সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জোয়াড় আসর ও মাদক ব্যবসা জমজমাট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জোয়াড় আসর ও মাদক ব্যবসা জমজমাট

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জোয়াড় আসর ও মাদক ব্যবসা জমজমাট

DSC_0614সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩টি ওয়ার্ড (২৫,২৬ ও ২৭) ও ১০টি ইউনিয়ন বরইকান্দি, মোল্লারগাঁও, দাউদপুর, মোগলবাজার, সিলাম, জালালপুর, কুচাই, তেতলী, কামালবাজার, লালাবাজার নিয়ে সিলেটের ঐতিজ্যবাহি দক্ষিণ সুরমা গঠন বিস্তার। এই উপজেলার রয়েছে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলবাজার থানা। সুরমা নদীর উত্তর পাশ থেকে ক্রীন বীজ পেরিয়ে অবস্থিত সিলেট সর্ববৃহত্ত বাস টার্মিনাল ও রেল ষ্টেশন সেই সুবাদে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের ছত্রছায়া বসছে জোয়াড় আসর ও মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম। স্থানীয় শান্ত সৃষ্ট মানুষ জিম্মি হয়ে আছেন জোয়াড়ী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের কাছে।
হঠাৎ কারো দোকানের ভেতর থেকে মালামাল গায়েব, কারো বসতঘরের জিনিষপত্র হয় চুরি, টিউবওয়েলের মাথা নেই, ছাদের উপর থেকে লোহার রড নেই, রিক্সা, ভ্যান, সাইকেল, কিংবা গাড়ির চাকা, সবই যেনো চোখের পলকে উধাও হয়ে যায়। এই উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে সবাই একটি কথাই উচ্চারন করে, তা হচ্ছে ‘এ সব হেরোঞ্চির কাজ (হেরোইনসেবি)।
রাতের আঁধারে কিংবা দিনের আলোয় পুরো দক্ষিণ সুরমা জুড়ে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হেরোইন সেবীরা হানা দিচ্ছে। চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জিনিসপত্র। কেউ থানায় অভিযোগ দিলেও বেশির ভাগ ভুক্তভোগি থানা পুলিশের ঝামেলায় জড়াতে চান না। বর্তমানে দক্ষিণ সুরমায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ সুরমায় মাদকসেবীরা হাত বাড়ালেই পাচ্ছে মরণনেশা হিরোইন, ইয়াবাসহ নানান ধরনের নেশা দ্রব্য। বিভিন্ন স্পটে রাতে ও দিনে প্রকাশ্যেই খুচরা ও পাইকারী বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। উঠতি বয়সের তরুণ ও যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডসহ ধবংসের দার প্রান্তে যাচ্ছে। অভিভাবক মহল এসব তরুণ ও যুব সমাজকে নিয়ে উদিগ্ন হয়ে পড়েছে। মাদকের আকার ছোট হওয়ায় সু-কৌশলে জনসম্মুখে বিক্রি করলেও প্রশাসনের লোকজনের নজরে পরছে না। মাদক লাভ জনক ব্যবসা হওয়ায় মাদক সিন্ডিকেট চক্র হিরোইন, ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় করছে এবং অল্প সময়ে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা।
এলাকাবাসী সূত্রে ও গোপন অনুসন্ধানে জানাযায় ভার্থখলা এলাকার বুলু ও তার স্বামী শাহীদ মাদকের ডিলার বললেই চলে। পুলিশকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা করেই চলছে। ফরেন পোষ্ট অফিস এলাকা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীরা মাদকের কারখানা নামে চেনে। ঐ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন বুলু ও শহীদ।
গোপন সূত্রে জানাযায়, তারা মাদকের ডিলার। রেলষ্টেশন এলাকায় তারা বারী মিয়া দু’তালা বাড়ীতে মাদক সেবনের ক্লাব গড়ে তুলেছে। তারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকা কালে কয়েকবার পুলিশ প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে বর্তমানে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। এই মাদক বিক্রয় এর স্পট গুলিতে প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত মাদক সেবীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মত। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে, মটরসাইকেল যোগে মাদক স্পট থেকে মাদক ব্যবসায়ী পাইকারি এবং খুচরা ক্রয় করে থাকে।
এ দিকে প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরন করে। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা জেল থেকে জামিনে বেড়িয়ে আবার তাদের পুরনো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানাযায়, দক্ষিণ সুরমার ভুইয়ার পাম্পারের পাশে কুমিল্ল পট্টী, টার্মিনাল ফাড়ির অধুরে ওয়ান রেস্টুডেন্টের পিছনে, রেল স্টেশনের বেজ বাড়ি, বাবনার জিঞ্জির শাহ মাজারের এলাকার ফয়সল মিয়া কলোনীর আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে বসে অবৈধ জোয়াড় বোর্ড যেখান থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় মানুষে লক্ষ লক্ষ টাকা অবক্ষয়ের পথে লোভ লালসায় ঘর থেকে চুরি বা অন্য কোন প্রন্তা টাকা নিয়ে যুব সমাজ ছুটে যায় সেই বাজিতে। এক পর্যায়ে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতির পথ বেছে নেয় যুব সমাজ। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি, সাবেক মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তার সহযোগি তাহের উদ্দিনসহ সরকার দলীয় ও বিরোধী দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ টাকার বিনিময়ে পুলিশকে হাত করে চালিয়ে যাচ্ছে সকল ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ। আর মাস শেষে পুলিশকে মাসিক চাঁদার বিনিময়ে সকল অবৈধ কার্যক্রমের দিচ্ছেন বৈধতা।
দক্ষিণ সুরমা বাসী সকল ধরনের অপকর্ম থেকে মুক্তি ও তাদের সন্তানের জন্য একটি সুখী সমৃদ্ধি ভষিতের স্বপ্ন দেখেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল