শহীদ জিয়া বাঁচিয়ে তুলেছেন আলীগকেও! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শহীদ জিয়া বাঁচিয়ে তুলেছেন আলীগকেও!

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

শহীদ জিয়া বাঁচিয়ে তুলেছেন আলীগকেও!

ডা. মাজহারুল আলম: শহীদ জিয়ার ‘ছেঁড়াগেঞ্জি ও ভাঙা সুটকেস’ নিয়ে অনেকে নাক সিঁটকান, কেউ ঠাট্টামস্করা করেন – ভাবখানা এই যে তাঁরা সোনার চামচ মুখে জন্ম অধিকারের আজন্ম সনদ নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছেন। কিন্তু তাদের অপপ্রয়াসেরর্ ফানুস টেঁসে গেছে। জিয়াকে হেয় করতে গিয়ে, তাদের মুখে ছেঁড়াগেঞ্জি ভাঙা সুটকেস যতোবার তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে উচ্চারিত হয়েছে, ততবারই এই ভূখণ্ডের কোটি জনতার মন ক্ষণজন্মা জাতীয় বীরের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে আর তাদের দিয়েছে ধিক্কার।। কারণ, শুকনো খোরমা মু‌খে দিয়ে জঠরজ্বালা নিবারণ করেছেন মুহম্মদ(সঃ) এর মর্যাদা খাটো হয়নি কিংবা খেজুর পাতার চাটাইয়ে ঘুমিয়েছেন বলে কোন লেখক হযরত ওমর (রাঃ)কে নিয়ে বিদ্রুপ করেননি।প্রেসিডেন্ট জিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েক‌তোটুকু প্রশংসিত হয়েছিলেন, তা লিখলে এসব হীন্যমন্য অন্ধ আঁখি খুলবে না — তাই সে প্রসংগ থাক।

শেখ মুজিবের স্থান স্বাধীনতার ইতিহাসে মজবুত করতে তাদেরই বেশি প্রয়োজন। জিয়াই মুজিবকে ইতিহাসে বাঁচিয়ে দিয়েছেন—।

‘৭১এর ২৬মার্চে কালুরঘাট বেতারে মেজর জিয়া বজ্রকণ্ঠ ঘোষণায় বলেন ” আমি মেজর জিয়াউর রহমান শেখ মজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি…।” –যার ব্যাকরনে সামান্যতম জ্ঞান আছে, তিনি স্বীকার করবেন এই “ঘোষণা করছি” ক্রিয়াপদ কর্তা মেজর জিয়া। একেবারে প্রযোজক কর্তা, প্রযোজ্য কর্তা নন। জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। বাংলাদেশের কোটি জনতাসহ বিশ্ববাসী শুনেছেন এবং শ্বাস্বত ইতিহাস তা-ই ধারন করেছে। শেখ মুজিব যা পারেন নি,জিয়া তা করেছেন।পূর্বাপর ঘটনা যা-ই হোক না কেন,সেদিনের কর্তা হলেন- মহানায়ক “জিয়া”। কর্ম হলো -“স্বাধীনতা”। আর ক্রিয়া- “ঘোষণা করছি”।–তাহলে শেখ মুজিব এই পদরাজিতে কোথায় আছেন?

বিষয়টা হলো, সে দিন জিয়াউর রহমান দ্বিধাগ্রস্ত দেশবাসীর অনুপ্রেরণা ও জাতির ঐক্যের স্বার্থে দৃশ্যপটে অনুপস্থিত তখনও ‘পাকিস্তানী’ নেতার নামটি ব্যবহার করেছিলেন। জাতিকে সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য সেটা ছিল ‘বাস্তবতা’।

মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়–তারও ২৩দিন পরে।এই তেইশটি দিন শেখ মুজিবকে ইতিহাসে ধরে রাখলো মেজর জিয়ার ঘোষণা। এই ঐতিহাসিক সময় ও ‌সত্যের‌ অপরিহার্য অনিবার্যতায় জিয়ার উপস্থিতি।

কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণায় যদি সেদিন অনুপস্থিত নেতা মুজিবের নামটি মেজর জিয়ার মুখে উচ্চারিত না হতো, তাহলে ইতিহাসের মহাসন্ধিক্ষণ থেকে ‘মুজিব’ নামটি উধাও হয়ে যেতো। আজকের এই বিলম্বিত আবেগের সেদিনের বিড়ম্বিত ভক্তরা কোথায় ছিলেন যেদিন তাদের মহানায়ক তাদের চাটুকারিতার ‘মহামূল্য’ পরিশোধ করেছিলেন?

শেখ মুজিবকে ইতিহাস চিহ্নিত করেছে বাকশালী স্বেচ্ছাচার হিসেবে। শেখ মুজিবের ভাবমূর্তি চরম কলুষিত ও ইতিহাসে মুছে যাবার উপক্রম, তখনই শহীদ জিয়া ঐতিহাসিক ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সেই সুবাদে শেখ মুজিব কর্তৃক বিলুপ্ত তঁার নিজদল আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হয়। শহীদ জিয়ার কারনেই আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগাররাও বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়। সেদিন যদি তারা পুনর্বাসিত হবার সুযোগ না পেতো, তাহলে এ দেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবও পুনর্বাসিত হতেন না।

যিনি শেখ মুজিবকে ইতিহাসে বাঁচিয়ে দিয়েছেন– তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন ছেঁড়া গেঞ্জি, ভাঙা সুটকেসওয়ালা অসম সাহসী বীর, মুক্তিযুদ্ধের দীপ্রমান সিপাহসালার, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।