সরে দাঁড়ালেন আকবরের আইনজীবী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সরে দাঁড়ালেন আকবরের আইনজীবী

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০

সরে দাঁড়ালেন আকবরের আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মিসবাউর রহমান আলম। বৃহস্পতিবার এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন মিসবাউর।

মানুষের বিরূপ মন্তব্য ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মো. মিসবাউর রহমান আলম।

এরআগে গত ১০ ডিসেম্বর আকবরের পক্ষে আইনী লড়াই চালানোর জন্য ওকালতনামা জমা দেন মিসবাউর।

যদি রায়হানের মৃত্যুর পর তার বাড়িতে গিয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা জানিয়েছিলেন, এই মামলায় আসামিদের পক্ষে সিলেটের কোনো আইনজীবী লড়াই করবেন না।

আইনজীবী সমিতির নেতাদের এমন বক্তব্যের পর রায়হান হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আকবরের পক্ষে মিসবাউর ওকালতনামা জমা দেওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনলাইনে অনেকেই এই আইনজীবীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

মো. মিসবাউর রহমান আলম বলেন, কেবল আমাকে নিয়ে নয়, আমার সিনিয়র আইনজীবী এবং আমার পরিবার নিয়েও অনেকে বাজে মন্তব্য করেন। যা অনভ্রিপ্রেত ও অনাকাঙ্খিত। আমিসহ আমার পরিবারকে যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে না হয় তাই এই মামলা থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির এই সদস্য বলেন, অধিক অর্থ প্রাপ্তি নয় বরং পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই মামলাটি গ্রহণ করেছিলাম। হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইনের মামলাটি আমার কাছে ছিল একেবারেই নতুন ধরনের এবং চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, আইনী সেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে দন্ডিত করা যায় না। এরকম মামলায় আসামী আইনজীবী নিয়োগে অক্ষম হলে রাষ্ট্র তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য। কোন কারনে যদি আসামীপক্ষ আইনজীবী পেতে ব্যর্থ হয়, তবে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। বিচার প্রার্থীই তাতে বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই দৃষ্টিকোন থেকে আকবরের পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত হতে আমি সম্মত হই। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু মানুষের চরম নেতিবাচক ও অশালীন মন্তব্য আমাকে হতাশ করেছে। আমার কারণে আমার সিনিয়র আইনজীবী বা আমার পরিবার স্থুল আক্রমণের শিকার হোক তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই আমার সিনিয়র এবং পরিবারকে অশালীন ও স্থুল আক্রমন হতে রক্ষার স্বার্থে আকবরের পক্ষে আইনী লড়াই হতে বিরত হলাম।

গত ১১ অক্টোবর সকালে মারা যান নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪)। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার।

মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এই ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান বন্দরবাজার থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর হোসেন ভূঁইয়া।

গত ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে।

এই মামলায় আকবর ছাড়াও তিন পুলিশ সদস্য জেল হাজতে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ বব্যুরো অব ইনভেস্টেশন (পিবিআই)।