সাবেক সফল ছাত্রনেতাদের দায়িত্বে সিলেট যুবদল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সাবেক সফল ছাত্রনেতাদের দায়িত্বে সিলেট যুবদল

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৯

সাবেক সফল ছাত্রনেতাদের দায়িত্বে সিলেট যুবদল

পরিশ্রমী আর ত্যাগীদের দিয়েই যেন পূর্ণাঙ্গ হয় সিলেট যুবদল : নজিব ও পাপলু
নিস্তুব্দ যুবদলকে সতেজ করতে হবে : মকসুদ ও তারেক

মো.নাঈমুল ইসলাম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভ্যানগার্ড যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। ধারাবাহিক পরিক্রমায় ছাত্রদল পরবর্তী তরুণ যুবদের স্থান হল যুবদল। তবে রাজনীতিতে আশ্চর্য্যের বিষয় হল যাদের যুবদলে থাকার কথা তারা করছেন ছাত্রদল, যাদের বিএনপিতে থাকার কথা তারা করছেন যুবদল বা সেচ্ছাসেবকদল। এভাবেই বিগত ১৯বছর কমিটি ছিলো সিলেট যুবদলের। শুধু তাই নয় হামলা-মামলার ভয়ে অনেকে রাজনীতি থেকে সরে যান। আওয়ামী লীগের টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় হামলা-মামলার ভয়ে মাঠে নামতে না পারায় ঝিমিয়ে পড়ে সিলেট যুবদল।
জানা যায়, ২০ বছর আগে সিলেট জেলা যুবদলের কাউন্সিলের মাধ্যমে কামাল আহমদকে সভাপতি ও তালাত আজিজকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন যুবদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরে সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি কামাল আহমদ স্বেচ্ছায় তার পদ থেকে সরে যান। সাধারণ সম্পাদক তালাত আজিজ স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিলেট জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদল পূর্ণাঙ্গভাবে আব্দুল মান্নানকে সভাপতি ও মামুনুর রশীদ মামুনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। এই কমিটি দিয়েই চলছিল যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ ৩ বছর। কিন্তু এক্ষেত্রে সংগঠনটির এই কমিটির মেয়াদ ২০ বছর পার হলেও আগের কমিটিই বহাল ছিল। বিগত কয়েকদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ইকবাল বাহার চৌধুরীকেও। ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশন হওয়ার আগে শহর যুবদল বলে একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই কমিটিতে এমদাদ হোসেন টিপুকে সভাপতি ও মঈন উদ্দীন সোহেলকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০০২ সালে গঠিত হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। মহানগর হলেও এই শহর যুবদল নামে কমিটি ছিল প্রায় ১৭ বছর।
কমিটি আসছে, আসবে এই ভেবে যুবদলের তৃণমূলে বিরাজ করছিল চরম হতাশা আর বিভক্তি। নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন নতুন নেতৃত্বের। যুবদলের অস্তিুত্ব নিয়ে ছিল টানাপোড়েন। দীর্ঘদিনের বাঁধা-বিপত্তি, গ্রুপিং উপেক্ষা করে অবশেষে আলোর মুখ দেখলো সিলেট যুবদল। আহবায়ক কমিটি আসলো সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের।
তৃণমূল ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর পর যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা সবাই যুবদলের জন্য যোগ্য এবং তারা সবাই ত্যাগী, সাবেক সফল ছাত্রনেতা। আশা করছি তারা যুবদলের পুরনো অস্তিুত্ব ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন। ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছিল কার্যক্রম। ভারমুক্ত হল সিলেট যুবদল।
তৃণমূলের সেই কথা ধরেই সাবেক যেসব ছাত্রনেতাদের দায়িত্ব দিল যুবদল। সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। ছিলেন ছাত্রদল জকিগঞ্জ থানার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, সিলেট সরকারী কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর শাখার সাবেক সহ সভাপতি, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সভাপতি। জেলার সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ। ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মহানগরের আহবায়ক নজিবুর রহমান নজিব। ছিলেন ছাত্রদল সিলেট মহানগরের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। মহানগরের সদস্য সচিব শাহ নেওয়াজ বক্ত তারেক। মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এরা প্রত্যেকেই তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাবেক ছাত্রনেতা। তবে বিএনপি ঘরানার রাজনীতিবীদ যারা তাদের কাছে একটিই প্রশ্ন তারা কি ফিরিয়ে আনতে পারবে সিলেট যুবদলের পুরনো অস্তিুত্ব। তারা কি সফল হতে পারবে।
আলাপকালে দুই আহবায়ক নজিবুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, শুধু পদ নিয়েই যদি বসে থাকি তাহলে হবে না। আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব আমাদের ভালোভাবে পালন করতে হবে। বিগত দিনে যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল তারা কোনোভাবেই যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে চাইতো না। কারণ ছিল যুবদলে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য ছিল না। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই ছাত্রদলের যারা আছে তাদের মধ্যে একটা উচ্ছ্বাস এসেছে। তারা সবাই আমাদের পাশে আসছে। আমরাও চাই যারা ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা, পরিশ্রমী তাদেরকে দিয়েই যেন যুবদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়।
আলাপকালে দুই সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ ও শাহ নেওয়াজ তারেক জানান, দল মূল্যায়ণ করেছে আমাদেরকে দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করতে হবে। ছাত্রদলের যারা রয়েছে তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যুবদলকে সতেজ করতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে সিলেট যুবদল নিস্তুব্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদেরকে তার পুরনো অস্তিুত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। অনেকেই হামলা-মামলার ভয়ে রাজনীতি থেকে সড়ে গেছেন। আমাদেরকে মেধাবীদের মূল্যায়ণ করতে হবে। ছাত্রদলে যারা মেধাবী রয়েছে তাদেরকে সাহস জুগাতে হবে। আমরাও একসময় ছাত্রদল করেছি। বয়সের চাইতে বেশি সময় কেউই ছাত্রদলে থাকতে চায় না। সবাই চায় ছাত্ররাজনীতি থেকে যুব রাজনীতিতে আসতে। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতাল সালাউদ্দিন টুকু সিলেট যুবদলের এই দুটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন।