শোকাবহ আগস্ট, উপমহাদেশের প্রভাবশালী নেতা, বাঙ্গালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এস কে এ্ইচ সাহান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শোকাবহ আগস্ট, উপমহাদেশের প্রভাবশালী নেতা, বাঙ্গালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এস কে এ্ইচ সাহান

প্রকাশিত: ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৬

শোকাবহ আগস্ট, উপমহাদেশের প্রভাবশালী নেতা, বাঙ্গালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এস কে এ্ইচ সাহান

14012161_1286237031395828_622162388_nশোকাবহ আগস্ট, উপমহাদেশের প্রভাবশালী নেতা, বাঙ্গালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। ঐ রাতে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন একটি সুখী-সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তিই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান ও সাধনা। বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর অসীম সাহসী নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রধান প্রেরণাও ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন বঙ্গবন্ধু নতুন করে গড়ে তোলার কাজে ব্রতী হন, তখনই দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই ষড়যন্ত্র কেবল ব্যক্তি মুজিবের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তাঁর আদর্শের বিরুদ্ধে। দুঃখজনকভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা দুই ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে তাঁর অনন্য ও সাহসী ভূমিকা অস্বীকার করা বাংলাদেশকে অস্বীকার করারই শামিল। তাই, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এই মহান স্থপতিকে আমাদের স্মরণ করতে হবে জাতীয়ভাবে, সব সংকীর্ণতা ও দলীয় গণ্ডির বাইরে গিয়ে। বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নন, সমগ্র জাতির। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। দ্য টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’ আমরা মনে করি, তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে, যে সুখী, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তার বাস্তব রূপ দেওয়া। এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়িত হবে এবং ধর্মগোত্রনির্বিশেষে সব মানুষ সম- অধিকার ভোগ করবে। গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই কাজটি করা সম্ভব। অনেক বাধা-বিপত্তির পর দেরিতে হলেও ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। খুনিদের অধিকাংশের দণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, জাতি গ্লানিমুক্ত হয়েছে। এখনো যারা পলাতক রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এই পর্বটির ইতি টানা প্রয়োজন; তাহলেই জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।