সিলেটের মমতার ওপর নির্মমতা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের মমতার ওপর নির্মমতা

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০১৬

সিলেটের মমতার ওপর নির্মমতা

12323_x6সিলেটের গ্রামের সহজ-সরল মমতার প্রতি যে নির্মমতা চালানো হয়েছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। মৎস্য খামারের ছোট্ট কুটিরে নিজের স্বামী আবদুল হান্নান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। তলপেটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। এসব নির্যাতনের কারণে টানা দুই দিন ওসমানী হাসপাতালে অজ্ঞান ছিল মমতা। জ্ঞান ফিরে দেখেন হাসপাতালে স্বামী নেই। এরপর থেকে ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন। মমতা বেগম। বয়স ২৫ বছর। সিলেট শহরতলির সাহেব বাজারের ঘোড়ামারা গ্রামের ইলিয়াস আলীর মেয়ে নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের মমতা বেগমের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী মহালদি গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে আবদুল হান্নানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর প্রায় দুই বছর আগে হান্নানের হাত ধরে ঘর ছাড়েন মমতা বেগম। হান্নান তাকে নিয়ে আসেন নগরীতে। সেখানে হান্নানের বোন ও বোনজামাইয়ের উপস্থিতিতে একজন মাওলানা ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়। ওই সময় মমতাকে জানানো হয় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ের পর তারা কাবিন করবে। সহজ বিশ্বাসে হান্নানের সঙ্গে ঘর বাঁধেন মমতা। এরপর হান্নান তাকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে। একপর্যায়ে মমতা সন্তান সম্ভাব্য হয়ে গেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরতলির নাকচাপড়া নামক এলাকায় একটি মৎস্য খামারের হালগড়ায় (ছোট্ট কুটিরে)। সেখানেই এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ওখানে যাওয়ার পর মমতা জানতে পারে হান্নান বিবাহিত। আগে একটি বিয়ে করেছে এবং তার সন্তান রয়েছে। এসব বিষয় জানার পর পারিবারিক বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এই বিরোধের জের ধরে ২০১৪ সালের ১২ই নভেম্বর মমতার উপর নির্মম নির্যাতন চালায় স্বামী আবদুল হান্নান। পরে হান্নান জোরপূর্বক মমতাকে সন্তানসহ তার নানার বাড়ি শিবের বাজারে রেখে আসে। এ ঘটনার পর সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে আবদুল হান্নান, তার দুলাভাই খুরশিদ আলী, পিতা মশাঈদ আলীকে আসামি করে সিলেটের আদালতে মামলা করেন। ওই মামলাটি আদালত থেকে থানায় পাঠানো হলেও রেকর্ড হয়নি। এ ঘটনার পর খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালান। কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানেনি হান্নান ও তার পরিবার। তবে, স্থানীয়রা ফের মমতাকে স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে মমতার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। তুচ্ছ ঘটনায় মমতার ওপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। এদিকে, ১৭ই জুলাই মৎস্য খামারের হালগড়ার নির্জন ঘরে মমতার ওপর নির্মমতা চালায় আবদুল হান্নান। ওই দিন হান্নান মমতার সামনে তিনটি স্ট্যাম্প নিয়ে দস্তগত দেয়ার কথা বলে। মমতা এতে দস্তগত না দেয়ায় বাবা ও দুলাভাইকে নিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা নির্যাতন করেন। এ সময় লাঠি দিয়ে শরীরের সব স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মমতা। তাকে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য পেঠেও আঘাত করা হয়। টানা নির্যাতনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে মমতা। পরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুই দিন পর তার জ্ঞান ফিরে। মমতা জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর তার স্বামী পালিয়ে যায়। এদিকে, এ ঘটনার পর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেছেন মমতা। মামলাটি পুলিশের তদন্তে রয়েছে। মমতা জানান, পালিয়ে বিয়ে করার কারণে এখন পিতার ঘরে ঠাঁই নেই। স্বজনদের বাড়ি বাড়ি বসবাস করছেন তিনি। আর ন্যায়বিচারের জন্য পথ চেয়ে আছেন। তিনি বলেন, হান্নান বিবাহিত সেটি আগে জানায়নি। আর স্ট্যাম্পে দস্তগত নেয়ার পর এখন বিয়ে অস্বীকার করছে। এখন ক্রোধ তার সন্তানের উওর। তিনি আদালতের কাছে সন্তানের নিরাপত্তাও দাবি করেছেন বলে জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল