শাহী ঈদগাহে ‘ইত্তেফাক’ সিনেমার শুটিং, উত্তাল সিলেটবাসী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শাহী ঈদগাহে ‘ইত্তেফাক’ সিনেমার শুটিং, উত্তাল সিলেটবাসী

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

শাহী ঈদগাহে ‘ইত্তেফাক’ সিনেমার শুটিং, উত্তাল সিলেটবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরের শাহী ইদগাহে নামাজের জায়গায় ‘ইত্তেফাক’ ছবির শুটিং করা নিয়ে সিলেটের সর্বত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। অনেকেই ফেসবুকসহ নানান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে লেখনি আর কমেন্টস এর মাধ্যামে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আবার কেউ কেউ সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন সভা- মানববন্ধন এর মাধ্যামে উক্ত সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবী করছেন। ভারতীয়ও প্রতিষ্ঠান জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির অর্থায়নে মুনিহাত মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার মেহেদী হাসান বিপ্লব এর প্রযোজনায় ইত্তেফাক নামে ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি। অভিনয়ে রয়েছেন সিয়াম আহমেদ ও বিদ্যা সিনহা মিম। সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহে সিনেমার শুটিংকারীদের দৃষ্টান্তমুল শাস্তি দাবি করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে সংগঠনটির নেতারা আন্দোলনে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার শাহী ঈদগাহে শুটিং করার বিষয়টিকে ‘ধৃষ্টতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জ্ঞাপন করে জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরী শাখা। গত বৃহস্পতিবার শাহী ঈদগাহে ‘ইত্তেফাক’ নামের একটি সিনেমার শুটিং হয়।
সিলেট জেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাফিজ ফখরুজ্জামান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের শাহী ঈদগাহে সিনেমার শুটিং করে ইসলাম ধর্মের প্রতি ধৃষ্টতা দেখালো একটি মহল। সিলেটের শাহী ঈদগাহ একটি ঐতিহাসিক স্থান। যেখানে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিবছর লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়তে আসেন। বড় বড় জানাজার নামাজ শাহী ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল ধর্মীয় কাজ সম্পাদিত হওয়া এই ঐতিহাসিক ও পবিত্র শাহী ঈদগাহে সিনেমার শুটিং হয়েছে তা বিশ্বাস করা কঠিন হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পুলিশী প্রহরায় শুটিং করে ফেলেছে। নেতৃবৃন্দ সিনেমার শুটিংকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন। অন্যথায় সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সিলেট জেলা জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এছাড়াও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, শাহ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী এক বিবৃতিতে বলেন, পীর, অলি-আউলিয়ার পূন্যভূমি সিলেটে এরকম অনৈসলামিক কর্মকা- বরদাশত করা যায়না। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আমরা আদালতের দারস্থ হতে বাধ্য হব।