সাধারণ ছাত্রদের মারধর, অধ্যক্ষের নিরব ভূমিকা, শনিবার ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সাধারণ ছাত্রদের মারধর, অধ্যক্ষের নিরব ভূমিকা, শনিবার ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

সাধারণ ছাত্রদের মারধর, অধ্যক্ষের নিরব ভূমিকা, শনিবার ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন

মো.নাঈমুল ইসলাম::

সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট নয় যেন নির্যাতন করার এক আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সাধারণ ছাত্রদের ক্লাস করা থেকে শুরু করে এক অতিরঞ্জিত কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়। ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের দখলে রয়েছে ইন্সটিটিউট’র ক্যাম্পাস এমনকি কর্তৃপক্ষও। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই অধ্যক্ষের। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল ১১ টা ৩০ ঘটিকার সময় কয়েকজন সাধারণ ছাত্রদের মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যাদের দখলে রয়েছে সুরমা ছাত্রবাসও। শুধু একদিন নয় ছোট ছোট কারণ নিয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করে। ফ্যানের সুইচ দেয়া থেকে শুরু করে, ইন্সটিটিউট’র পুকুরঘাটে শহীদ মিনারে বসা এমনকি ইন্সটিটিউট’র ইউনিফর্ম পরিধান করা নিয়ে।
এর আগে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র রাজিব, সিভিল বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের ছাত্র শফিকুর, কম্পিউটার বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র ইকবাল, কম্পিউটার বিভাগের ৩য় পর্বের ছাত্র সুস্ময়, পলাশসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের তারা হয়রানি এবং মারধর করে। বৃহস্পতিবারও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ৩য় তলায় ১ম পর্বের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমরা দেখি সংখ্যালঘু ছাত্ররা মিলে কয়েকজন ছাত্রদের বিভিন্নভাবে মারধর করে। এমনকি চেয়ার দিয়েও আঘাত করা হয় তাদেরকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ ছাত্ররা কলেজ ইউনিফর্ম নিয়ে না আসায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে আঘাত করে। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অস্বীকার করে বলে, ঘটনাটি আমাদের হলের নিজেদের মধ্যে হয়েছে। বেলা আনুমানিক ১টা বাজে কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঐ তিনজন ছাত্রকে বাহিরে নিয়ে আসেন। তখন তাদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, ছাত্রলীগের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীরা ইন্সটিটিউট’র ইউনিফর্মের অজুহাত দেখিয়ে আমাদের উপর হামলা। প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের কাছে টাকা দাবি করে। আমরা দিতে মানা করলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের এমনভাবে পিটিয়েছে আমাদের হাত পা অচল হয়ে পড়েছে।

 

সাধারণ এক ছাত্র জানান, অধ্যক্ষ স্যার ছাত্রলীগকে ভয়ের কারণে ইচ্ছাকৃত ভাবে বার বার ইন্সটিটিউট’র সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনার মত এই ঘটনাকেও ধামাচাপা দিতে চাই ছিলেন। যেসব ছাত্ররা হামলায় আহত হয় তাদেরকে প্রায় তিনঘন্টা উনার রুমে বন্দি করে রাখেন। যাতে ঘটনাটি বাহিরে না যায়। পরে হঠাৎ আমরা যখন দেখি অধ্যক্ষ স্যার হাত পা ভাঙ্গা অবস্থায় তাদেরকে ৩০০ টাকা দিয়ে গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন তখন আমাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহের মনে হয়। এ নিয়ে আমরা সাধারণ ছাত্ররা উনার রুমে যাই এবং উনার কাছে বিচার চাই।

 

এক পর্যায় দ্বিতীয় শিফটের সব শিক্ষার্থী এবং ঘটনাচক্রে যেসব শিক্ষার্থীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলো তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল দিতে থাকে এবং ক্লাস বর্জন করে।

 

এর আগে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্চিত হওয়া কম্পিউটার ৫ম পর্বের ছাত্র ইকবাল জানান, আমাকেও বেশ কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীরা দা, জিআই পাইপ, হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে হামলা করে আঘাত করে। অধ্যক্ষ মহোদয়ের রুমের সামনে মাটিতে ফেলে আমাকে প্রচন্ড লাথি দিচ্ছিল। অধ্যক্ষ স্যার সেটি দেখে রুম বন্ধ করে ভিতরে বসে নিরব ভূমিকা পালন করেন।

 

এসব কিছুর পরও কর্তৃপক্ষের এখন পর্যন্ত রয়েছে নিরব ভূমিকা। তাই সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের সময় ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে।

 

এই বিষয়ে ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। এবিষয়ে বিকাল ৩ ঘটিকার সময় মিটিং আহবান করেছি। আপনি সন্ধ্যার পর আমাকে ফোন দিলে বিস্তারিত বলতে পারব। এসময় আহত শিক্ষার্থীদের নাম চাইলে অধ্যক্ষ জানেন না বলে জানান। অধ্যক্ষের সাথে প্রতিবেদকের আলাপ কালে উপস্থিত ছিলেন ইন্সটিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল এবি আমিনুল ইসলাম, শিক্ষক আব্দুর রউফ, মাসুদুর রহমান, আবুল হাশেম, মাহবুবুর রহমান।

 

সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় সমগ্র ইন্সটিটিউট সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত। যা অধ্যক্ষ নিজ রুম থেকে বসে দেখেন। ঘটনা ঘটার পর তিনি পরে জেনেছেন বলে জানান। তাহলে কি সিসি ক্যামেরাগুলো কলেজের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য সরকারী টাকা খরচ করে লাগানো হয়েছে এখন শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন।
মিটিং’র সিদ্ধান্ত জানতে অধ্যক্ষের ব্যবহারিত ০১৫৫২৪৬৯৪৯৮ ও ইন্সটিটিউট’র ০৮২১৭১৬৩৭২ নাম্বারে বার বার ফোন দিলে রিসিভ না করায় এসএমএস প্রেরণ করেন প্রতিবেদক। তারপরও ফোনের রিং হলেও রিসিভ করেন নি তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল