শেওলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শেওলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২১

শেওলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

 

রুহুল আমীন তালুকদার :
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস অধীন শেওলা এরিয়া অফিসের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলাম সহ ৩ কর্মচারী স্থানীয় ভূমি জবর দখলের চেষ্টাকারীদের দ্বারা বশিভূত হয়ে তাদের নিজ স্বার্থে অন্যায় লাভের আশায় এক অসহায় মহিলার স্বত্ব দখলীয় ভূমি জবর দখলের চেষ্টা সহ তাকে প্রাণে হত্যার হুমকীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪নং শেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত আব্দুন নুরের মেয়ে উপজেলা মহিলা আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদিকা জাহানারা বেগম সাদিয়ার স্বত্ব দখলীয় ভূমি জবর দখল ও ভূমিতে ফলানো ফসলাদি বিনষ্ট করার চেষ্টা সহ তাকে প্রাণে হত্যার হুমকীর অভিযোগ এনে গত ১০ অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ৩৬/২১ইং ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারা মতে ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদীর মামলাটি আমলে নিয়ে মামলার কতিপয় ২য়পক্ষ এই তিন কর্মচারী তাজুল ইসলাম, নভেল তালুকদার ও শফিকুল ইসলামকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ সহ বর্ণিত ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার ২য়পক্ষরা হলো, পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস অধীন, শেওলা এরিয়া অফিসের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলাম, লাইনম্যান নভেল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঢেউনগর মৌজার জে এল নং ৪৫, এস এ ৪৪২ ও ৬৫৭নং খতিয়ানের ২৩৩৮ ও ২৩৩৫নং দাগের ৪১ শতক ভূমির মূল মালিক হচ্ছেন, দিনেশ চন্দ্র দাস, অতুল রাম নমঃশূদ্র, উমেশ চন্দ্র দাস, লোকেশ চন্দ্র দাস, সুরেন্দ্র চন্দ্র দাস, সেয়া রাম দাস, সত্যবালা দাস। তারা ভোগাধিকার থাকা অবস্থায় বর্ণিত ভূমি গত ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৭ইং সালে মামলার ১ম পক্ষ জাহানারা বেগম সাদিয়ার পিতা- আব্দুন নূরের কাছে বিক্রয় দলিল মূলে হস্তান্তর করেন এবং স্বত্ব দখল ত্যাগী হন। এরপর থেকে ১ম পক্ষ সাদিয়ার পিতা আব্দুন নুর বর্ণিত ভূমিতে ভোগ দখলে ছিলেন। তিনি মারা গেলে উত্তরাধিকারী সূত্রে ১ম পক্ষ সাদিয়া অদ্যবধি ভোগ দখলে থাকিয়া বর্ণিত ভূমিতে শাক-সবজি, ফসলাদি, বৃক্ষাদি কতেকাংশে ডোবায় মাছ চাষ করে তার সন্তানাদি নিয়া জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। এই ভূমিতে ফসলাদি ফলাইয়া স্বনির্ভর একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্ম কর্মসংস্থানে সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের সরকার কর্তৃক স্বর্ণপদক সহ বিভিন্ন সম্মাননা পদক প্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় কু-চক্রী মহলের কিছু ভূমিখেকো জবর দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মামলার ১মপক্ষ সাদিয়ার বর্ণিত ভূমি জবর দখল করে নেয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। তারা চেষ্টা করে যখন কোন ভাবে দখল করতে পারছে না। তাই সাদিয়ার ভূমির পাশে পল্লী বিদ্যুতের কিছু ভূমি থাকায় এই সুযোগে পল্লী বিদ্যুতের এই তিন কর্মচারী কতিপয় মামলার ২য়পক্ষ তাজুল ইসলাম, নভেল ও শফিকুলের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে মামলার ১মপক্ষ এই অসহায় মহিলা ও তার সন্তানদির জীবন জীবিকার শেষ সম্বল এই ভূমিটুকু নিরাপদে নির্বিঘ্নে জবর দখল করে নিতে পায়তারা করছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় মামলার ২য়পক্ষ তাজুল, নভেল ও শফিকুল স্থানীয় ভূমি জবর দখকারীদের পক্ষপাত হয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বর্ণিত ভূমিতে এসে ১ম পক্ষ সাদিয়ার ফলানো ফসলাদি নিতে এমনকি ভূমিতে কাজ করতে নিষেধ করে তারা। সাদিয়া তাদের নিষেধ না মানলে উগ্র মেজাজী দাঙ্গাবাজ পল্লী বিদ্যুতের এই তিন কর্মচারী মামলার ২য়পক্ষগণ ভূমিতে ফলানো ফসলাদি, রোপনকৃত বৃক্ষাদি ভাঙ্গিয়া, কাটিয়া বিনষ্ট করতে চেষ্টা করলে ভূমির মালিক সাদিয়া তাদেরকে বাধা দেয়। এতে সাদিয়ার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সবজি ক্ষেতের বাশে খুটি হাতে নিয়ে তাকে মারপিট করতে আক্রমণ করে। তিনি ভয়ে নিজেকে রক্ষা করতে আত্মচিৎকার করতে থাকেন এবং দৌড়াইয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। সাদিয়ার আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে মামলার ২য়পক্ষগণের রোষানল থেকে সাদিয়াকে রক্ষা করেন।
মামলার ২য়পক্ষ তাজুল, নভেল ও শফিকুল চলে যাওয়া সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে সাদিয়াকে হুমকী দিয়ে যায়, ভূমিতে ফলানো ফসলাদি, বৃক্ষাদি, চাষকৃত মাছ নিতে দিবে না। এমনকি ভূমিতে কাজ করতেও দিবে না এবং ভূমিতে ফলানো ফসলাদি বিনষ্ট করে ফেলবে। বাধা দিলে সাদিয়কে মারপিট সহ প্রাণে হত্যার ভীতি প্রদর্শন করে।
তারা সরকারী চাকুরীজীবী এবং সরকারী লোক হিসেবে এই রকম দুই/চারটি খুন খারাপী করলেও তাদেরকে কিছুই করতে পারবে না বলে প্রকাশ্যে লোক সমাজে প্রচার করতে থাকে। এতে ভূমির মালিক মামলার ১মপক্ষ জাহানারা বেগম সাদিয়া ভয়ে আকস্মিকতায় ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি নিরোপায় হয়ে খুন-খারাপীর মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহায় পেতে এবং তার জীবন জীবিকার শেষ সম্বল ভূমিটুকু বেদখলের হাত থেকে রক্ষা করতে আদালতের দারস্ত হয়েছেন।
এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইল সাদিয়ার পক্ষের ৫নং বার হলের আইনজীবী মহিবুর রহমান বলেন, ভোক্তভোগী সাদিয়ার মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন এবং পল্লী বিদ্যুতের তিন কর্মচারী তাজুল, নভেল ও শফিকুলকে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীন মুরব্বী রেজাউল করিম ছানু ও শেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা শাহিদুল ইসলাম লাভলু বলেন, পল্লী বিদ্যুতের এই তিন কর্মচারীর অপকর্মের কিছু চিত্র ইতিপূর্বে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় ভূমি জবর দখল চেষ্টাকারীদের তারা প্রভাবিত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসহায় মহিলা সাদিয়ার স্বত্ব দখলিয় ভূমি জবর দখল ও ভূমিতে ফলানো ফসলাদি বিনষ্ট করার চেষ্টা সহ সাদিয়াকে হত্যার হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল