শীতের সবজিতে দাম চড়া, হিমশীম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শীতের সবজিতে দাম চড়া, হিমশীম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

শীতের সবজিতে দাম চড়া, হিমশীম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

রেজওয়ান আহমদ
সিলেট নগরীতে শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব হলেও ক্রেতারা সবজি কিনতে হিমশীম খাচ্ছেন। প্রতিটি সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় নিম্নআয়ের মানুষরা সাধ্যমতো সবজি কিনতে পারছেন না। তারা প্রতিদিন যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে নূন আনতে পানতা ফুরায়। নিম্নআয়ের মানুষরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে কেউ তিনশ টাকা কেউবা চারশ টাকা আয় করছেন। তা দিয়ে খাদ্য যোগাড় করতে বাজারে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পরিবারের অর্থ উপার্জনকারী ব্যক্তিদের। তিন-চারশ টাকা দিয়ে চাল-মাছ-সবজিসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় করা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে এই টাকা দিয়ে এক-দুটি পণ্য কিনলে বাকি পণ্যগুলো কেনা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্নআয়ের মানুষদের কষ্ট যেন বেড়েই চলেছে।
বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা একবেলা খেলে আরেকবেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। আয় থেকে ব্যয় বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নগরীর বিভিন্ন পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরে উঠেছে। অথচ প্রতিটি সবজির দাম চড়াও। শীতের সবজির সাথে অন্যান্য সবজির দামও বাড়তি রয়েছে। পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায় নতুন আলু ৫৮ টাকা, টমেটো ৮৫ টাকা, গলদা শীম ১১০ টাকা, শীম ৫২ টাকা, বেগুন ৩২ টাকা, শালগম ৩২ টাকা, মূলা ৩২ টাকা, ফুলকপি ৯০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪২ টাকা, ঝিঙ্গা ৪২ টাকা, গাঁজর ৬৫ টাকা, ধনিয়া ১০০ টাকা, করল্লা ৪৮ টাকা, মুখি ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে গিয়ে এইসব সবজি আরো বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে দেখা যায়। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়Ñটমেটো ১০০ টাকা, গলদা শীম ১২০ টাকা, শীম ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, নতুন আলু ৭০ টাকা, বাধাঁকপি ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কাকরুল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, মুখি ৮০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ টাকা, ধনিয়া ১২০ টাকা, করল্লা ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পুরাতন আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে লাউ (পানি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও মিষ্টি লাউ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে।
আম্বরখানা এলাকার সবজি বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, বাজারে বর্তমানে শীতকালীন সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ১০০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, বড় শীম ১২০ টাকা। তিনি বলেন, শীতের সবজি এখনো পুরপুরি বাজারে আসেনি। সব এলাকা থেকে সবজি বাজারে আসলে দাম আরো কমে যাবে।
বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতিদিন পরিশ্রম করে যে টাকা উপার্জন করছি তা দিয়ে আমাদের কোনোরকম চলতে হচ্ছে। বাজারের জিনিসপত্রের দাম বেশি। তিন-চারশ টাকা দিয়ে চাল-মাছ-সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরে উঠলেও দাম বেশি। অন্যদিকে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজ-আদা-রসুনের দাম। বাজারে পণ্যগুলো মজুদ থাকলেও ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে সিন্ডিকেট করে বাজারে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।