লাল-সবুজে সজ্জিত ক্যানারি ওয়ার্ফ এবং বিলেতের হলুদ সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

লাল-সবুজে সজ্জিত ক্যানারি ওয়ার্ফ এবং বিলেতের হলুদ সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয়

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১

লাল-সবুজে সজ্জিত ক্যানারি ওয়ার্ফ এবং বিলেতের হলুদ সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয়

-সুজাত মনসুর
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লন্ডন আই, ক্যানারি ওয়ার্ফে আলোকসজ্জা ও পুর্ব লন্ডনের শহীদ আলতাফ আলী পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোসহ দেশের বেশকিছু পত্রিকায় সংবাদ এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘পত্রিকা’য় ব্যানার হেডিং করা হয়েছে। প্রথম আলো ও পত্রিকার নিউজ মোটামুটি একই ধাঁচের। ব্রিটেনের বুকে মহাসমারোহে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন মুখ্য বিষয় না হয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের দু’টি ভুলকেই মুখ্য করা হয়েছে, যদিও হাইকমিশন থেকে সে ভুলগুলো পরে সংশোধন করে নতুন করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বিভিন্ন ইলেক্ট্রোনিং ও প্রিন্ট মিডিয়াতে। ভুল দু’টি মূলতঃ ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন যে ক্যানারি ওয়ার্ফের উচ্চতম বিল্ডিং(যা বৃটেনের দ্বিতীয় উচ্চতম বিল্ডিং)-কে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লাল-সবুজে অর্থাৎ বাংলাদেশের পতাকার রং-এ সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা ভুলে যাওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া এবং ২৬শে মার্চ আলতাফ আলী পার্কে মাননীয় হাইকমিশনার কর্তৃক আহবাব হোসেনের নিকট যে পতাকা হস্তান্তর করেন তা উল্লেখ না করে, হাইকমিশনের ফেইসবুত পেইজে উল্লেখ করা হয়েছিল পতাকাটি মেয়র জন বিগস-এর হাতে হস্তান্তর। তাও পরে সংশোধন করে পরে সঠিকভাবে লেখা হয়েছে। অর্থাৎ হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম যে, স্পিকারের হাতে পতাকা তুলে দেন তা উল্লেখ করা হয়েছ এবং এখনো তা বহাল আছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, হাইকমিশনার নিজে নিশ্চয়ই ফেইসবুকে পোস্ট আপলোড করেন না। সুতরাং এ ভুলের দায় সরাসরি উনার ওপর বর্তায় না। যখনই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছে এবং আমরা প্রতিবাদ করেছি তখনই সংশোধন করা হয়েছে। বিবৃতি দিয়ে বিবৃতি প্রত্যাহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল করে তা সংশোধনের নজির শত শত আছে। যখন স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যন্ত বদলে দিতে চায়, তখন কথা বলেন না বরং পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে তা সমর্থন করেন। দেশের সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য্য ষড়যন্ত্রমূলক মির্থাচারে ভরপুর প্রতিবেদনের পক্ষে সাফাই গাইবেন কিংবা ভযেসদাতাদের সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেবেন তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না, ভুল সংশোধিত হওয়ার পর সেই ভুলকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দেশের প্রতিনিধিত্বকারী হাইকমিশনারকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মানসিকতা সাংবাদিকতার মানদন্ডে হলুদ সাংবাদিকতা বলেই চিহ্নিত হয়। তাদের প্রতিবেদন দেখে মনে হয় এতদিন শকুনের মত অপেক্ষমান ছিল একটা সুযোগের জন্য যাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভ‚ত জিঘাংসা চরিতার্থ করা যায়। জিঘাংসাটা হল, বিলেতর আওয়ামী বিরোধী শক্তি চায়, (এই শক্তির একটা বিরাট অংশ হল সাংবাদিক সমাজের) বিলেতে এমন একজন হাইকমিশনার, যিনি এবং যার টিম দক্ষ হবেন না, কমিউনিটি বান্ধব হবে না, বৃটিশ সরকার ও বিরোধীদলের সাথে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে ননা। তাহলেই তাদের জন্য সোনায় সোহাগা। কিন্তু বর্তমান হাইকমিশনার ও তাঁর টিমের অধিকাংশই অত্যন্ত দক্ষ, কমিউনিটি বান্ধব, কর্মঠ। তাঁদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের কারনেই বাঙালি কমিউনিটিতে যেমন প্রশংসনীয় তেমনি বৃটিশ সরকার ও রাজ পরিবারের সাথেও বাংলাদেশ সরকারের একটা মধুর সেতুবন্ধন করতে পেরেছেন। যার ফলে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্স চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বানী দিয়েছেন। জিঘাংসার আরেকটি অন্যতম কারণ হল অত্যন্ত সফলতার সাথে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন। কেননা, বিএনপি-জামাত ঘরানার কেউ তা মেনে নিতে পারেনি। বরং তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এইসব সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয় হল বিএনপি-জামাত। প্রথম আলোর মালিক-সম্পাদক এবং পত্রিকাটির ভ‚মিকা যে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকার বিরোধী তা সবাই জানে। তেমনি লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘পত্রিকা’র যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি যেমন বিএনপি-জামাত ঘরানার লোক, তেমনি বর্তমান সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদকও বিএনপি-জামাত ঘরানার লোক। একইভাবে বিলেতের সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ অধিকাংশ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়াই শুধু আওয়ামী লীগ বিরোধীই নয়, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বিরোধী। এমনকি লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবটিও বিএনপি-জামাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দুষ্টলোকেরা লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবকে রসিকতা করে ‘রাজাকার ক্লাব’ বলে আখ্যায়িত করে। সুতরাং এরা যেকোন অজুহাতে বর্তমান হ্ইাকমিশনার ও তাঁর টিমকে বিতর্কিত করবে সেটাই স্বাভাবিক। যদিও ‘নাই মামার চেয়ে কানামামা’ বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক সাংবাদিক এই ক্লাবের সদস্য। তবে আমি গর্ব করেই বলে, এই রাজাকার ক্লাবের সদস্যকোনদিন ছিলাম না, হইনি এবং হবোও না।
এবার আলোকপাত করা যাক লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রেরিত ও কথিত বিতর্কিত বিবৃতি প্রসঙ্গে, যদিও আমি বিতর্কিত মনে করি না। আমার মতে প্রথমটি ভুল করে প্রেরিত এবং দ্বিতীয়টি সঠিক, যেহেতু টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কোন ধরনের অফিসিয়াল আপত্তি বা সংশোধনী কিংবা প্রতিবাদ করা হয়নি। সাংবাদিকতায় ব্যবহৃত কতিপয় ‘ফাজিল শব্দে’র অন্যতম হলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। এই শব্দটি ব্যবহার করে যে কাউন্সিলারদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা আসলে মেরুদন্ডহীন। তা না হলে নাম প্রকাশ করে নিজের মতামত তুলে ধরতে অসুবিধা কোন জায়গায়? কিসের এত ভয়? নাম প্রকাশ করলে বাংলাদেশ হাইকমিশন কি তাদের খেয়ে ফেলবে, নাকি হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবেন? আমার তো মনে হয় কোন কাউন্সিলারই কোন প্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। সবই পত্রিকা কর্তপক্ষের নিজস্ব মতামত, কাউন্সিলরদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একক কৃতিত্বের অজুহাত তুলে যে কারনে মাননীয় হাইকমিশনারকে বিতর্কিত ও কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে অযৌক্তিকভাবে, তেমনি যৌক্তিকভাবেই আমি পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে দোষি সাব্যস্ত করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারি। তারা দাবি করেছেন, তারা যখন কথিত কৃতিত্বের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন তখনই নাকি প্রেসবিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করা হয়েছে। এই বক্তব্যে, সত্যতার লেশমাত্র নেই। বরং নিজেরা একক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যখন বিজ্ঞপ্তিটি আমার হাতে এসেছে তখনই আমি নিজে ফোন করে প্রেস মিনিস্টার জনাব আশিকুন নবী চৌধুরীর সাথে কথা বলেছি। শুধু তাই নয়, আনঅফিসিয়ালি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিবাদও করেছেন। আমি কথা বলার কারণ হল, মুজিববর্ষের প্রস্তুতিপর্বের প্রথমদিকের তিনটি সভায় হাইকমিশনে যে ক’জন উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে আমি একজন। পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন সবকিছুর সাথেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। শুধু আমি নই, আমার মেয়ে সেজুঁতিও যুক্ত ছিল। সুতরাং আমি হলফ করে বলতে পারি প্রথম থেকেই টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে জড়িত করার সক্রিয় চিন্তাভাবনা ও চেষ্টা ছিল মাননীয় হাইকমিশনরের। যতটুকু মনে সে ব্যাপারে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাননীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জনাব জুলকারনাইনকে। হলফ করে বলতে পারি সাধ্যানুযায়ী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ব্যাপক ও আড়ম্বর করে উদযাপনের প্রচেষ্টা শুরু থেকেই মাননীয় হাইকমিশনার ও তাঁর টিমের ছিল। করোনার কারনে ফিজিক্যালি তা করা সম্ভব না হলেও ভার্চুয়ালী তা করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। সকলকে নিয়ে সফলভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, মেনে নিতে পারেনি বলেই দেশে যেমন তেমনি বিলেতেও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা মারাত্মকভাবে নাখোশ হয়েছে।
এবার আসা যাক বিবৃতির বিষয় সম্পর্কে। কি উল্লেখ আছে তাতে, যদিও পত্রিকা দু’টি তাদের সুবিধামত অংশ উল্লেখ করেছে। সাপ্তাহিক পত্রিকা লিখেছে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের আইকনিক ‘লন্ডন আই’সহ টাওয়ার হ্যামলেটসের কয়েকটি ভবনে আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন আয়োজনের একক কৃতিত্ব দাবি করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।’ এখানে মিথ্যাচার করেছে পত্রিকাটি। হাইকমিশনের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে কোথাও উল্লেখ নেই যে, বাংলাদেশ হ্ইাকমিশনের উদ্যোগ্যে ‘লন্ডন আই’-তে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বরং বলা হয়েছে, একইদিনে অর্থাৎ ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘লন্ডন আই’ আলোকিত হয়েছিল। সুতরাং পত্রিকার বক্তবটি সঠিক নয়। অন্যদিকে, ক্যানারি ওয়ার্ফকে লাল-সবুজের পতাকায় সজ্জিত করার পেছনে হাইকমিশনের যে উদ্যোগ ছিল তার প্রমান হল, ব্যানারে যতগুলো প্রতিষ্ঠানের লগো স্থান পেয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লগো অন্যতম। এই ব্যানারে কোথাও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লগো খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং অফিসিয়ালি আমরা বলতে পারি না ক্যানারি ওয়ার্ফের সুউচ্চ ভবনটি লাল-সবুজে সজ্জিত করার পেছনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল যুক্ত। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, টাওয়ার হ্যামলেটস-এর স্পিকার কাউন্সিলার আহবাব হোসেন-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই মহান যজ্ঞটি সম্পন্ন হয়েছে, যা হাইকমিশনের প্রথম প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ভুল করে উল্লেখ ছিল না, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়। আমি যতটুকু জানি কাউন্সিলার আহবাব হোসেন প্রথমে উদ্যোগি হয়ে হাইকমিশননসহ অন্যান্য পার্টনারদের যুক্ত করেন এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই লন্ডনস্থ হাইকমিশনের ভ‚মিকা ছিল। অন্যদিকে, যেহেতু ব্যানারে লগো নেই, তাই আমরা বলতে পারি না ক্যানারি ওয়ার্ফ লাল সবুজে সজ্জিত হওয়ার অনুষ্ঠানটি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মেয়র জন বিগস্্-এর নয়মাসব্যাপি অনুষ্ঠানের অংশ নয়। অন্যান্য অনুষ্ঠানের ব্যাপারে হাইকমিশন থেকে যে, প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে তার সত্যতা প্রমাণ করে এই কারনে যে, টাওয়ার হ্যামলেটস-এর মেয়রের অফিস থেকে তার প্রতিবাদ করে কোন বিবৃতি বা চিঠি ইস্যু না করা। শুধুমাত্র নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত মতামত ও উস্মাকে কেন্দ্র করে একেবারে ব্যানার নিউজ করা সাংবাদিকতার নীতি ও নৈতিকতার মানদন্ডে অসততা ও হলুদ সাংবাদিকতা। এর পেছনের মূল কারণ হল তিনটি,
এক) বিএনপি-জামাত ও হেফাজত যেমন, সুবর্ণজয়ন্তী এত ঝাঁকঝমক এবং বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানে উপস্থিতিতে উদযাপিত হউক তা মেনে নিতে পারেনি, প্রবাসে বিশেষ করে বিলেতেও তাদের বংশধরেরা তা মেনে নিতে পারেনি।
দুই) পুরো প্রতিবেদনটিতে টাওয়ার হ্যামলেটস-এর মেয়র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কাউন্সিলারকে খুশি করার প্রবণতা লক্ষণীয়, কারণ বিলেতের বাংলা পত্রিকাগুলোর আর্থিক যোগান শতভাগ না হলেও, পঞ্চাশ ভাগ নির্ভর করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বিজ্ঞাপনের ওপর।
৩) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ বিলেত সফরের সময় যে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে কতিপয় সাংবাদিককে, (যাদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয় জামাত-বিএনপি) নিরাপত্তার খাতিরে ঢুকতে না দেওয়া কিংবা হল থেকে বের করে দেওয়ার(যা হাইকমিশন করেনি, করেছিল এসএসএফ) সেই জ্বালা ও স্মরণকালের সবচেয়ে বিচক্ষন, কর্মঠ, চৌকুস হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমের নেতৃতে,¡ হাইকমিশনের পুরো টিম যে তাঁদের কর্মের মাধ্যমে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও কমিউনিটি বান্ধব বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন তা বাঁধাগ্রস্থ করা।
শুরুতেই উল্লেখ করেছি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যৌথভাবে উদযাপনের জন্য ২০২০ সালের শুরু থেকেই একটা সক্রিয় প্রচেষ্টা ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে যুক্ত করার। সেই প্রচেষ্টারই ফসল হল টাওয়ার হ্যামলেটস-এর মেয়র কর্তৃক নয়মাসব্যাপি অনুষ্ঠান আযোজনের পরিকল্পনা। সুতরাং হাইকমিশন কর্তৃক তাঁদের উদ্যোগের ফসল বলে দাবি করা কি অন্যায়, নাকি মিথ্যচার? বরং অন্যায় ও মিথ্যাচার হল, টাওয়ার হ্যামলেটস কর্তৃক অফিসিয়াল বিবৃতি বা চিঠি না থাকাসত্তে¡ও শুধুমাত্র নিজেদের জিঘাংসা মেটানোর জন্য এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশ, যা চরম হলুদ সাংবাদিকতা। আর এই হলুদ সাংবাদিকতা তাদের পক্ষেই সম্ভব যাদের রাজনৈতিক বংশ পরিচয় বিএনপি-জামাত-হেফাজত। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবিতে সুবর্ণজয়ন্তীতে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি ইচ্ছেকৃতভাবে হালকা করে উপস্থাপনও দেশ, জাতি, মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের প্রাণের প্রিয় লাল-সবুজের পতাকার অবমাননা ও তাদের হীনমন্যতার পরিচয়। বিখ্যাত চলচ্ছিত্র পরিচালক প্রয়াত খান আতাউর রহমানের ভাষায় বলতে চাই, “আবার তোরা মানুষ হো’।