শাফির সিলেটের বাড়িতে নজরদারি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শাফির সিলেটের বাড়িতে নজরদারি

প্রকাশিত: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৬

শাফির সিলেটের বাড়িতে নজরদারি

shofi sylhetrগুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলার পর সিরিয়া থেকে আইএস পরিচয়ে এক ভিডিওবার্তায় ঢাকায় আরো হামলার হুমকি দিয়েছিলো তিন তরুণ। এই হুমকিদাতাদের একজন তাহমিদ রহমান শাফির বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগরে। পুলিশ জঙ্গি শাফির ওসমানীনগরের বাড়িতে নজরদারি শুরু করেছে। গত কয়েদিন থেকে নজরদারি হয় হয় বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ওসি আবদুল আউয়াল চৌধুরী।
তিনি জানান, আইএসর নামে কথিত হুমকিদাতা শাফির পৈতৃক বাড়িতে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি শাফির সাথে কারো যোগাযোগ কিংবা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হুমকিদাতা তাহমিদ রহমান শাফি জন্ম সূত্রে সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের সফিউর রহমানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাথে তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
স্থানীয়রা জানান, শাফির বাবা সফিউর রহমান ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন তিনি।
শাফি বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সঙ্গীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ানের প্রথম সিজনে (২০০৬ সাল) প্রথম ২০ জনের মধ্যে ছিলেন তিনি। গ্রামীণ ফোনেও চাকরী করতেন শাফি। সরেজমিনে দয়ামীর ইউনিয়নে পারকুল গ্রামের শাফির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড বসত ঘরটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
বাড়ির কেয়ারটেকার পরিচয়দানকারী জাহেদ মিয়া বলেন, গত ছয় মাস ধরে আমি সফিউর রহমানের দূর সর্ম্পকের ভাতিজার মাধ্যমে এ বাড়িটি দেখাশুনার দায়িত্ব পেয়েছি। সচিবসহ তার পরিবারের কোনো লোককে আজ পর্যন্ত আমি দেখিনি। তাদের কারো সাথে আমার পরিচয় নেই। সোমবার বাড়িতে পুলিশ আসায় শাফির জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা বিষয়টি জানতে পেরেছি।
স্থানীয়রা জানান, শাফির জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবরে গোটা গ্রামে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়। শাফির বাবাকে ভালো মানুষ উল্লেখ করে গ্রামের একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, এমন ভালো লোকের ছেলে আইএসসের সাথে জড়িত থাকতে পারে, এটা জানতে পেরে কষ্ট লাগছে। পেশাগত কারণে সাফিউর রহমান ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি বছরই দুই-এক বার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। বিভিন্ন ছুটিতে বেড়াতে গেলে এলাকার মানুষদের সাথে কুশল বিনিময়ও করতেন তিনি। বছর দেড়েক আগে তার মৃত্যু হয়। এর বেশ ক’বছর আগ থেকে গ্রামে আসা ছেড়ে দেন তিনি।
তবে গ্রামবাসী জানান, বাবা গ্রামে এলেও তার ছেলে শাফির সম্পর্কে কোনো ধারণা তাদের নেই। কেউই তাকে চেনেনও না। ছোটবেলা বাবার সাথে শাফি দুই-এক বার গ্রামের বাড়িতে এলেও এলাকার লোকজনদের সাথে মেলামেশা করেনি। যার ফলে গ্রামবাসীর সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। গতকাল সোমবার বিকেলে থানা পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করে গেছে।
স্থানীয় দয়ামীর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, শাফির বাবা সাফিউর রহমানকে একজন ভাল মানুষ হিসাবে এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা জানেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করায় এলাকার তার পরিবারের সাথে পরিচিত নন স্থানীয়রা। ফলে তার ছেলেমেয়েরা কে কী রকম বা কী করে সে  ব্যাপারে এলাকাবাসী কিছুই জানে না। সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে সাফিউর রহমানের ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবর জানতে পেরে আমরা সবাই হতবাক হচ্ছি।
দয়ামীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাই মশাদ বলেন, সাবেক সচিব ও নির্বাচন কমিশনার সফিউর রহমান খুব ভারো লোক ছিলেন। তবে তাঁর ছেলের জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকার সবর্ত্র আলোচনা হচ্ছে। এতো ভালো লোকের ছেলে কিভাবে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হলো এটাই এখন এলাকাবাসীর চিন্তার কারণ।
তিনি আরো জানান, আমি যতদূর জানি সফিউর রহমান চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে আর গ্রামের বাড়িতে আসেননি। বছর দেড়েক আগে তিনি মারা গেছেন এবং বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি আবদুল আউওয়াল চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইএসের নামে হুমকিদাতা শাফির পৈতৃক বাড়িটি নজরদারি করছে পুলিশ। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কাদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকিদাতা ৩ জনের একজনের বাড়ি এ উপজেলায় জানতে পেরে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। হুমকিদাতা শাফির পৈতৃক বাড়িতে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
১ জুলাই গুলশানে রেস্টুরেন্টে হামলার পর আইএসের নাম এই ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়। ভিডিওবার্তায় তিনজনকে গুলশানের হামলা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।