শীতের আগমণে নগরীর মোড়ে মোড়ে পিঠার ঘ্রাণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শীতের আগমণে নগরীর মোড়ে মোড়ে পিঠার ঘ্রাণ

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

শীতের আগমণে নগরীর মোড়ে মোড়ে পিঠার ঘ্রাণ

ফাহাদ হোসাইন
চলছে কার্তিক মাস। রাতের বেলায় হালকা শীত করে। রাতের বেলায় মাজে মধ্যে কুয়াশা পড়চ্ছে। কুয়াশা যেন শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসচ্ছে। বিকেল বেলায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে গরম পিঠা বানাতে বিক্রেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সকল বয়সী মানুষের কাছেই বলতে গেলে ভাঁপা পিঠার কদর সমান। কিন্তু আধুনিকতার এ যুগে ঘরে ভাঁপা পিঠা তৈরির প্রচলন সময়ে সময়ে কমতে থাকলেও বাজার থেকে শহর কোন জায়গায় ভাঁপা পিঠার প্রচলন কমেনি। বরং ব্যস্ত জীবনের মানুষগুলো তাদের প্রিয় ভাঁপা পিঠার স্বাদ পেতে ভাঁপা পিঠা বিক্রির দোকানেই ভিড় জমান।
এর ব্যতিক্রম ঘটেনা বাংলার কোন প্রান্তে। চালের গুড়া, নারিকেল আর গুড়ের সমন্বয়ে তৈরি এ ভাঁপা পিঠা এক গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মৌসুমে প্রামীণ বধূরা রকমারি পিঠা তৈরি করেন। শীতের পিঠার মধ্যে ভাঁপা পিঠা একটি অন্যতম পিঠা। ভাঁপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাঁপা, কখনো ঝাল ভাঁপা। খেজুর রস দিয়ে ভাঁপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর। কিন্তু সময়ে সময়ে মানুষ কর্মব্যস্ত হওয়ার কারণে ঘরে ভাঁপা পিঠা তৈরির প্রচলন কমেই চলছে। তাই কদর বাড়ছে ভাঁপা পিঠা দোকানিদের। সকাল বলেন আর সন্ধ্যা বলেন সব সময়ই সমান ভিড় থাকে ভাঁপা পিঠার দোকানে।
নগরীর স্থানীয় বাজার, গ্রাম ও শহরের ফুটপাতে পিঠা ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহর-প্রামীণ বাজার ও বিভিন্ন জায়গায় চলে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম। শহরের অলিগলিতে রাস্তার আশপাশে পিঠেপুলির ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসে। এসব দোকানে কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকেরা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। এ পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় তারা। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার সমাগত বৃদ্ধি পায়। সবাই একসাথে মজা করে শীতের ভাঁপা পিঠার স্বাদ উপভোগ করেন। সকল বয়সের মানুষের এক সাথে পিঠা খাওয়া দেখে মনে হতে পারে কোন উৎসব চলছে।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ পিঠা বিক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতি শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করি। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হয়। শীতের শুরুতে একটু ক্রেতা কম হলেও শীত যত বাড়বে ততই ক্রেতাও বাড়বে বলে জানান তারা।
ভাঁপা পিঠা খেতে এসে জুনেদ নামের একজন বলেন, আমি সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার সময় প্রায় এসব দোকান থেকে ভাঁপা পিঠা খাই। এবং পরিবারের জন্যও নিয়ে যাই।
শিক্ষার্থী রনি বলেন, শীত শুরু হতে যাচ্ছে বাসায় ভাঁপা পিঠার আয়োজন করা হবে। সাধারণত সকালে নাস্তা বা বাসায় বড় বোন আসলেই শীতের সকালে ভাঁপা পিঠার আয়োজন করবেই আমার মা। তবে বাজারে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে বেশী খাওয়া হয়।