সিটি নির্বাচন: আচরণবিধির সাথে এ কেমন আচরণ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিটি নির্বাচন: আচরণবিধির সাথে এ কেমন আচরণ!

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

সিটি নির্বাচন: আচরণবিধির সাথে এ কেমন আচরণ!

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে; প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণাও বাড়ছে। রাজধানীতে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের প্রচারে আচরণবিধি পুরোপুরি মানছেন না প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা।

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ বলছে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। বেলা ২ টার আগে এবং রাত ৮টার পরে মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্য যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো সড়কে পথসভা করতে পারবেন না।

এছাড়া সিটি নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা ভোট চাওয়া বা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এমনকি এমপিরাও প্রচার-প্রচারণায়ও অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানানো হয়।নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ও ইসির নির্দেশনার পরেও নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন থেকেই রাস্তা বন্ধ করে পথসভা, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক বাজানো, প্রচারের সময় মিছিল ও সরকারদলীয় কোনো কোনো সংসদ সদস্যদেরও প্রচারণায় দেখা গেছে।

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) ডিএনসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলামের প্রচারণায় দেখা গেছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) সাদেক খানকে। এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শতদল কমপ্লেক্স মাঠে নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা যায় স্থানীয় এ এমপিকে।

শুধু যে ক্ষমতাসীন দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন তা নয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাও মানছেন না নির্দেশনা। ১০ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরুর দিনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদের সামনে বিএনপির কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক জমায়েত হন।

তারা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে রাস্তা আটকে মিছিল করেন। সোমবারও কারওয়ান বাজার এলাকায় জনসংযোগের সময়েও তাবিথের পেছনে থাকা দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রাস্তাজুড়ে মিছিল করেন। এ সময় মেয়র প্রার্থীর পেছনে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলের বহর দেখা যায়। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে তাবিথ আউয়াল বক্তৃতা দেওয়ার সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনও বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। সোমবার সোয়া ১টার দিকে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন ইশরাক। বাসা থেকে প্রচারে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিল ১৩টি মোটরসাইকেল। আরোহীদের অনেকের মাথায় হেলমেট ছিল না। তারা হর্ন চেপে অনবরত শব্দদূষণ করছিলেন। ইশরাকের প্রচারে এর আগেও মোটর শোভাযাত্রা, মিছিল, রাস্তা আটকে জনসংযোগ ও পথসভা করতে দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসও প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারে আছেন। ১০ জানুয়ারি ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন থেকে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। ১১ জানুয়ারি ওয়ারীর রোজ গার্ডেন, ১২ জানুয়ারি শান্তিনগর কাঁচাবাজার এবং সোমবার মানিকনগর বাসস্ট্যান্ডে পথসভার মধ্য দিয়ে দিনের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তিনি। পথসভায় শত শত কর্মী-সমর্থক দেখা গেছে। পথসভা শেষে তিনি হেঁটে হেঁটে প্রচারপত্র বিলি করেন। তার সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় নেতা-কর্মীকে যোগ দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি নজরদারিতে আছে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবার সঙ্গে বৈঠক করে আরও কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল