সিলেটে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দিনেই বিপত্তি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দিনেই বিপত্তি

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

সিলেটে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দিনেই বিপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে করোনাভাইরাস শনাক্তে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দিনেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। শনিবার দেশের ১০টি জেলায় একযোগে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে। ১০টির একটি সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হলেও নষ্ট হয়ে পড়েছে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর মেশিন। পিসিআর মেশিন নষ্ট হওয়ায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানও ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার সকাল থেকে শামসুদ্দিন হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। সকালে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো নমুনা প্রদানের ভিড় নেই। মাঝে মধ্যে দু’একজন এসে নমুনা জমা দিচ্ছেন। রোগীদের মুখ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রথম দিন সব মিলিয়ে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এসব নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। বিকালের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে তাদের নমুনা পুনরায় পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা রোগীদের রিপোর্ট এখনই দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশযাত্রীরা। শুক্রবার রাতে এই যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে। সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবেই বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষা হয়। যন্ত্র বিকল হওয়ায় শনিবার এই ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বিদেশযাত্রীদের ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিতে করোনার প্রায় ৫৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করে এখানে এ সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সদর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত এ চিকিৎসা কেন্দ্রটি ওসমানী হাসপাতালের অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।

শনিবার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়েছে জানিয়ে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমরা ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছি। সাড়ে ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

যাদের করোনার সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য তাদেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষায় যাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসবে তাদের শনিবার বিকালের মধ্যেই রিপোর্ট জানিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু যাদের নেগেটিভ আসবে তাদের নমুনা আবার পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করানোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব নষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই ওটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত নেগেটিভ আসা রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য ৫০০টি কিট ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং আরও ৫০০টি আসছে বলে জানান ডা. সুশান্ত।

সিলেট এমএজি ওসমানী মিডিকেল কলেজের পিসিআর যন্ত্রের পাওয়ার সাপ্লাই নষ্ট হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক বলেন, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে। মেশিন মেরামতের জন্য (রোববার) ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা আসবেন। কাল-পরশু এটি চালু হয়ে যেতে পারে।

অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক বলেন, আমাদের মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ায় সাধারণ রোগীরা তেমন সমস্যায় পড়বেন না। যাদের জরুরি প্রয়োজন তাদের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করানো হবে। তবে বিদেশযাত্রীরা কিছুটা বিপাকে পড়বেন। কারণ সিলেট বিভাগে ওসমানী ল্যাব ছাড়া আর কোথাও বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা হয় না। বিদেশযাত্রীদের মধ্যে যাদের আজকালের মধ্যে পরীক্ষা করাতে হবে তাদের আমরা ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা করানোর অনুরোধ করেছি।

ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, প্রায় নয় মাস টানা কাজ করার পর পিসিআর যন্ত্রে এমন বিপত্তি হতেই পারে। আমরা অনেকদিন থেকেই বিকল্প একটি পিসিআর যন্ত্র বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে বলে আসছি। কিন্তু নানা জটিলতায় তা আর আমরা পাইনি।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, শনিবার পরীক্ষার জন্য আমরা শুক্রবার ৬০ জন বিদেশযাত্রীর নাম নিবন্ধন করেছিলাম। তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে। ওসমানীর পিসিআর মেশিন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সিলেটে নিবন্ধন বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বিদেশযাত্রীদের ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে হবে। সিলেটে আরও দুটি ল্যাব থাকলেও সেগুলোর অনুমোদন নেই।

অন্যদিকে সিলেটে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতোমধ্যে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২৭ জন। এ সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২৪ জন রোগী সুস্থ হলেও মারা গেছেন একজন।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে ২৬ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। অন্যজন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি সিলেট জেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৮২ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৬৪ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৪৭৫ জন, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৯০৭ জন ও মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৮৩৬ জন রয়েছেন।

করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪৫ জন। মৃতদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১৮২ জন, সুনামগঞ্জে ২৫ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ২২ জন রয়েছেন।

সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৬৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৭ হাজার ৮৭৪ জন, সুনামগঞ্জের ২ হাজার ৪১৬ জন, হবিগঞ্জের ১ হাজার ৫৬৪ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ১ হাজার ৭১৫ জন।

করোনা আক্রান্ত ২৭ জন রোগীর বেশিরভাগই বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। সিলেট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ জন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে বিভাগের আরও ২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৪ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল