শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনের আবেগ ও উচ্ছ্বাস হারিয়ে গেছে–মোঃ আসাদুল হক আসাদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনের আবেগ ও উচ্ছ্বাস হারিয়ে গেছে–মোঃ আসাদুল হক আসাদ

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনের আবেগ ও উচ্ছ্বাস হারিয়ে গেছে–মোঃ আসাদুল হক আসাদ

এসএসসি পরীক্ষা চলিতেছে ।প্রশ্ন ফাঁসের মহোৎসব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ।শিক্ষা ও প্রশ্নপত্রের মানও ক্রমান্বয়ে নিম্নগামী ।প্রায় প্রতিনিয়তই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে এক্সপেরিমেন্ট চলিতেছে ।দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শেষ গন্তব্য কোথায়-মেধাশুন্য আগামী ভবিষ্যৎ –
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনে চরম উৎকন্ঠা ।দেশের চালিকা শক্তি মেধাবী আগামী প্রজন্ম ।
কিন্তু প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়নের যে কয়েকটি স্তর এসএস সি,এইচএসসি পরীক্ষা,প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় ঘোষণা দিয়ে সিন্ডিকেটের প্রশ্ন ফাঁস ,প্রত্যেকটি সেক্টরে প্রকাশ্যে নিয়োগ বাণিজ্যের দরূন শিক্ষা ব্যবস্থা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।প্রতিযোগিমূলক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে-এমন তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কোনও সুযোগও নেই।
কারন যখন দেখবে, যে ছেলে কখনোই পড়ালেখার সংস্পর্শে ছিল না-মা বাবা যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিনিয়তই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্হ থাকতেন,সেই ছেলে জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ক্রয় করে সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেছে-তখন প্রকৃত মেধাবীদের দিনের পর দিন কঠোর অধ্যবসায় আর শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত ফলাফলের কোনও মূল্য থাকে না ।অভিভাবকরা ছেলেমেয়েকে নিয়ে যে গর্ববোধ করবেন,সেই আবেগ ,উচ্ছ্বাস ও অনুভূতি হারিয়ে
ফেলেন।কারন তিনি জানেন, বানের জলে ভেসে আসা পানির মতো লক্ষ লক্ষ গোল্ডেন এ+ প্রকৃত অর্থে তাদের কোনও উপকারেই আসবে না ।
একসময় ছিল গ্রামেগঞ্জে-শহরে কোনও ছেলে অথবা মেয়ে পড়ালেখায় মেধাবী হলে সবাই গর্বের সাথে স্বপ্ন দেখতেন ,সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে ।তার পরিচয়ে আমরা গর্বিত হবও -গর্ববোধ করব ।কিন্তু আজ চরম অনিশ্চয়তা ।প্রকৃত মেধাবীরাই সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত ।কারন তারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের অপেক্ষায় থাকবে না -নিয়োগ বাণিজ্যের কুৎসিত খেলায়ও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে যাবে ।

তাহলে দেশের আগামী দিনের কাণ্ডারী -মেধাবী প্রজন্ম কোন দিকে যাবে-
মেধা অন্বেষন-গবেষণার দিকে না ফাঁস হওয়া প্রশ্নের খোঁজে ?আওয়ামী সরকার দাবি করে ,দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করেছে ।কিন্তু তারা জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।
খুব সহসাই সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে ।

শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখার প্রতি আকর্ষণ খুঁজে পাবে না ।মেধাশুন্য জাতি কতদূর এগিয়ে যেতে পারে ?একজন শিক্ষিত প্রকৃত মেধাবীর চিন্তা ও মন মানসিকতা সবসময় শান্তির বার্তা নিয়ে আসে।
সহায় সম্বলহীন -দুঃস্থ কিন্তু মেধাবী,তারাও পড়ালেখায় সর্বোচ্চ সফলতার মাধ্যমে সুন্দর একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখত ।মা বাবা ভাইবোন কে নিয়ে শান্তি ও সুখের প্রত্যাশায় যেকোনও ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকত ।
তাও কি আজ হারিয়ে যাবে ?
তারা কি মিথ্যা মরিচীকার পেছনে দৌঁড়াবে ?
না অন্যায় ও দুর্নীতির পথ খুঁজে নিবে ?
দেশ জুড়ে চরম অরাজকতা আর দুর্নীতি ।জীবনের প্রথম ধাপেই যদি কোনও শিক্ষার্থী ভূল ও দুর্নীতির পথে চলে যায় আর সফলতা পায় এবং প্রশংসিত হয়,তবে সেই পথ থেকে যতই নীতিবাক্য শোনানো হউক না কেন-তাকে আর সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা দুঃসাধ্য হবে ।কারন দুর্নীতি তার রন্দ্রে রন্দ্রে মিশে যাবে ।সহজ ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত হওয়ার যে স্বাদ তা কখনোই হারাতে চাইবে না ।সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।না হয় আমাদের বর্তমান প্রজন্মের ভবিষ্যত অন্ধকার ।

সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
সিলেট মহানগর ছাত্রদল