শাবিপ্রবি ছাত্রের বিরুদ্ধে মেডিকেল ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শাবিপ্রবি ছাত্রের বিরুদ্ধে মেডিকেল ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

শাবিপ্রবি ছাত্রের বিরুদ্ধে মেডিকেল ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শাহজালাল বিজ্ঞন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মোসাদ্দেক মীমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের ছাত্রী।
অভিযোগকারীর স্ক্রিনশটে দেখা যায় মোসাদ্দেক মীম মেসেযে মেয়েদের গোপন অঙ্গের ছবি ও গোপন পোশাকের ছবি চেয়ে থাকে। যা নেহাত লজ্জা ও বিব্রতকর।
হয়রানীর শিকার ছাত্রী অভিযোগটি হুবহু তুলে ধরা হল,
“ডিবেটের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে প্রচুর নীতিকথা বলে,মোরালিটি,এথিক্স নিয়ে সারাক্ষণ বুলি কপচানো মানুষটা কতটা ভয়াবহ হতে পারে আজকে প্রমাণ দিচ্ছি।এই মানুষটা ধর্ষণের বিরুদ্ধে গলা ফাটায়,রেপিস্টের ফাঁসি চায়,টিভি চ্যানেলগুলোতে গিয়ে দেশের স্বনামধন্য একটা ভার্সিটির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে।অথচ রাতের অন্ধকারে অল্প বয়স্ক,মাইনর মেয়েগুলোকে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করে,নোংরা কথা বলে।পরবর্তীতে সেই মেয়ে রাজি না হলে তাকে জোর করে,ভয় দেখিয়ে,সব কনভারসেশন,প্রমাণ ডিলেট করতে বাধ্য করে।এবং সর্গবে বলে বেড়ায়,সিলেট ডিবেট সার্কিটে তার বিশাল ফ্যানবেইজ আছে,যারা সেই মাইনর মেয়েটিকে বিশ্বাস করবে না উল্টো তাকেই বিশ্বাস করবে। এতক্ষণ যে মানুষটার কথা বলছিলাম,তার নাম মোসাদ্দেক মীম।সিলেট ডিবেট সার্কিটে সে সবার পছন্দের বড় ভাই,অনেকের কাছে দেবতাতূল্য মানুষ।অথচ,হি ইজ এ পারভার্ট।বাংলাদেশ ডিবেট সার্কিটেও কমবেশি সবাই তাকে চিনে।সে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। SUST-School of debate ক্লাবের এসিসট্যান্ট ডিবেট ডিরেক্টর পোস্টে আছে।এছাড়াও সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের ডিবেট ডিরেক্টর।
এই মানুষটা গত পরশুদিন রাতে আমার এক ছোট বোনকে ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলার নামে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করেছে,নোংরা বিশ্রী সব কথা বলেছে।এবং পরে সে আপত্তি জানালে তাকে ভয় দেখিয়ে,ফোর্স করে সব কনভারসেশন ডিলেট করতে বাধ্য করে।একটা ১৬-১৭ বছরের মেয়ে ভয়ের মুখে তার কথা মানতে বাধ্য হয়।পরবর্তীতে তাকে যখন বলা হয়,ভাইয়া আপনি আমার সাথে এমন ব্যবহার কি করে করলেন,তখন সে সেখানে সরি বলে,সে যে গিল্টি ফিল করতেছে সেটাও বলে।এটাই প্রমাণ করে তার সব অপরাধের কাহিনী।
আমার জুনিয়রের কাছে এসব শোনার পর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে আগেও এমন অনেক মেয়ের সাথে করেছে।পরবর্তীতে আমি আরেক জুনিয়রের কাছে প্রমাণ পাই,সে একইভাবে ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলার নামে তার সাথেও একই কাজ করতে চেয়েছিলো।এবং আরোও একজন মেয়ের সাথেও একই কাজ করেছে।এবং পরবর্তীতে ভয় দেখিয়ে তাদেরকে চুপ থাকতে বাধ্য করেছে।
একটা ১৬-১৭ বছরের মেয়ে আপনার আমার মতো এত মানসিক শক্তির অধিকারী না,এটুকু যদি আপনি না বোঝেন তাহলে এখানে এনগেজ করতে আইসেন না।এই ঘটনার প্রত্যেক ভিকটিম মাইনর,তারা মীমের ভয়ে মানসিক ভাবে অনেক বিপর্যস্ত।ভিকটিমদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি তাদের পরিচয় গোপন রাখতে বাধ্য হচ্ছি।কিন্তু তদন্তের খাতিরে তারা সাক্ষী দিতে রাজি আছে। একজন ডিবেটার হয়ে এমন পারভার্ট,জঘন্য লোকের সাথে একই প্লাটফর্ম আমি শেয়ার করতে পারবো না।আশা করি,আপনারাও এই মানুষটার আসল রুপ জানার পর তার সাথে একই মঞ্চ শেয়ার করার আগে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করবেন।এই জুনিয়র মেয়েগুলোর বড় বোন হয়ে,সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হয়ে আমি এই জঘন্য লোকটাকে এক্সপোজ করতেছি।এই নোংরা লোকটা যেন আমাদের ডিবেট সার্কিটকে আর নোংরা করতে না পারে, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার। এই আবর্জনা লোকটা আইডি ডিএক্টিভ করে রেখেছে তাই আর ফেসবুক প্রোফাইল লিংক দিতে পারলাম না। সব প্রমাণ ছবিতে দিয়ে দিচ্ছি। বাকি প্রমাণগুলো ভিকটিমদের নিরাপত্তার জন্য দেয়া হচ্ছে না, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হবে। এই অসভ্য, নোংরা লোকের ছবি লাস্টে দিয়ে দিলাম।চিনতে পারলে জুতা খুইলা মাইরেন।ভিকটিমের, পরিচয় না বরং ক্রিমিনালের ছবি প্রকাশ হোক।”
তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মীমের বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ তুলে মন্তব্য করেছে অনেকেই,
শুভদেবনাথ নামের একজন লিখেন, ‘ইনি কিছুদিন আগেই ঠাকুরগাঁও এ ধর্ষণ বিরুধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন🙂 মানে লিড দিছিলো।ওরে বাবা, সে কি লিড, হাতে মাইক, গলায় বজ্রকন্ঠ।প্রতিবাদ হবে রক্ত জবায়, প্রতিবাদ হবে রক্ত জবায়।উনার যে এতো সেক্স তা আগে জানতাম না।গলায় কিস দিয়াই নাকি অরগাজম করায় দিবে।দিদি আমি নিজেই লজ্জিত, স্কুলের বড় ভাই উনি। তাও দিদি উনার নামে একটা জিডি করেন।এ রকম সাদা বেশ ধারি শয়তানের শাস্তির প্রয়োজন।’
শিথি নামের একজন লিখেন, ‘হাসি পায় দেখলে এদের মতো কিছু হিপোক্রেট মাদা*** গুলাই বিভিন্ন আন্দোলনে গলাবাজি করে,নীতিবাক্য শুনিয়ে, যুক্তি দিয়ে কথার যাদুতে মানুষের ব্রেইনওয়াশ করার দারুণ ক্ষমতা রাখে।তাদের ফ্যানফলোয়ার ও অনেক, অথচ যা নিয়ে গলাবাজি করে, নীতিবাক্য শোনায় দিনশেষে তারাই সেগুলো বেশি করে করে… মুখোশের আড়ালে নিকৃষ্ট রুপ কয়জনই বা দেখতে পায়!’
আকিব জামান লিখেন, ‘পুরাই টাসকি খেয়ে গেলাম🥴এই মানুষটির নেতৃত্বেই সেদিন ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে গেছিলাম,সেদিন সে মাইকে বলসিল,ধর্ষক রা কিন্তু আমাদের মতোই চেহারার একজন মানুষ আর আমাদের আসেপাশেই এরা মুখোশ পরে থাকে!🙂 শেষ মেষ তার কথা টা যে সত্য,সে নিজেই তার উদাহরণ হয়ে প্রমাণ করে দিল’
নিলয় লিখেন, ‘নারীবাদী হয়ে ভং ধরে নারীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শুয়ে পড়ার ধান্দায় থাকে এইসব শুয়োরছানারা’
ইমন লিখেন, ‘গণ পিটানি দেয়া উচিত কিন্তু সমস্যা হলো ইনোসেন্ট মানুষ কেও ফাসিয়ে গণ পিটানি খাওয়া তে পারে এ দেশের এক শ্রেণির উচ্ছ্বসিত পাবলিক তাই আইন,বিচার, শাস্তির উপর ভরসা নাই।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল