়ে গেছে।   তবে প্রতি বছর জৈষ্ঠ্যমাস থেকে নৌকা তৈরির ধুম থাকে।    বর্তমানে চাম্বল ও করোই কাঠ দিয়েই নৌকা তৈরি করে থাকেন। যেগুলোর দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৮ হাত থেকে ১২ হাত পর্যন্ত। তবে কারো প্রয়োজনে তার চেয়েও কয়েকগুণ বড় নৌকা চুক্তিতে তৈরি করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল