সিলেটের সুন্দিশাইলে শোকের মাতম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের সুন্দিশাইলে শোকের মাতম

প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬

সিলেটের সুন্দিশাইলে শোকের মাতম

golapgong১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, রবিবার: সুন্দিশাইলে চলছে শোকের মাতম। ঘরে ঘরে যেন কান্নার রোল। মা কাঁদছে ছেলের জন্য। স্ত্রী কাঁদছেন স্বামীর জন্য। প্রিয় সন্তানরা কাঁদছে পিতার জন্য। সবকিছুই প্রস্তুত ছিল। ঈদে বাড়ি আসছেন তারা। কিন্তু শনিবার দুপুরে গ্রামে পৌঁছতে থাকলো স্বজনদের মৃত্যুর খবর। আর এক একটি মৃত্যু যেন গোটা গোলাপগঞ্জকে ভাসিয়ে দিলো শোক সাগরে। শুধু সুন্দিশাইলই নয়, গোটা গোলাপগঞ্জ কাঁদছে তাদের জন্য। এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ড. মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার টঙ্গীর প্যাকেজিং কোম্পানিতে চাকরি করেন সুন্দিশাইল বহু মানুষ। এমপি থাকাকালেই তাদের চাকরি দিয়েছিলেন। গতকাল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সুন্দিশাইলেরই মারা যান ৫ জন। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। আহতরা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর বাইরে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের আরও ৬-৭ জনের খোঁজ মিলছে না। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অবস্থান জানাতে পারেননি ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড-এর ম্যানেজার আনোয়ার আহমদ। তিনি  জানিয়েছেন, ভেতরে ২০-২৫ জনের লাশ আছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজরা এর মধ্যে রয়েছেন কি না বলা যাচ্ছে না। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের পরিবারেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। সিলেটের গোলাপগঞ্জের আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামে ওই এলাকার সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচুর মিয়ার নিজের বাড়ি। এ কারণে এ গ্রামের দরিদ্র পরিবারের লোকদের ঢাকায় নিজের কারখানায় চাকরি দিয়েছেন লেচু মিয়া। গতকাল বিকাল ঢাকা থেকে ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন, মৃত তমদির আলীর ছেলে ওয়ালি আহমদ কুটি (৩২), মৃত মজর আলীর ছেলে হাসান সিদ্দিকী রহিম (৪৮), সোনা মিয়ার ছেলে এনামুল হক (৩৮), মৃত তমজিদ আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৪৮) এবং গোলাপগঞ্জের কানিশাইল গ্রামের মৃত আবদুল করিমের ছেলে রেজওয়ান আহমদ (৩০)। তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার গোটা গ্রামেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মারা যাওয়া হাসান সিদ্দিকী রহিমের ছেলে মারজান পিতার জন্য বাড়িতে বিলাপ করছিলেন। বাড়ি উঠোনে গিয়ে জড়ো হয়েছেন গ্রামের মানুষ। তাদের চোখেও ছিল জল। আর বাড়ির ভেতর থেকে আর্তনাদের সুর ভেসে আসছিলেন। রহিমের বৃদ্ধা মা ছেলের জন্য অস্থির। ছেলে বাড়ি আসবে সে কথা আগেই জানিয়েছিল মোবাইল ফোনে। গতকাল শনিবার রাতেই বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে যখন তার মৃত্যুর খবর এলো তখন গোটা পরিবারই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। মারজান জানালো, শুক্রবারও পিতার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি ঈদে বাড়ি আসছেন সেটিও জানিয়ে দিয়েছিলেন। গ্রামের লোকজন জানান, মারা যাওয়া ৫ জনের পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটায় দুঃখ বোধটা খুব বেশি। তারা বলেন, ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার নিজের বাড়ি এ গ্রামে। এ কারণে গ্রামের অসহায় পরিবারের লোকদের তিনি চাকরি দিয়েছিলেন। বয়লার বিস্ফোরণে নিহত সাইদুর রহমানের চাচাতো ভাই এমরুল হাসান জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর বেদনায় সবাই কাতর। পরিবারের কেউই প্রিয়জনদের এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না। দুঘর্টনায় আহত হয়েছে ভাদেশ্বরের পশ্চিমভাগ গ্রামের লিটন আহমদ। তার পরিবারের সদস্যরা বিকাল পর্যন্ত লিটনকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন। শেষে জানা গেল- লিটন আহত হলেও গুরুতর কিছু হয়নি। এদিকে, বিয়ানীবাজারের টিকরপাড়া এলাকায় দুজন নিখোঁজ থাকার খবর স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছিল আরও নতুন নতুন নাম। তবে, ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড-এর ম্যানেজার আনোয়ার আহমদ সর্বশেষ খবর নিয়ে জানিয়েছেন, নিখোঁজ যারা রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সিলেটের থাকতে পারে। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল