শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২২

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩০ সালের
মধ্যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত
—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন এম.পি. বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত। ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, আমাদের স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হবে যেখানে থাকবে না দারিদ্র। যেখানে ধনী গরিবের মধ্যে থাকবে না কোন বৈষম্য, অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা থাকবে এ প্রত্যশায় আছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন এম.পি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ায় আহবান জানিয়ে বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তোমরা এই সময়কে পড়াশোনায় কাজে লাগাতে হবে, তোমাদের প্রত্যেককে এক একটি নক্ষত্র হতে হবে- এফআইভিডিবি’র যেহীন আহমদের মতো, স্যার ফজলে হাসান আবেদের মতো। তিনি বলেন, এফআইভিডিবি জন্ম লগ্ন থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে, শিক্ষাক্ষেত্রে ও দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (১১ই জুন) সন্ধ্যায় সিলেটের খাদিমনগরস্থ এফআইভিডিবি’র যেহীন আহমদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি, যেহীন আহমদ শিক্ষা পুরস্কার, এফআইভিডিবি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরেউল্লেখিত কথাগুলো বলেন।
এফআইভিডিবি’র নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরীর সভাপতিত্বে, এফআইভিডিবি’র সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মনজুরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এফআইভিডিবি’র বর্তমান নির্বাহী পরিচালক বজলে মোস্তাফা রাজী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ইমরুল হাসান, এফআইভিডিবি’র নির্বাহী পর্ষদের সদস্য এডভোকেট এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এফআইভিডিবি’র সমন্বিত আর্থিক সেবা কর্মসূচির পরিচালক রুহেল কবির ও অন্যান্য পরিচালক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

এফআইভিডিবিতে বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি চালু
মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশে
সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব
-ড. এ কে আব্দুল মোমেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘দেশের মানবসম্পদকে কাজে লাগানো গেলে সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। তাই, দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
তিনি গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শহরতলীর খাদিমনগরে ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) আয়োজিত শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বেসরকারি এই সংস্থার উদ্যোগে গতকাল বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১, যেহীন আহমদ শিক্ষা পুরস্কার ও এফআইভিডিবি শিক্ষাবৃত্তির ৩৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এফআইভিডিবি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরীর সভাপতিত্বে যেহীন আহমদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল, অসাম্প্রদায়িক অর্থনীতির সোনার বাংলা গড়ার মিশন গ্রহণ করেছেন। যেখানে ধনী-দারিদ্র্যের আকাশসম পার্থক্য থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘অতিদারিদ্রের সংখ্যা পাঁচ শতাংশের নিচে নামলে দেশ দারিদ্রমুক্ত বলে গণ্য হয়। আমাদের দেশে এখন অতিদারিদ্রের সংখ্যা সাড়ে ১০ শতাংশ। কোভিডের কারণে দারিদ্র্যের হার কমছে না। তবে, আমরা লক্ষ্য বাস্তবায়নে সফল হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুয়েত, রোমানিয়াসহ ইউরোপের বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ লোকবল নিতে আগ্রহী। আমরা সেভাবে লোকবল পাচ্ছি না। অনেক স্কলারশিপও পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে জানে না বলে আবেদন করেন না।’
তিনি শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সময়কে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সময় ‘গোল্ডেন অব গড’ তথা সৃষ্টিকর্তার উপহার। নিজেদেরকে আরও বড় করতে হবে পরিশ্রম ও সময়ের সদ্যবহারের মাধ্যমে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান, এফআইভিডিবি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, নির্বাহী পরিচালক বজলে মোস্তফা রাজী।
তিনি জানান, এ বছর বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১ চালু করা হয়েছে। এজন্য মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত তিনজন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুইজন শিক্ষার্থীকে আগামী চার বছর প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মরহুম যেহীন আহমদের স্মৃতি রক্ষার্থে ‘যেহীন আহমদ শিক্ষা পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়েছে। সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর মেধাবি মেয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে ও শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করতে এই বৃত্তি প্রদান করা হবে। এ বছর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ পাত্র সম্প্রদায়ের একজন মেধাবি শিক্ষার্থীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হবে।
এছাড়াও এফআইভিডিবি’র মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজনকে শতভাগ, পাঁচজনকে ৫০ শতাংশ, পাঁচজনকে ৪০ শতাংশ এবং ২৩ জনকে ৩০ শতাংশ করে তিন বছরে ২০ লাখ ১০ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বৃত্তিপ্রাপ্তদের হাতে চেক তুলে দেন। ভবিষ্যতে এ বৃত্তির পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে জানান আয়োজকরা।
‘বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১’
এফআইভিডিবি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতিগঠন, সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী যারা ¯œাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত তাদেরকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা‘ বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১’নামে অভিহিত হবে।
এই বৃত্তির আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজের ৩জনকে পাঁচ বছর এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২জন শিক্ষার্থীকে চারবছর ‘বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১’ প্রদানের জন্য মনোনিত করা হয়েছে। তাদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের ধারা গতিশীল রাখতে মাসিক ৫০০০/- টাকা হারে সর্বমোট ১৩,৮০,০০০/- (তেরো লক্ষ আশি হাজার) টাকার‘ বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি-২০২১’প্রদান করা হবে।

যেহীন আহমদ শিক্ষাবৃত্তি
এফআইভিডিবি-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মরহুম যেহীন আহমদের স্মৃতি রক্ষার্তে এফআইভিডিবি“ যেহীন আহমদ শিক্ষা বৃত্তি” প্রর্বতন করেছে। সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মেধাবী মেয়ে-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও শিক্ষাকার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এই বৃত্তি প্রদান করা হবে। এই বৃত্তির জন্য ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর গরীব ও মেবাধী মেয়ে-শিক্ষার্থী যারা এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করবে তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে একজনকে এককালীন ২৫,০০০/- টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে।
এফআইভিডিবি শিক্ষাবৃত্তি
এফআইভিডিবি ১৯৮০ সাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, তাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব এবং নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছে। এই লক্ষ্যে দেশে মিডওয়াইফারিদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ০২ জন মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীকে ১০০%, ০৫ জনকে ৫০%, ০৫ জনকে ৪০% ও ২৩ জনকে ৩০% করে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে ০৩ বছরে সর্বমোট ২০,১০,০০০/- (বিশ লক্ষ দশ হাজার) টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল