শাবির আন্দোলন জোরদারে: ইন্ধন দিচ্ছেন জামাত-শিবির, বিএনপি ও বামপন্থী

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২২

 শাবির আন্দোলন জোরদারে: ইন্ধন দিচ্ছেন জামাত-শিবির, বিএনপি ও বামপন্থী

অন্তর আর্চার্য্য:: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের আজ ১১ দিন গড়িয়ে গেলো কিন্তু হলো না কোনো সুরাহা। শাবির ছাত্রছাত্ররীরা তো আর সাধারণ ছাত্রছাত্রীর মতো না। কিন্তু তাদের এই বেপরোয়া আচরণ মনকে আর শিথিল করা যাচ্ছে না কোথায় যেনো প্রশ্নে থেকেই গেছে!

মাত্র তিনটি দাবি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হলেও এর ব্যাপকতা এখন বিশাল পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ চোখে দেখলে যা নজরে পড়ার কথা নয়। কিন্তু যারা দেশকে ভালোবাসেন দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা এতাবড় বিষয় সাধারণ চোখে দেখবে কি করে। দেশের একটি মানুষের কষ্টে যার হৃদয় কাঁপে সেই তো দেশের সেবকের স্থান পায়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবিতে অনঢ় যে তারা ভিসির পদত্যাগ পর্যন্ত অনশন করবে। কথামতো অনশন করেছেও, অনেক কোমলমতি বাচ্চারা অনশন করতে গিয়ে মত্যুশয্যায় হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছে। যা সত্যি পীড়া দিয়েছে। কিন্তু এটা কতোটা যুক্তি সংগত ভিসির পদত্যাগ চেয়ে তার বাসার বিদ্যুৎ, পানির বন্ধ করে দেয়া।

যে বাচ্চারা ফেনসিডিল খায় তার মস্তিষ্ক আর কতোটা ভালো হতেই পারে একবার ভাবুন। এমন হতে পারে যারা আন্দোলনে নেমেছে তারা সবাই ফেনসিডিল খায়। আর এর পেছনে জোগান পাচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থের। কারণ নেশাগ্রস্ত্ররা সাধারণত চিন্তা ক্ষমতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। এই প্রশ্নটা এখন আসতো না যদি না সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ফেনসিডিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদসহ দুজনকে ধরে পুলিশ আটক করতে না পারতো।

এর পেছনে বড় কোনো শত্র কাজ করছে আর আশঙ্কা আসলেই সত্য । ফেনসিডিলসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান ও জুমান আহমদকে আটক করার পর বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়। যেনো কচ্ছপের ভেতর থেকে মুখ বেরিয়ে আসতেছেধিীরে ধীরে।

পরপরই, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে ঢাকায় শাবিপ্রবি’র সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এখন তাদের সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে।

আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের নাম পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন, আর্কিটেকচার বিভাগের রেজা নূর মঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ।

এর মধ্যে রেজাকে সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরাস্থ তার বাসা থেকে বেরিয়ে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট আটক করে।

শুধুই কি তাই, ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে আরো দ্রুত ছড়ানোর জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও অনশনে নেমেছে আজ মঙ্গলবার ২৫ জানুয়ারি। তাদের সাথে বিক্ষোভ করছে বামরাজনৈতিক দলও। কচ্ছপের কালো মুখোশ পড়ে এ আন্দোলনের নেপথ্যে জামাত-শিবিরও যে এর গুটিবাজী করছে মানুষের বুঝতে আর বাকি আছে কি।

আর তা না হলে কোমলমতি বাচ্চারা তাদের অধিকার পেয়ে গেলে আর কি প্রয়োজন দেশে নতুন করে নৈরাশ্য সৃষ্টি করা। এর উপায়ান্তর একটাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সুদৃঢ় পথে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ ও সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চিন্তা করে, সুচিন্তত ভাবে যুক্তিসংগত উপায়ে উচিত শাবির আন্দোরকারীরা এ ধ্বংসের পথ থেকে সরে যাওয়া। কারণ কোনো আন্দোলন সুফল বয়ে আনতে পারে না, আন্দোলনের ভয়াবহতা নিদারুণ ও করুণ হয়।

সূত্র জানায়, শাবিপ্রবির আন্দোলনের নেপথ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের টাকার জোগান দেয়ার পেছনে আর কারা রয়েছেন সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য আটককৃতদের সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। উপচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে যেহেতু সিলেটে আন্দোলন হচ্ছে যার জন্য আটককৃতদের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় মামলা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

এবিএ/ ২৫ জানুয়ারি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল