সরকারের সেরা দশে সিলেট বন্ধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন

প্রকাশিত: ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২২

সরকারের সেরা দশে সিলেট বন্ধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন

সরকারের সেরা দশে সিলেট বন্ধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন

সিল নিউজ ডেস্ক

অগ্রগতি আর সাফল্যের তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বছরে পা রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। করোনা সঙ্কটসহ আকাশছোঁয়া নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে।

ওই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারের শীর্ষ দশজনের নাম ওঠে এসেছে সাধারণ মানুষের সামনে। এদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয়তে আছেন স্পিকার শিরিন শারমিন ও তৃতীয় অবস্থানে ওঠে এসেছে সিলেটের কৃতীসন্তান ও সিলেট-১ আসনের এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের নাম।

সব মেয়াদেই সফল পিতা মুজিবের কন্যা। ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সক্ষমতার নতুন সোপানে আলোর দেখা দিয়েছেন দেশকে। দেশবাসীর অকুন্ঠ ভালোবাসা আর নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছেন। পদ্মার বুক চিতিয়ে গর্ব করে দাঁড় করিয়েছেন নিজেদের সক্ষমতার পদ্মাসেতু। শুধু দেশে নয় মহাকাশে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের উন্নয়নের নজির। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নামে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক ছোট্ট দেশটি। এমন সব মহাযজ্ঞ আগে কখনও দেখেনি ৫০ বছরের বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকারের দায়িত্বশীলদের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ কষছে দেশের সাধারণ মানুষ। জনভাষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এমন কয়েকজন রাজনীতিকের নাম উঠে এসেছে সফলতার তালিকায়। তাদের সার্বিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

শেখ হাসিনা : সংগ্রামমুখর জীবনে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে শুধু সরকারপ্রধান হিসেবেই নয়, বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছেন। করোনার ভেতরেও জীবন-জীবিকা সচল রেখেছেন। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশকে।

করোনার গণটিকা প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মানবিক সেবাসহ সব কিছুই সামাল দিয়েছেন শক্ত হাতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা, মাথাপিছু আয়, হাতে হাতে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের দৌলতে পাল্টে দিয়েছেন জীবনমান।

সরকারপ্রধানের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে মেগা প্রকল্পগুলোরও নির্মাণকাজ। দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে।

বিশ্বের সবচেয়ে সৎ সরকারপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের সেরা ৫ নীতিমান নেতার একজনও তিনি। দল, সরকার এবং দেশেরও একমাত্র প্রাণভোমরা মুজিবকন্যাই। ৭৫ পরবর্তী দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সফল রাজনীতিক ও সরকারপ্রধান হিসেবেও একবাক্যে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম।

২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মতো জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। এর আগে ২০০৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর নবম জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল সরকার। অনেক কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে সফল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী : সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন স্পিকার। সংসদকেন্দ্রীক রাজনীতিতেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য। একটি সংসদকে অর্থবহ, কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেন এই ‘সংসদ অভিভাবক’। এমন প্রেক্ষাপটে টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ পরিবার থেকে উঠে আসা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির শিরীন শারমিনের প্রতি আপত্য স্নেহ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মতোই তাকে স্নেহ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। প্রতিটি ভোটে ড.শিরীন শারমিনকে নিজের মেয়ে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার পক্ষে রংপুর-৬ আসন থেকে ভোট চেয়েছেন শেখ হাসিনা।

দেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার ড.শিরীন সততা, বিনয় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমকালীন রাজনীতিতে অনন্য এক উদাহরণ। বিতর্ক কখনও তাকে স্পর্শ করেনি। কর্মদক্ষতার মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থা অর্জন করেছেন। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে সাফল্যের সঙ্গেই সংসদ পরিচালিত করছেন। সব পরিমন্ডলেই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাঁর।

ড.এ কে আবদুল মোমেন : সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরীতা নয়’ বন্ধুত্বপূর্ণ এই সহাবস্থান নিশ্চিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোটা দাগেই বাস্তবায়ন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি বহুপাক্ষিকতাবাদ ও শান্তির কূটনীতির মাধ্যমে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ।

প্রোপাগান্ডা ঝড়ের মুখেও তেড়েফুঁড়ে কথা বলাটা ধাঁচে নেই তাঁর। যুক্তির নিরিখে তথ্যনির্ভর উপস্থাপনায় কথা বলেন প্রতিনিয়ত। শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এ বিষয়ে তোলপাড় সৃষ্টির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোনালাপ করেছেন তাঁর সঙ্গে। ড.মোমেনও সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য মার্কিন সরকারকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন। বিশ্বের সব দেশেই হিউম্যান রাইটস লঙ্ঘিত হচ্ছে। অনেক দেশে এই লঙ্ঘনের হার অনেক বেশী। তবে বাংলাদেশকে চিন্তিত করার প্রধান কারণ হচ্ছে-মহল বিশেষের পরিকল্পিত অপপ্রচার। র‍্যাবকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে। দেশটির বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করেছে। র‌্যাবের ইনকোয়ারি সেলও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত। এই ইনকোয়ারি সেলের কর্মদক্ষতাও দীর্ঘ সময় তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এরপরেও প্রশিক্ষণে কোন দুর্বলতা থাকলে অবশ্যই সেটি দূর করা হবে বলেও লিখিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের ভিত্তিতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও জোরালোভাবে উচ্চারণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে যেখানে তদবির করা দরকার সেখানেই তদবির করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে র‌্যাবের ঈর্ষণীয় সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন করেছেন ড. মোমেন। ফলশ্রুতিতে সেখানকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্বীকার করেছে র‌্যাব বাংলাদেশে সন্ত্রাস বহুলাংশে কমিয়েছে এবং দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল : রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-রমনা) এলাকার টানা তিনবারের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। দেশের অন্যতম সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করেছেন। কথা বার্তাতেও বরাবরই বাক-সংযমের পরিচয় দিয়েছেন।

নিজ মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবেও নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন ভদ্র ও বিনয়ী এই মন্ত্রী। নিজের সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণাকেই বড় ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেছেন বারবার। নিজের ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। যেকোন সঙ্কটে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রীর আস্থায় নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন। দীর্ঘ সময় ধরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভার তার কাঁধেই।

মো.তাজুল ইসলাম এমপি : নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গেই স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো.তাজুল ইসলাম এমপি। জনমানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই তিনি রাজনীতি করেন। বাৎসরিক ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতার আওতায় আনতে ‘রাউন্ড দ্য ক্লক’ কাজ করছেন।

কোন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপনের পরপরই বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আবার, তিনি ভালো কাজ করা জনপ্রতিনিধিদের উৎসাহিতও করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এই মন্ত্রী।

ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদ ও পৌরসভার খসড়া সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদে পাশ হয়েছে। তিনি দায়িত্বগ্রহণের সময় মাত্র ৩৮ টি পৌরসভা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারলেও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে এখন বেশিরভাগ পৌরসভাই কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে।

সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও দক্ষ ক্রাইসিস ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করেছেন। সততা ও বিচক্ষণতার জন্যই প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। ২০২১ সালের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করেন। নিজ মন্ত্রণালয়ের বাইরে এই দায়িত্বেও সফল স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে ড্যাপ চূড়ান্ত হয়েছে। এখন অপেক্ষায় রয়েছে গ্যাজেটের।

ড.হাছান মাহমুদ : দল ও সরকারে সমানতালেই কাজ করে চলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ। বীর চট্টলার এই সন্তান একজন ছাত্রনেতা থেকে জননেতায় রূপান্তরের এক প্রতিকৃতি। করোনা পরিস্থিতিতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছেন। নিজের স্বকীয় উদ্বাবনী ও মেধার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে অন্য পেশার মতো অসহায় হয়ে পড়া গণমাধ্যমকর্মীদেরও অভিভাবকত্বের ছায়ায় আগলে রেখেছেন। বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল প্রদানের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিকদের নগদ প্রণোদনারও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এম এ মান্নান : এক সময় দাপুটে আমলা ছিলেন। রাজনীতিক হিসেবেও কুড়িয়েছেন সুনাম। তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। একবার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এখন পালন করছেন পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব। সরল, সাহসী আর তীক্ষ্ন বৃদ্ধিসম্পন্ন সাদামাটা নির্ভেজাল এক জীবনের অধিকারী। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মন্ত্রী। তাঁর ওপর প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ আস্থায় প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। হাওরাঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে মিলেমিলে একাকার করেছেন নিজেকে। জনকল্যাণকেই ব্রত মনে করে দিনরাত কাজ করেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে তাঁর রয়েছে অতুলনীয় অবদান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনায় সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘হাওর রত্ন’।

শ ম রেজাউল করিম : মৎস্যখাতের পাশাপাশি প্রাণী সম্পদেও তাঁর নেতৃত্বে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। করোনায় প্রান্তিক খামারিদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর পদক্ষেপ ছিল যুগান্তকারী। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। প্রথমবার গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে আলোচিত হয়েছিলেন।

পরিশ্রমী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম করোনাকালে আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে ভিন্নভাবে মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি খামারিদের রক্ষায় দশজুড়ে চালু করেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় কর্মরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্যোগে পরিচালিত হয় এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। এর মাধ্যমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন মন্ত্রী।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশের খামারিরা নিজেদের মৎস্য ও প্রাণিজ পণ্য ন্যায্যমূল্যেই বিক্রি করছেন। মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রান্তিক খামারিরা উপকৃত হয়েছেন। করোনায় জীবন-জীবিকা থমকে দাঁড়ানো স্বল্প আয়ের মানুষেরাও এর সুফল ভোগ করেছেন। কাজ করতে পারলে মন্ত্রণালয় কোন ফ্যাক্টর নয়, এর একটি বড় উদাহরণও তৈরি করেছেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ফরহাদ হোসেন : একজন দক্ষ ও মেধাবী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন ফরহাদ হোসেন এমপি। নিজের দায়িত্বের প্রতি শতভাগ আন্তরিক তিনি। করোনা পরিস্থিতিতেও তিনি সদা তৎপর ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামাতে দিন-রাত কাজ করে গেছেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চিন্তা-চেতনা, মননশীলতায় ও মেধায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিবেদিত থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলার মিশনেও অগ্রভাগেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। যথাযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবেই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছেন। জেলা প্রশাসক নিয়োগে বিতর্ককে শুন্যতে নামিয়ে এনেছেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের এই সন্তান।

জুনাইদ আহমেদ পলক : ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এই স্বপ্নকে আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফলতার নজির তৈরি করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রযুক্তিকে মুঠোভর্তি করতে তিনি প্রযুক্তিখাতে তারুণ্যনির্ভরতাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রসৈনিক প্রতিমন্ত্রী পলক। প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

সূত্র : কালের আলো

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল