লুটপাটের মামলায় খালাস পেলেন হারিছ চৌধুরী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

লুটপাটের মামলায় খালাস পেলেন হারিছ চৌধুরী

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৬

লুটপাটের মামলায় খালাস পেলেন হারিছ চৌধুরী

haris ulll picসাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সিলেটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে লুটপাটের অভিযোগে করা মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একজনকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ আবু ওবাইদা এ রায় দেন।

দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ সোলাইমান। তাঁকে ১০ মাসের কারাদণ্ড ছাড়াও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

খালাস পেয়েছেন হারিছ চৌধুরীসহ তাঁর চাচাতো ভাই কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিএনপি কর্মী আহমদ মোস্তফা, আলতাফ উদ্দিন ও মামুনুর রশিদ।

আদালতে মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে কানাইঘাটের লোভাছড়ার কামদানা এলাকায় ব্যবসায়ী আজির উদ্দিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুই দফা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট প্রথম দফা হামলায় দেড় লাখ টাকা ও ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফা হামলা করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাবে এ হামলা হওয়ায় ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আজির উদ্দিন ১৩ এপ্রিল এ ঘটনায় মামলা করেন।

ওই বছরের ৫ আগস্ট কানাইঘাট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল চক্রবর্তী মামলার তদন্ত করে হারিছ চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) খোকন কুমার দত্ত সাংবাদিকদের জানান, মামলার মোট ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতে এ রায় দেন।

হারিছ চৌধুরীর বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর গ্রামে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল থেকে তিনি পলাতক। রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আশিক চৌধুরী আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আদালতে ছিলাম না, শুনেছি। এ মামলাটি আসলে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই বাদীকে প্ররোচিত করে দায়ের করা হয়েছিল। রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

তবে মামলার বাদী আজির উদ্দিনের দাবি, তিনি প্ররোচিত হয়ে নন, ক্ষমতার দাপটে সংঘটিত একটি ঘটনার বিচারপ্রার্থী হয়েছিলেন। অভিযুক্ত একজনের সাজা আর বাকিরা খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি রায়ের কপি উত্তোলন করে এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল