সতর্ক করা হলো ইতিহাস বিকৃতকারী কর্মকর্তাদের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সতর্ক করা হলো ইতিহাস বিকৃতকারী কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২১

সতর্ক করা হলো ইতিহাস বিকৃতকারী কর্মকর্তাদের

সিলেটের দিনকাল ডেস্ক::

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এক রায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

আদালত বলেন, এ ইতিহাস বিকৃতি আমাদের সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। এটা অমার্জনীয় অপরাধ। ফলে রিট আবেদনকারীর মামলা করার যথেষ্ট কারণ ছিল। এরইমধ্যে আদালতের নির্দেশে সব বই সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্টরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম রাজু।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাঈনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ নামক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ছবি না দেওয়ায় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে রিট আবেদন করা হয়। আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করেন।

তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে করা হোক আর অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও তারা বইটি সংগ্রহ করে ধ্বংস করেছেন, আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এ কারণে আদালত অবহেলার জন্য দায়ীদের সতর্ক করে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করেন। তিনি আরও বলেন, তবে ইতিহাস বিকৃতকারীদের অপরাধ ইচ্ছাকৃত নয়। তাদের অপরাধ অবহেলাজনিত। এ কারণে তাদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ওই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি ব্যবহার করা হয়নি। অথচ সেখানে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ড. কাজী এরতেজা হাসান রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর এক আদেশে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন এবং পাশাপাশি রুল জারি করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ বিভাগ) ড. মো. জাফর উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ প্রতিবেদনে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের সত্যতা ফুটে ওঠে। এর কারণ হিসাবে বইটি সম্পাদনা কমিটি এবং গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করা হয়। এর পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে একই বছরের ১২ মার্চ ও ৯ এপ্রিল দু’দফা হাইকোর্টে হাজির হন বইয়ের সম্পাদক ও বাংলাদেশ বাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। আদালতে তিনি হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। এরই ধারাবাহিকতায় ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হলো।