শীর্ষ পদে চমক হতে পারেন আলাওর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শীর্ষ পদে চমক হতে পারেন আলাওর

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

শীর্ষ পদে চমক হতে পারেন আলাওর

উজ্জ্বল চৌধুরী
যখন ছিলনা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছিলনা তড়িৎ যোগাযাগের জন্য টেলিফোন। যখন মোবাইল কিংবা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ছিল স্বপ্নের মতো। সেসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মী সংগ্রহ আর ছাত্রলীগের দল ভারী করার কাজে এই পূণ্যভূমি সিলেট থেকে যে কয়েকজন ছাত্রনেতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে অবিনশ্বর একটি নাম ফয়জুল আনোয়ার আলাওর। স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা চেতনা বিশ্বাসকে অনুভবে নিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ৭৪ সালে স্কুল ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের মিছিল সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা আলাওর ১৯৭৭ সালে নির্বাচিত হন সিলেট এমসি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। সুদর্শন চেহারা, বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য আর অসম সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ১৯৭৯-৮০ সালে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির। সে সময়ে তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এমসি কলেজ পরিদর্শনে আসলে অগ্রজদের সাথে নিয়ে দুঃসাহসী আলাওর জিয়াউর রহমানের গতিপথ থামিয়ে দিয়ে কলেজের কাঙ্খিত উন্নয়ন আদায় করে নেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন ছাত্রলীগের মুর্শেদ-মিছবা পরিষদের সহ-সভাপতির।
দুঃসাহসী আলাওর জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার ফলস্বরূপ ৮৫ সালে নির্বাচিত হন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের দৌরাত্ব প্রশাসনের নিষ্ঠুর নির্যাতন আর সামরিক জান্তার রক্তচক্ষুকে অসীম সাহসে মোকাবেলা করে ফয়জুল আনোয়ার আলাওর হয়ে যান তৎকালীন সময়ে পরিচ্ছন্ন ছাত্ররাজনীতির আইকন।
অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়া সত্ত্বেও আলাওরের জীবনাচরণ ছিল নির্লোভ আর সাধারণ। ৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এমএজি ওসমানীর নির্বাচনী প্রচারণায় নিজে মাইকিং পর্যন্ত করেছিলেন তিনি। আপাদমস্তক বঙ্গবন্ধু প্রেমী আলাওর বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে এতটাই আপোষহীন ছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুর খুনি মুশতাকের জনসভাকে পন্ড করতে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে জীবনবাজি ভূমিকা রেখেছিলেন। শুধু কি তাই! সিলেটের মাটিতে স্বৈরশাসক এরশাদ এবং মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রতিহত করতে অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছিলেন আলাওর। ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে যোগ্যতা ও মেধার মূল্যায়ন স্বরূপ ১৯৯০ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক। পরবর্তীতে সিলেট শহর মহানগরে রূপান্তরিত হলে মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য ২০০৪ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।
গুলশান গ্রেনেড হামলায় আহত, কর্মী বান্ধব ফয়জুল আনোয়ার আলাওর ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ধণাঢ্য পরিবারের সন্তান হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা ছাড়াও তার সাংগঠনিক দক্ষতা আর দলীয় আনুগত্যে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাকে বেছে নিয়েছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। দলীয় কর্মকান্ডে নিজেকে শতভাগ বিলিয়ে দেওয়া আলাওর আসন্ন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জায়গা করে নিয়েছেন তৃণমূলের পছন্দের শীর্ষ তালিকায়। তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন পূণ্যভূমি সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা ফয়জুল আনোয়ার আলাওর ই হতে পারেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের আগামী দিনের অগ্রযাত্রায় জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সিপাহশালার।
সম্মেলনের প্রার্থীতা প্রসঙ্গে আলাপকালে এক সময়ের এই জাদরেল ছাত্রনেতা জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও রক্তের উত্তরাধিকার আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনায় আমি যে পদেরই যোগ্যতা অর্জন করব সেই দায়িত্বই হবে আমার কাছে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল