সিলেটের সুরমা পয়েন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে আকামা সেতু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের সুরমা পয়েন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে আকামা সেতু

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৬

সিলেটের সুরমা পয়েন্টে  ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে আকামা সেতু

images copyসিলেট নগরের সুরমা পয়েন্ট এলাকায় পদচারী-সেতু নির্মাণের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এরপরও সেখানে সেতু নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে জেলা পরিষদ। সে অনুযায়ী যথারীতি কাজও শুরু হয়। নির্মাণকাজে ব্যয়ও হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু তখনই এ প্রকল্পের প্রয়োজনহীনতা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোধোদয় হয়। এরপরই কাজটি স্থগিত করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
সিলেট নগরে নাগরিকদের অধিকার আদায়ে নানা ধরনের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সংগঠন নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহ্বায়ক সমরবিজয় সী শেখর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুরমা পয়েন্ট এলাকায় কোনো পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি নগরবাসীর কখনোই ছিল না। যেখানে এটি নির্মাণের দাবি রয়েছে, সেখানে তা নির্মাণ না করে গুরুত্বহীন একটি স্থানে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করাটা একধরনের বিলাসিতা ও খামখেয়ালিপনা। নগরবাসীর কাছে এটি একটি আকামা (অকাজের) প্রকল্প হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।’
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশেষ বরাদ্দ থেকে ‘সুরমা পয়েন্ট ফুটওভার ব্রিজ’ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। স্টিল স্ট্রাকচার ও আরসিসি স্ট্রাকচারে দুটি পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। শুরুতেই আরসিসি স্ট্রাকচার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ লাখ ২৫ হাজার ২৩৮ টাকা। এরপর স্টিল স্ট্রাকচার তৈরির কথা ছিল।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পদচারী-সেতুটি নির্মাণে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। গত বছরের নভেম্বরে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং সেটি জানুয়ারির শেষ দিকে স্থগিত করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, জনস্বার্থে পদচারী-সেতুটি কাজে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এ কারণে অর্থমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পদচারী-সেতুটির নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ার আগেই সেতুটির আরসিসি স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়ে গেছে। অসমাপ্ত অবস্থায় সেতুর তিনটি পিলার পড়ে আছে। এসব পিলারে নানা ধরনের বিজ্ঞাপনী পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রকল্প শুরুর আগে নাগরিকদের প্রয়োজনীয়তার কথা না ভেবে হুটহাট সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী হুমায়ূন চৌধুরী বলেন, নগরের হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি নগরবাসীর দীর্ঘ দিন ধরেই ছিল। কিন্তু সেখানে তা না করে সুরমা পয়েন্টের মতো কম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এটি নির্মাণ নগরবাসীর কাছে বোধগম্য নয়। এমনকি সুরমা পয়েন্টের ঠিক পাশেই প্রায় ৪০০ গজের মধ্যে কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়ও একটি পদচারী-সেতু রয়েছে। অল্প দূরত্বে নতুনভাবে সেতু তৈরির কোনো মানেই হয় না।
সিলেট জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ কে বলেন, অর্থমন্ত্রীর মৌখিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই পদচারী-সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এখন তাঁরই মৌখিক সিদ্ধান্তে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হবে কি হবে না, এ নিয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল