শালিস মানেননি বাহার, প্রতিশোধ নিতে ঝুমার উপর হামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শালিস মানেননি বাহার, প্রতিশোধ নিতে ঝুমার উপর হামলা

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৭

শালিস মানেননি বাহার, প্রতিশোধ নিতে ঝুমার উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: তিন বছর ধরে ঝুমা বেগমকে উত্যক্ত করে আসছিলো বাহার উদ্দিন, বিয়ের প্রস্তাবও দিচ্ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। বাহারের বিয়ের প্রস্তাবে অসমর্থ ঝুমার পরিবার নালিশ জানিয়েছিলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে। জানানো হয়েছিলো বাহারের মা বাবাকেও।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ঘরোয়া শালিসও বসেছিলো, তবে সে শালিস বা মা-বাবার নিষেধাজ্ঞাও মানেনি বাহার। শেষ পর্যন্ত সকল প্রচেষ্টার ব্যর্থ হয় ঝুমার উপর বাহারের হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে। রবিবার সকালে জকিগঞ্জে কলেজছাত্রী ঝুমাকে ছুরিকাহত করে পালিয়ে যায় বাহার। আহত হন ঝুমার মা করিমা বেগমও।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের চতুর্থ তলার মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ঝুমা ও তার মা করিমা বেগম সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান দীর্ঘ তিন বছরের এ মানসিক যন্ত্রণার কথা।

ঝুমা বেগম বলেন, ”প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতেই আমার উপর হামলা চালায় বাহার। সে আমাকে দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করছিলো। বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলো, কিন্তু আমি রাজি হইনি”।

এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন আছে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ভোরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাহার উদ্দিনের ভাই নাসির উদ্দিন আটক করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঝুমা বেগম জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে। আর বখাটে বাহার একই এলাকার আবদুল গফুর পচনের ছেলে।

গত রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে ঝুমাকে নিয়ে বের হন ঝুমার মা। পথে একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে বাহার উদ্দিন (২২) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঝুমাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার মাও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে ছোট ভাইকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ায় পথে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে ঝুমার ওপর হামলা চালায় বাহার। সে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা করিমা বেগম বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও জখম করা হয়।

মা ও মেয়ের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ বাজার থেকে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল কাদিরসহ অন্যরা এগিয়ে এলে বাহার পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ঝুমা বেগমকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই কলেজছাত্রীর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালের চতুর্থ তলার চিকিৎসাধীন রয়েছেন।