“শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনকারী নয়, রাজনীতির পূর্ণ অর্থ প্রতিষ্ঠাকারী মেজর জিয়া”….মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনকারী নয়, রাজনীতির পূর্ণ অর্থ প্রতিষ্ঠাকারী মেজর জিয়া”….মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭

“শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনকারী নয়, রাজনীতির পূর্ণ অর্থ প্রতিষ্ঠাকারী মেজর জিয়া”….মো.নাঈমুল ইসলাম

গণতন্ত্র ও রাজনীতি একে অপরের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয়ভাবে জড়িত। গণতন্ত্র ছাড়া রাজনীতি মূল্যহীন। বর্তমান বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে রাজতন্ত্র পরিচালিত হচ্ছে এই কথাটি যেনো প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের লাগামহীন কথা হয়ে গেছে। পূর্বের রাজনীতিবীদগণ যে রাজনীতির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপণ করে গিয়েছেন তার পানিকণাও পর্যন্তও ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনীতিবীদরা। কোনো এক জনৈক ব্যক্তি বলতেন দল থেকে দেশে বড় দেশ থেকে জনগণ বড়। বর্তমান বাংলাদেশে রাজনীতি ভোগের হয়ে উঠেছে ত্যাগের নয়। যারা রাজনীতিবীদ তাদের ব্যাংক একাউন্ট টাকা দ্বারা ভর্তি তবুও তারা অবৈধভাবে নিজের মুনাফা লাভকে দেশের নাম করে কালোবাজারের সমুদ্র বানিয়ে ফেলেছেন। দেশের উন্নয়ণ জণগণের উর্ধ্বে। সেই উন্নয়ণের সমুদ্রে মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে। আমদের মূল সংবিধান গণতান্ত্রিক দেশে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, কিন্তু তা কি আসলেই এদেশে বিদ্যমান। বর্তমার সরকার ক্ষমতার বশবর্তী হয়ে সাধারণ জনগণকে পুতুল বানিয়ে সেই উন্নয়ণের মধ্যে নাচিয়েই যাচ্ছে। ভারতের সাথে বাণিজ্যের সুসম্পর্ক রক্ষায় পদ্মাসেতু বানানো হচ্ছে হ্যা আমরাও চাই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ণ হোক কিন্তু এরকম উন্নয়ণ তো আমরা চাই নি যেখানে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০টাকা করে কিনতে হচ্ছে। তাহলে এই পদ্মাসেতু বানিয়ে লাভ কি। মাননীয় এদেশের সনামধন্য মন্ত্রী, এমপিগণ আপনি আমি ৬০টাকা করে পিঁয়াজ ক্রয় করতে পারলেও এদেশে আরো অনেক পরিবার আছে যাদের কপালে একবেলাও খাবার যোগায় না তারা কিভাবে জীবনযাপন করবে এটা মাথায় রেখে জনগণের উন্নয়ণে কাজ করা উচিত ছিলো। কি প্রয়োজন এই পদ্মাসেতুর যেখানে নৌকাযোগে জেএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেশের দুটি ভবিষ্যৎ সম্পদকে প্রাণ হারাতে হয়। যদি রডের বদলে বাঁশ দিয়ে হলেও একটি সেতু বানিয়ে দিতেন হয়তো আজ তারা বেঁচে থাকতো। এসব কথা গুঞ্জন দেয় দেশে গতেন্ত্রের নামে রাজতন্ত্র পরিচালিত। দেশের প্রত্যেকটি অংশের সাথে রাজনীতি জড়িত। কিন্তু সেটাকে জনগণের কল্যাণে নয় দুর্নীতিতে বেশ ভালোই ব্যবহার হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে এমন একটি পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে যেখানে একটি তিন বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয় এমনকি প্রতিদিন খবরের পাতায় ধর্ষণের শিকার এরকম খবর লেগেই আছে নেই তার কোনো বিচার। সত্য ও ন্যায়কে আগুনে পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস। কথাটি’র তাৎপর্য আমাদেরকে মেজর জিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকারী। রাজনীতি সম্পর্কে মেজর জিয়া বলতেন, “ যে সব রাজনৈতিক নেতারা জনগনের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত না করে শুধু বিলাস বহুল জীবন যাপন করে তাদের জন্য রাজনীতি করাকে আমি কঠিন করে তুলবো ”। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নতুন বাঁক সৃষ্টি হয় যাকে ‘সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বলে অভিহিত করা হয়। সিপাহী জনতার বিপ্লবে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি হন। তিনি রাজনীতি করেছেন দেশের জনগণের স্বার্থে। বর্তমান দেশের অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ক্ষমতাসীন দল। মেজর জিয়া চেয়েছিলেন সোনালী বাংলাদেশ যেখানে জনগণ না খেয়ে মরবে না। বর্তমান সরকারের দ্বারাও সেটি সম্ভব হতো যদি তারা গণতন্ত্রের সঠিক ব্যবহার করতে পারতো। একটি কথা দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আজ যদি জিয়া বেঁচে থাকতেন তাহলে দেশের এই পরিস্থিতি দেখে বলতেন দেশ আপন হলেও জনগণ পর হয়ে গেলো।
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।