সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও ধান কাটতে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও ধান কাটতে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৬

সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও ধান কাটতে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনি কল কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে লাগানো ধান সাঁওতালদের কাটতে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি রিটের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণাদেব নাথের সম্বন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনালের মোতাহার হোসেন সাজু।

এ সময় সাঁওতালদের জানমাল রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

এ ছাড়া আদালত ওই এলাকার চিনি কল কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে সাঁওতালদের লাগানো ধান তাদের কাটতে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ ওই ধান কেটে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্টদের ওই ধান ফেরত দিতে হবে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বুধবার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের তিনটি সংগঠন যৌথভাবে এ রিটটি করে। কোন কর্তৃত্ব বলে সাঁওতালদের ওপর পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে রিটে তা জানাতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের ক্ষতিপূরণে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, গাইবান্ধার ডিসি, এসপি ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ আখ খামারের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৬ নভেম্বর সেখানে বাস করা প্রায় আড়াই হাজার সাঁওতাল বসতি পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাঙালি-পুলিশ ও সাঁওতালদের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সাঁওতাল আহত হন। মামলা করা হয় শতাধিক সাঁওতালের নামে। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল