সংকীর্ণ রাস্তা, তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত নগর জীবন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সংকীর্ণ রাস্তা, তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত নগর জীবন

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

সংকীর্ণ রাস্তা, তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত নগর জীবন

আবু সুলতান সুবেদ
নালা-নর্দমার উন্নয়নকাজ, নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ, রাস্তা প্রস্তকরণে ড্রেন নির্মাণ, মাটির নিচ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানা, মূল সড়ক সংস্কার করতে রাস্তায় খুঁড়াখুঁড়ি ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর কারণে সংকীর্ণ হয়ে গেছে সড়ক, তীব্র যানজটে ভুগছে নগরবাসী। দীর্ঘক্ষণ যানজটের কবলে পড়ে বসে থাকার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা এড়াতে অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর দক্ষিন সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখ হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বরে রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য খুঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার চর্তুরদিকে সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের কারনে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ।

এছাড়ও যখন-তখন পার্সেলবাহী বড় বড় গাড়ি নগরের কেন্দ্রস্থলের মধ্য দিয়ে চলাচল করায় প্রায়ই যানজট লেগে যায়। নালা-নর্দমার ময়লা পরিষ্কার করার জন্য রাস্তায় তুলে রাখার ফলে কাদা জমে চলাচলের পথে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। যার জন্য কিছু দিন আগেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শাবির সমাবর্তনে এসে তিনি বলেন, আমি সিলেটকে মনে করেছিলাম অনেক সুন্দর, পরিচ্ছন্ন একটা শহর। কিন্তু এখানে এসে আমার মন খারাপ হয়েছে। সিলেটে এসে দেখি রাস্তাঘাটগুলো অপরিচ্ছন্ন। যেখানে সেখানে পলিথিন, কলার ছোলা, কাগজ পড়ে আছে। তিনি সিসিকের কর্মকর্তাদের এব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্য বলেন।

রাস্তার পাশে কাজের পর রেখে যাওয়া কংক্রিট

পরবর্তীতে এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, সিলেট শহরের যেখানেই তিনি যান দেখেন উন্নয়নের জন্য ভেঙে রাখা হয়েছে কিন্তু পরে কাজ শেষ হলেও সেটি ঠিক করার বিচার মেয়র খেয়াল রাখেন না। আমার বিশ্বাস এ বিষয়ে তারা আরো মনযোগী হবেন।

এদিকে নগরীর বারুতখানা পয়েন্টের অদূরের (পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ) বক্স কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের জন্য পুরো রাস্তাই খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও জেলরোড থেকে নাইওরপুল সড়কের আরেকটি কালভার্টও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে জিন্দাবাজার থেকে বারুতখানা ও জেলরোড হয়ে নাইওরপুল পযন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙা কালভার্টের স্থানে লোকজন পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে এগুলো দিয়ে পারাপারের সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট সাঁকোর উপর দিয়েই অনেকে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিয়ে পারাপারের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং কেউ কেউ পার হচ্ছেনও। এতে রয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা। গোলাপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাসুম বলেন, ‘হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে সিএনজি করে দেড় ঘণ্টায় বন্দরবাজার এলাকায় পৌঁছেছি। অথচ এ দূরত্ব আমার ২৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছার কথা। যানজটের কারণে সময়ের দ্বিগুণ-তিন গুণ বেশি লেগেছে।

তীব্র যানজটে যানবাহন চলাচলে যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমনি ওই এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাস্তা বন্ধ থাকায় মানুষের আনাগোনাও বন্ধ হয়ে গেছে, তাই তাদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। এছাড়া পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে জিন্দাবাজার-নাইওরপুল পযন্ত সড়ক বন্ধ করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমারপারা বাসিন্দা রিয়াদ বলেন, এ কেমন বিড়ম্বনা! উন্নয়ন করবেন ভালো কথা, কিন্তু জনসাধারণের সীমাহীন ভোগান্তি ঘটিয়ে কেন? সিসিক র্কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নগরবাসীকে না জানিয়ে এমন কাজ যেন না করা হয়।

সড়ক বাতির আলোয় ক্রিকেট খেলতে বাস্ত কিছু কিশোর

তবে রাস্তা বন্ধ থাকায় লাভ হয়েছে কিছু কিশোরের। বদ্ধ শহরে তারা পেয়েছে এক টুকরো নিরাপদ খেলার জায়গা। সরেজমিনে নগরীর বারুতখানা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধার সময় সড়ক বাতির আলোয় ক্রিকেট খেলতে বাস্ত আশেপাশের বদ্ধ বাসা বাড়িতে থাকা ছেলেরা।

নগরে রাস্তার উন্নয়ন নিয়ে আলাপ হয় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী নূর আজিজের সাথে তিনি প্রতিবেদককে জানান, জিন্দাবাজার থেকে নাইওরপুল পর্যন্ত সড়কের কাজ এক মাসের মধ্যেই শেষ হবে। আর নগরীর বিভিন্ন রাস্তার পাশে কাজের পর বর্জ্যে বা কংক্রিট অপসারনের ব্যাপারে বলেন, আশা করি আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে নগরের এধরনের সমস্য আর হবে না। আমরা দ্রুত অপসারণের ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহন করছি।

এদিকে তীব্র যানজটে জনসাধারণের মত পরিবহন শ্রমিকরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একাধিক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, বন্দর বাজার থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অথচ ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে এপথ পাড়ি দেওয়ার কথা। এতে করে আমাদের উপার্জনে ক্ষতি হচ্ছে। এসময় তারা নগর এক্সপ্রেসকে দোষারোপ করে বলেন, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা কারায় চালকরা তাই প্রায়ই যানজট লেগে যায়। এজন্য যত্রতত্র গাড়ি না থামিয়ে সুনির্দিষ্ট যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্বাচন করার অনুরোধ করেন।

এই বিষয়ে সিসিকের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান জানান, যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা আমরা জেনেছি। এই বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা শীঘ্রই আলাদা যাত্রী ছাউনী করে যাত্রী সেবার দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল