শাবি সংকট নিরসনে কমর বেধে মাঠে ছিল সিলেট আ’লীগ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২২

শাবি সংকট নিরসনে কমর বেধে মাঠে ছিল সিলেট আ’লীগ (ভিডিও)

অজয় বৈদ্য অন্তর::

উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার দোলাচলে ছিল বিগত একটি সপ্তাহে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পুলিশি হামলায় শেষ পর্যন্ত ভিসি’র পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা শুরু করে অনশন। অনশনের শুরু থেকেই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আন্দোলনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখে। শুরুতেই সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন খান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নিয়ে পুলিশের হামলায় আহত চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান এবং আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধূরী নাদেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান। চেষ্টা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের। কিন্তু আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল গোপন ইন্ধন যোগানোর কারনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে হোঁচট খেতে হয়েছিল।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন খান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। পথ খুঁজতে থাকেন আন্দোলনের যৌক্তিক সমাধানের। আন্দোলনের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি নিয়মিত ভাবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছিলেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি না থাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুরুতেই একটু প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের বিগত কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সিলেটে একত্রিত করেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের মাধ্যমে শুরু হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ। এর মধ্যে চিহ্নিত করা হয় আন্দোলনে ইন্ধন দাতাদের।

এসব ইন্ধন দাতারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যখন তাদের স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে থাকে তখন থেকেই মূলত শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। একসময় শিক্ষার্থীরা ভিসি’র বাসার বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই সহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ অবস্থান গ্রহণ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয় এবং সহিংস আন্দোলন থেকে ফিরে আসার জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে থাকে। একই সাথে সহিংস আন্দোলনের বিপক্ষে জনমত গঠনে প্রচারণা শুরু করে।

আন্দোলনের যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেট আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা। উনার সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। তিনি সিলেটে এসেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সমস্যা সমাধানের কৌশল নির্ধারণে আলোচনায় বসেন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসেন। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার।

   

অজয় বৈদ্য অন্তর::

শাবির ছাত্রীদের আন্দোলন যখন একদফা আন্দোলনে রূপ নিলো, তখনি পলিটিক্স এর মধ্যে ঢুকে গেলো রাজনীতি! রাতে যখন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে গেলেন কথা বলতে, তখনই জামাত বিএপির মতাদর্শের একদল শিক্ষার্থী ভিসির উপর চড়াও হলো, ভিসির উপর লাঞ্চিত ভিসি দৌড়ে ঢুকে গেলেন একটি ভবনে।তালা লাগালো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, তখনও পুলিশ ছিলো নিরব। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে যাওয়া জামাত,বিএনপি, শিবিরের একটি অংশ চড়াও হলো মহিলা পুলিশের উপর। গুজব ছড়ালো ছাত্রলীগ আক্রমণ করেছে। জামাত-বিএনপির মদদপোষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা সাথে সাথে এই গুজব ছড়িয়ে দিলো। পুলিশ বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি টিয়ারশেল, সাউন্ডগ্রেণেড ছুঁড়লো। এইসব কথা আমাদের সাথে গল্প করলেন প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী।

এই শিক্ষার্থী এক বাম সংগঠনের কর্মী। এরপর থেকে তিনি আর ক্যাম্পাসে যাননি।

এরপর সিলেট এক আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে মোমেন উনার পিএ জুয়েল কে পাঠিয়ে সকল আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরদিন থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ছুটে গিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছেন, কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। নেতৃবৃন্দ যতো শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছেন ততোই তারা লম্বা হয়েছেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ছাত্রলীগ জেলা ও মহানগর এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে, বিলাত থেকে ভাইয়ার নির্দেশে বিএপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খন্দকার মুক্তাদির প্রতিদিন ১২শ শিক্ষর্থীদের খাবার, পানিও জলসহ নানাবিদ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।

আন্দোলন অব্যাহত রাখতে সক্রিয় ছিলো জেলা ও মহানগর বিএনপি। জামাত-শিবির তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলো যাতে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। অপরদিকে, বামপন্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখতে দিন-রাত কাজ করছিলো এমন মন্তব্য সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সারাদেশে যখন করোনার পাদুর্ভাব প্রতিদিন বাড়ছে ঠিক সেই সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে যারা কাজ করছিলেন তাদের ছেলেমেয়েরা কিন্তু বিদেশে লেখাপড়া করে। একবারো তারা চিন্তা করলো না এই মহামারির সময় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে মৃত্যুরদিকে ঠেলে দেওয়া।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যখন জামাত-বিএনপির ইন্ধনে ভিসির বাসভবনের ও স্টাফদের বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ কেটে দেয়। তখন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি’র) মাননীয় উপাচার্যের বাসভবনে আন্দোলনকারীরা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসি’র বাসায় খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ভিসি মহোদয়ের বাসায় খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় আজ সকালে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার দুই জন জনপ্রতিনিধি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মখলিছুর রহমান কামরান এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান আন্দলনরত শিক্ষার্থী ও ভিসি মহোদয়ের জন্য খাবার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভিসি মহোদয়ের বাসায় খাবার সরবরাহে বাঁধা দেন এবং খাবার ফিরিয়ে দেন। আন্দোলনকারীদের এমন কর্মকান্ডকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করতে পারে না। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এমন অমানবিক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

এই বিবৃতির পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, আওয়ামীলীগ এখন কঠোর থেকে কঠোর পথে হাঁঠবে। এই বিবৃতির পরই আন্দোলনরত শিক্ষার্তীদের সংখ্যা কমতে থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় অনশন ভাঙ্গবে। তারপরে আবার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে যায়।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে মিনিটে মিনিটে সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে, ঘোলা পানিতে যাতে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা পায়দা নিতে না পারে এইসব বিষয় মাথায় রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থদের জানমালের কোনো ক্ষতি যাতে না হয় পাশাপাশি, কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয় এভাবে তারা কাজ করছিলেন।

আরেকটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উদ্যোগী হয়ে উঠেন আওয়ায়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। অবশ্য আন্দোলনের শুরু থেকে তিনি সার্বক্ষণিক খোজখবর নিয়েছিলেন। খুব গোপনে ঢাকা থেকে সিলেট পাঠান আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল।

সেই দলের কাছ থেকে সংকট সমাধানে নেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। কথা বলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথেও। সবার পরামর্শ পর্যালোচনা করে আবারও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে।

মূলতঃ তাঁরই নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে নানকের নেতৃত্বে অপর একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেন ড. জাফর ইকবালের সাথে। বের হয়ে আসে অনশন ভাঙানোর উপায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অনশন শেষ পর্যন্ত ভঙ্গ হয়।

সাতদিন পর তারা পান করেন পানি। অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক আজ বুধবার ভোরে শাবিপ্রবিতে পৌঁছানোর পরপরই শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙ্গতে সম্মত হন।

এরপর হাসপাতাল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হয় ক্যাম্পাসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনশন ভাঙ্গানো হয়। এই অনশন ভাঙ্গানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ হলো এবং অনশন ভাঙ্গানোর ক্ষেত্রে কোনো রকম অগ্রগতিই হচ্ছিল না, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করতেও যখন শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এ উদ্যোগ গ্রহন করেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তারা সেখানকার শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলের সাথে কথা-বার্তা বলতেন। এ রকম কথা-বার্তা বলার পরই নানক প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, যদি ড. জাফর ইকবালকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে এই সংকটের একটি সমাধান সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় অধ্যাপক জাফর ইকবালের বাসায় গিয়ে দেখা করেন।

সেখানে জাফর ইকবালের সাথে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে সিলেট যেতে রাজি করাতে সক্ষম হন। জাফর ইকবাল আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তার বাসায় গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি সস্ত্রীক সিলেটের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন এবং ভোরে সিলেট এসে পৌঁছান। তারপর অনশন ও আন্দোলনরতদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তাদের মুখে পানি তুলে দেন।

এদিকে, শাবি আন্দোলনের শুরু থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আন্দোলন প্রমসনে ভুমিকা রাখেন। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের নেতৃত্বে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, বিধান কুমার সাহাসহ শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপুমণির সাথে বৈঠক করেও তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাখে দেখা করতে যান সহ নেতৃবৃন্দ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল