সিলেটে আটক শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে প্রেরণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে আটক শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে প্রেরণ

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

সিলেটে আটক শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে আটক শ্রমিক নেতা মো. হারিছ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

হারিছ আলী সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং বি- ১৪১৮)-এর অন্যতম সদস্য। গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমার অতিরবাড়ি এলাকা তাকে আটক করে বিজিবি ১৯ ব্যাটালিয়ান’র একটি দল। আটকের সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে বিজিবি।

এদিকে, হারিছ আলীকে আটকের পর নগরীর আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা ভোররাত পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে লালাবাজার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করেন।

এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অবরোধের কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সড়কগুলোতে দেখা দেয় তীব্র যানজট। এ যানজট কদমতলি বাস টার্মিনাল থেকে নগরীর শাহজালাল উপশহর পর্যন্তও দীর্ঘ হয়। পরে রাত ৪টার দিকে হারিছ আলীকে দক্ষিণ সুরমা থানাপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। এসময় পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন পরিবহন শ্রমিকরা।

এ বিষয়ে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন শনিবার সকালে বলেন, রাত ৪টার দিকে বিজিবি আমাদের কাছে হারিছ আলীকে হস্তান্তর করে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়। আজ হারিছ আলীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অসুস্থতার জন্য জামিনের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি জানান, হারিছ আলীর বিরুদ্ধে বিজিবি বাদি হয়ে মাদক মামলা দায়েরে করেছে। মামলা নং-২০।

এদিকে, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং বি- ১৪১৮)-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত বলেন, ‘হারিছ আলী নির্দোষ। তাকে মিথ্যা অভিযোগে বিজিবি আটক করেছে।’

তিনি বলেন, ‘হারিছ আলীর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায়। তারা প্রতিদিনই অতিরবাড়ি এলাকায় আড্ডা দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে এখানে ক্যারম খেলছিলো। এসময় হঠাৎ করে বিজিবির একটি গাড়ি এসে হারিছ আলীর মোটর সাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে হারিছ আলীকে ডাকতে থাকে। তখন হারিছ আলী গাড়ির কাছে আসলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকল মানুষকে সরিয়ে দিয়ে হারিছ আলীকে বলেন, গাড়িতে ১ প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে আবার বিজিবি মানুষ ডেকে এনে সকলকে বলে- এই গাড়িতে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এই বলে তাকে এবং তার মোটরসাইকেল বিজিবি নিয়ে যায়। এরপর আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে গেলেও বিজিবির কমান্ডার দেখা করতে দেননি। পরে শ্রমিকরা রাত ১০ টার দিকে সড়ক অবরোধ করে।’

শ্রমিক নেতা আব্দুল মুহিত বলেন, ‘আমাদের নির্দোষ শ্রমিককে ফাঁসানো হয়েছে।।

অপরদিকে বিজিবির দাবি হারিছ আলীর কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়ন এর কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই ব্যক্তির কাছে ইয়াবা আছে। তাৎক্ষণিক আমি একদল ফোর্স পাঠালে দক্ষিণ সুরমার অতির বাড়ি এলাকায় গিয়ে তার মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। তখন তাকে ডেকে এনে শরীর তল্লাশি করে ইয়াবার একটি পুটলা পাওয়া যায়। এই পুটলায় ১৯৯ পিস ইয়াবা ছিলো। পরে তাকে মোটরসাইকেলসহ আমার ফোর্স নিয়ে আসে। এরপর রাতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে গেটে কারা আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে আমি কাউকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেইনি। পরে আটক হারিছ আলীকে রাত ৪টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল