শাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ডলার-ইউরো চুরি, অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ডলার-ইউরো চুরি, অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ!

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

শাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ডলার-ইউরো চুরি, অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউজে বসবাস করা একমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থী মাইজু আন্নিকা হেক্কিনেনের কক্ষের লকার থেকে দু’দফায় ১০০ ডলার ও ৩০০ ইউরো চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গেস্ট হাউজে কর্মরত কুক এবং ক্লিনার ও স্টাফকে সন্দেহ করছেন। কিন্তু এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনি অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ মাইজুর।

রোববার (১২ জানুয়ারি) তিনি বলেন, গত বছরের ১০ জুন গেস্ট হাউজে তার রুমের লকার থেকে ১০০ ডলার এবং পরে ১৩ সেপ্টেম্বর ৩০০ ইউরো চুরি হয়, যা বাংলাদেশি প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। ভিসি ও প্রক্টরকেও এ বিষয়ে অবহিত করি। কিন্তু তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

মাইজু বলেন, একজন স্টাফ নিয়মিত আমার খোঁজ নিতো। একজন কুক ও একজন ক্লিনারও আসতো। রুমের এক কপি চাবি গেস্ট হাউজের অফিসে জমা ছিল। রুমে না থাকা অবস্থায়ও ওই তিনজন অতিরিক্ত চাবি দিয়ে রুমে যাওয়া-আসা করতো। আমার রুমের লকারের চাবি সবসময় আমার এক ব্যাগে রাখা থাকতো। এছাড়া এর আগেও গেস্ট হাউজের একজন গার্ড আমার সঙ্গে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলতো, বিষয়টি প্রক্টরকে অবহিত করলে তিনি এর ব্যবস্থা নেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, তার (মাইজু) কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে। আমাদের স্টাফরা তার অনুপস্থিতিতে কখনই তার রুমে যায়নি। গেস্ট হাউজের সব রুমের চাবি গেস্ট হাউজের অফিসে থাকলেও কারও অনুমতি ছাড়া সেসব রুমে কেউ যেতে পারবে না।

তিনি বলেন, সে বাইরেও টাকাটা হারিয়ে থাকতে পারে। আমরা ভিসির কাছেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তবে সার্বিক প্রমাণাদি না থাকায় আমরা আর কি ব্যবস্থা নিতে পারি?

মাইজু আন্নিকা হেক্কিনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের (থিসিস) শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। হলের খাবার, পড়াশোনাসহ অন্যান্য সমস্যা থাকায় তার আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বছরের ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউজে তার থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল