সাইবার হামলার শঙ্কা ভাইরাসের কৌশল আবিষ্কার, এ সপ্তাহেই অকেজো – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সাইবার হামলার শঙ্কা ভাইরাসের কৌশল আবিষ্কার, এ সপ্তাহেই অকেজো

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

সাইবার হামলার শঙ্কা ভাইরাসের কৌশল আবিষ্কার, এ সপ্তাহেই অকেজো

অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার হামলা চালানোর মতো ম্যালওয়ার ভাইরাসের অবস্থান শনাক্ত করার পর এটিকে অকেজো করতে কাজ শুরু করেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। টানা আট দিন কাজ করার পর তারা ভাইরাসটি কীভাবে আক্রমণ করতে পারে সে কৌশল আবিষ্কার করেছেন। এখন ভাইরাসটির কার্যকারিতা অকেজো করা সহজ হবে।

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এটিকে ব্লক বা অকেজো করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। অনেকে বলেছেন, আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যেই অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি থেকে ভাইরাসটিকে ক্লিন করা যাবে।

সূত্র জানায়, ভাইরাসটি অকার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সতর্কতা হিসেবে ব্যাংকগুলো এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক নিজস্ব কার্ড ছাড়া অন্য ব্যাংকের বা আন্তর্জাতিক কার্ডের লেনদেন স্থগিত করেছে। প্রতিটি ব্যাংকই তাদের অনলাইন লেনদেনের সফটওয়্যারকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করছে। ভাইরাসটি অকেজো হলে স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরে যাবে ব্যাংকগুলো।

এদিকে বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে সাইবার হামলা হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেশন ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এফবিআইয়ের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে জানতে বিশদভাবে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাইবার গোয়েন্দারাও কাজ করছেন।

দেশে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অনলাইন সিস্টেমসে একটি ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার বা ভাইরাসের সন্ধান পায় বিসিসি। সঙ্গে সঙ্গে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এ ব্যাপারে সতর্ক হয়ে উঠে। অনলাইন লেনদেন সীমিত করা হয়। একইসঙ্গে আরোপ করা হয় বাড়তি সতর্কতা। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অনেক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিজস্ব কার্ড ছাড়া অন্য ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্ডের লেনদেনেও সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে। আগে এটিএম বুথগুলো সারারাত খোলা থাকত। এখন জনবহুল এলাকায় খোলা থাকে রাত ১১টা পর্যন্ত। জেলা বা উপজেলা শহরে রাত ৮টার পর বন্ধ করে দেয়া হয়। এটিএম বুথে লেনদেনের সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। অনেক বুথের ওপর গোয়েন্দাদের নজরদারিও রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ বলেন, ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি নিয়ে সাইবার ল্যাবে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এটি কীভাবে আর্থিক খাতে হামলা চালাতে পারে তার কৌশল আবিষ্কার করা হয়েছে। ফলে এটিকে অকেজো করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি- আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে এটিকে ব্লক করতে পারব।

ভাইরাসটি ব্লক হয়ে গেলে আর্থিক খাতে অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ভাইরাসটি অকেজো করতে বা অনলাইন লেনদেন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মান আরও শক্তিশালী করতে ব্যাংকগুলো দিনরাত কাজ করছে। ছুটির দিনেও তারা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এখনও কোথাও ভাইরাসটি হামলা চালাতে পারেনি। তারা আশা করছেন, আর হামলা করতে পারবে না।

অনলাইন লেনদেনে ভাইরাসটির কার্যকারিতা অকেজো করতে কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে দেয়া গাউডলাইন অনুযায়ী কাজ করছে ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।

ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি দিয়ে অনলাইন সিস্টেমসের গোপনীয় তথ্য যেমন চুরি করা সম্ভব, তেমনি গ্রাহকের লেনদেনের নির্দেশনাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়াও যায়। ফলে গ্রাহক যেখানে টাকা স্থানান্তর করছেন সেখানে না গিয়ে অন্যত্র চলে যাবে। একইভাবে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ইউজার নেমসহ গোপনীয় তথ্য চুরি করে সহজেই টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। অনলাইন ব্যবস্থা হ্যাক করে এর আগে বেশ কয়েক দফা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাত হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বৈদেশিক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তারা বলেছে, উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এর নেপথ্যে থাকতে পারে। এ লক্ষ্যে গ্রুপটি আর্তিক খাতের অনলাইন সিস্টেমসে ম্যালওয়্যার ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে। এটি কেউ ক্লিক করলেই ভাইরাসটি কার্যক্রম শুরু করবে। সে কারণে এটিতে কোনো ধরনের ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে এফবিআই।

তারা আরও বলেছে, হ্যাকার গ্রুপটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা শক্তিশালীভাবে সাইবার হামলা চালাতে পারে। তাদের হামলায় অনলাইন সিস্টেমস তছনছ হয়ে যেতে পারে।