সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক মহানবী (সা.) – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক মহানবী (সা.)

প্রকাশিত: ১:২৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২০

সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক মহানবী (সা.)

আবদুর রশিদ

আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক যুগে সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের প্রতীক রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব ঘটেছিল। আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণকারী এই প্রেরিত পুরুষ তাওহিদি আদর্শ ছড়িয়ে দিয়েছেন কোটি কোটি মানুষের মাঝে। অন্ধকার থেকে তাদের টেনে এনেছেন আলোর পথে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- আল্লাহ মানুষকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে অসংখ্য নবী বা পয়গম্বর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তারা বিভিন্ন জাতি বা গোত্রকে আল্লাহর পথে পরিচালিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পয়গম্বররা মানুষকে আল্লাহমুখী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের পথ বাতলে দিয়েছেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সব নবীর সেরা ও শেষ নবী। পয়গম্বরদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে আল কোরআনে বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সুরা আহজাবের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহ্বায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’ কাজেই একজন নবী হচ্ছেন সাধারণ মানুষের কর্মের সাক্ষী, ভালো কাজের সুসংবাদদাতা, মন্দ কাজের ব্যাপারে সতর্ককারী প্রতিনিধি এবং এমন একজন মানুষ যিনি সাধারণ মানুষকে স্রষ্টার দিকে আহ্বান করেন; যা হচ্ছে চূড়ান্ত লক্ষ্য। অন্য এক জায়গায় নবী-রসুলদের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন। সুতরাং এটা পরিষ্কার, মানব জাতিকে আল্লাহকে চিনতে আহ্বান করা হয়েছে, আর নবী-রসুলগণ হচ্ছেন স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে যোগসূত্র। সুরা হাদিদের ২৫ নম্বর আয়াতে নবী-রসুলদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যরূপে অন্য একটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি নবী-রসুল পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে কিতাব পাঠিয়েছি এবং ন্যায়নীতি যাতে মানুষ ন্যায়বিচারে উদ্বুদ্ধ হয় এবং লোহা পাঠিয়েছি যাতে রয়েছে কঠিন দৃঢ়তা ও মানুষের জন্য কল্যাণ।’

এ আয়াতে ন্যায়বিচার ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব নবী-রসুল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এটা তাদের লক্ষ্যের আরেকটি দিক। হজরত আদম আলাইহিস সাল্লাম থেকে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সব নবী বা পয়গম্বর মানবসমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর পৃথিবীতে কোনো নবী ও রসুল অবতীর্ণ হবেন না। তাঁর প্রচারিত জীবনবিধান হাশরের দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। শান্তি ও সৌহার্দ্যরে প্রতীক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুসারীদের সব ধরনের সংঘাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, হিংসা কোরো না এবং একে অন্যের পেছনে পোড়ো না। আল্লাহর বান্দা সবাই ভাই-ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ত্যাগ করা হালাল নয়।’ বুখারি।

বিশ্বনবী (সা.)-কেই আমাদের আদর্শ হিসেবে মানতে হবে। আল কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে তোমরা আমার অনুসরণ কর, তাহলেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রসুল (সা.)-এর নির্দেশনা মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল