সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজের দেড় মাস পর গৃহবধূ উদ্ধার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজের দেড় মাস পর গৃহবধূ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৬

সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজের দেড় মাস পর গৃহবধূ উদ্ধার

DSC_0192বিশ্বনাথে নিখোঁজের প্রায় দেড় মাস পর সন্তানসহ গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ রুপা বেগম (২৪) বিশ্বনাথ উপজেলার চকরামপ্রসাদ গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন বাবুলের স্ত্রী। এবং উদ্ধারকৃত তাদের সন্তানের নাম সাজিদ হোসেন (৪)। বৃহস্পতিবার সকালে ফদিরপুর জেলার রাজবাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে তাদেরকে হাজির করা হলে গৃহবধূ রুপা স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত গৃহবধূ রুপা বেগমকে তার নিজ জিম্মায় ও সন্তান সাজ্জাদ হোসেনকে তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেন।
জানা গেছে, গত প্রায় ছয় বছর পূর্বে রুপা বেগমের সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসেন সাজ্জাদ হোসেন বাবুল। বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহন করে। বর্তমানে ওই ছেলের বয়স ৪ বছর। গত ২১ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৬টায় সাজ্জাদ হোসেন বাবুল স্থানীয় রামপাশা বাজারে চলে যান। এসময় ঘরে থাকা তার মা আফিয়া খাতুন মাগরিবের নামাজে ছিলেন। এসুযোগে গৃহবধু ও তার সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারী সন্তানসহ গৃহবধু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় প্রথমে জিডি এন্টি করা হয়। এরপর গত ২৬মার্চ গৃহবধুর স্বামী সাজ্জাজ হোসেন বাবুল বাদি হয়ে ৬ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ বিশ্বনাথ উপজেলার চকরামপ্রসাদ গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২১) ও মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার পুদিনাপুর গ্রামের মৃত এলাইছ মিয়ার ছেলে শিমুল মিয়া (২৮) কে গ্রফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন জানান, মোবাইল ফোনের কল লিস্টের মাধ্যমে পুলিশ নিখোঁজ গৃহবধূ রুপা বেগম ও তার সন্তানের অবস্থান জানতে পারেন। এরপর বিভিন্ন কৌশল অবলম্ভন করে ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ি এলাকাথেকে তাদেরকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়। তিনি জানান, গৃহবধূ রুপা বেগম তার স্বামীর বাড়ির পার্শ্বের বাড়ির হালিমা বেগমের ভগ্নিপতি গ্রেফতারকৃত শিমুল মিয়া। সেই সুবাদে হালিমার মাধ্যমে শিমুলের দোকানের কর্মচারী শাহিনের সঙ্গে পরিচয় হয় রুপা বেগমের। আর রুপা বেগম তার স্বামী, শ্বশুর শাশুড়ির পর অভিমান করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে মৌলভিবাজার জেলার রাজনগর এলাকায় শাহিনের কাছে। সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ সদর থানার বগাদিয়া এলাকায় এরপর তিনি ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ি এলাকায় তার এক বোনের বাড়িতে অবস্থান করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল