শেখ হাসিনা দেশ বেচে না, দেশ রক্ষা করতে জানে: প্রধানমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শেখ হাসিনা দেশ বেচে না, দেশ রক্ষা করতে জানে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৭

শেখ হাসিনা দেশ বেচে না, দেশ রক্ষা করতে জানে: প্রধানমন্ত্রী

ভারত সফর নিয়ে বিরোধীদল বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ বিক্রির যে অভিযোগ তুলেছেন তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশ বেচে না। শেখ হাসিনা দেশ বেচে না, দেশ রক্ষা করতে জানে। যারা ক্ষমতায় উড়ে এসে জুড়ে বসে তারাই দেশ বিক্রির চিন্তা করতে পারে। যে দলের জন্ম বন্দুকের নলে, যারা যেভাবে ক্ষমতায় আসে তারা সেভাবেই চিন্তা করে। আওয়ামী লীগের জন্ম বন্দুকের নলের মাধ্যমে নয়। জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় এবং যৌথ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে ভারত সফর থেকে ফেরার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, ভারত থেকে প্রতিরক্ষা খাতে যে ঋণ নেয়া হচ্ছে সেই ঋণের আওতায় কি কেনা হবে সে পছন্দ আমাদের। স্বাধীনভাবে আমরা স্দ্ধিান্ত নেব কি কিনব, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক এই সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে। আমরা কিছু চাইতে যাইনি, বন্ধুত্ব চাইতে গিয়েছিলাম। বন্ধুত্ব নিয়ে এসেছি।

আমি ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করি না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আমি ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করি না। দেশের মর্যাদা আমার কাছে অনেক বড়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের দেওয়া ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নমনীয় ঋণের অর্থ দিয়ে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সামরিক খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নমনীয় ঋণ দেবে ভারত। আমরা যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়কও উন্মোচন করেছি এ সফরে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আমাদের দুই সরকারের আমলেই সম্ভব হবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে মোট ৩৫টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়ে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১১টি চুক্তি ও ২৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৯ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি চুক্তি এবং এমওইউ এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ভারতের গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ দিল্লির ‘পার্ক স্ট্রিট’-এর নতুন নামকরণ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রোড’ উদ্বোধন নিয়েও কথা বলেন হাসিনা।

পরিবহন সেক্টর নিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যৌথভাবে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী রেল ও বাস চলাচল এবং বিরল (দিনাজপুর)- রাধিকাপুর (ভারত) রুটে পণ্যবাহী রেল চলাচলের উদ্বোধন করেছি। একইদিন বিকেলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী/ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদস্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ দিতে নয়া দিল্লির ‘মানেকশ সেন্টারে’ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে এক স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক সদ্য সমাপ্ত সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং বর্তমানে তা এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বাস্তবঘনিষ্ঠ উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আমি নিশ্চিত একসঙ্গে কাজ করলে, এ অঞ্চলের মানুষের জীবন আমরা বদলে দিতে পারব।

তোর্সার পানি তিস্তায় এনে দেওয়ার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছি
তিস্তায় না থাকার কথা বলে তোরশা নদী থেকে বাংলাদেশকে পানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাকে তিনি ওই নদীর পানি তিস্তায় এনে তা দেওয়ার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সফরকালে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মমতা তিস্তার বদলে তোর্সার পানি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। জবাবে আমি বলেছি, তাহলে তোর্সার পানিই তিস্তায় এনে দিন’।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনে আগেও কাজ করেছি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্ক সহজ করে তুলতে আগেও কাজ করেছেন। তিনি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের পক্ষে এ কথা জানিয়ে আরও বলেন, বৈরীতা রেখে আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনায় ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, বিজেপির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি এলকে আদভানি ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনে শেখ হাসিনার মধ্যস্ততার প্রস্তাব দেন। সে বিষয়েই প্রশ্নটি আসে সাংবাদিক সম্মেলনে। এ দায়িত্ব পালনে তার আগ্রহ কতটুকু? সে প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে তিনি তিন-দেশীয় সরকার প্রধানদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তা কিছুটা ফল এনেছিলো।

এছাড়াও ভারত ও পাকিস্তান যখন পাল্টাপাল্টি পারমানবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায় তখনও্ এতদাঞ্চলের সকল দেশই হুমকির মুখে পড়ে। একটা যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন তৈরি হয়, তখনও জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে শেখ হাসিনা কখা বলেন। এই তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি তখন জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই প্রস্তান দেন যে, তিনি ব্যক্তিগত কিছু উদ্যোগ নিতে চান।

সে উদ্যোগ নিয়ে সেবার তিনি পরপর ভারত ও পাকিস্তান সফর করেন এবং তার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহি ভাবটা কমে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, সে কারণেই হয়তো এলকে আদভানি তার প্রস্তাবটি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সমস্যা থাকবে, কিন্তু যুদ্ধংদেহি থাকা মোটেই উচিত নয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল