সারা বছরের আস্থা ঢাকায় ফিকে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সারা বছরের আস্থা ঢাকায় ফিকে

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮

সারা বছরের আস্থা ঢাকায় ফিকে

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পায় দেশ। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর হলো আজ। আগের কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন যে অনাস্থা তৈরি করেছিলেন তা পূনরুদ্ধারে চেষ্টায় এক বছর কেটেছে বর্তমান কমিশনের। কুমিল্লা ও রংপুর সিটিসহ কিছু স্থানীয় নির্বাচনে সফল হুদা কমিশন। তবে ঢাকা সিটি নির্বাচন আটকে যাওয়ায় ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে ইসির সারা বছরের অর্জন ঢাকায় এসে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরগতি ও সংশয় তৈরি করছে।

বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটিকে। এর আগে ছয়টি সিটি করপোরেশনে ভোট হবে। তাই এ বছর হবে ইসির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এ দিকে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অভিভাবক বা নির্বাচন কমিশনারদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) এস এম আসাদুজ্জামান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাসহ সব কমিশনারদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরে কমিশনের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা কাজ করছি। আমরা যেসব কাজ করেছি তার মূল্যায়ন করবে দেশের মানুষ। তবে আমরা সংবিধান, আইন ও বিবেক অনুযায়ী সঠিক কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। আমরা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাবো।’

গত এক বছরে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অর্জন:

নিজস্ব সচিবালয়ে ইসি

দীর্ঘ ৪৩ বছর পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য নিজস্ব সচিবালয় পেয়েছে ইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত ১১ তলাবিশিষ্ট সুদৃশ্য এ ভবনে অফিস করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্য কমিশনাররা। পাশাপাশি ইসি সচিবালয়ে কর্মকর্তারাও প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন এখানে। এর আগে স্থায়ী কোন সচিবালয় ছিল কমিশনের।

ইসির ‘রোডম্যাপ’

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৬ জুলাই একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সমানে রেখে কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করে। ভোটের আগে সংসদ নির্বাচনের অন্যতম পাঁচটি অনুষঙ্গকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৮ সালের অগাস্টের মধ্যে সেসব কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। রোডম্যাপে ৭টি কর্মপরিকল্পনা রাখে কমিশন।

সফল সংলাপ

রোডম্যাপ অনুযায়ী গত বছরের ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, নারীনেত্রীসহ নির্বাচনী অংশীজনদের সাথে সংলাপ করে ইসি। সংলাপে নিবন্ধিত ৪০টি দল অংশ নেয়। এসব দল থেকে ৫৩১টি সুপারিশ পেয়েছে ইসি। সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলো নির্বাচনকালীন সরকার ও সেনা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার মতো প্রস্তাব ইসির কাছে রেখেছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির এখতিয়ারের মধ্যে থাকা অভিন্ন সুপারিশ রয়েছে বেশি।

স্থানীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশনের অধীনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অংশগ্রহণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ছিল প্রথম বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। কুমিল্লায় সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে সক্ষম হয় কমিশন। এ ছাড়া গত বছরের ২১ ডিসেম্বর কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিজয়ী হয়েছে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী। তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণে ব্যর্থতা

ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মধ্যে সংসীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের কথা ছিল। কিন্তু এখানো সীমানা পুনর্নির্ধাণ সম্পন্ন করতে পারেনি কমিশন। সংলাপের সময় বিএনপির দাবি ছিল সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, বর্তমান সীমানাতেই নির্বাচন করা।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্থগিত

আইনি জটিলতার সমাধান না করে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের তফসিল ঘোষণা করায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন। বর্তমানে আদালতের রায়ে ওই নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে একে একে কমিশনের অন্য চার সদস্যকে শপথ করান। পরে তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শপথ শেষে প্রধান বিচারপতির চা চক্রে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

শপথের মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। এই কমিশনের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ আগামী পাঁচ বছর বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই কমিশনের সদস্যরা আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান। সিইসির সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন চার নির্বাচন কমিশনার সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী।