সিলেটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে যে ত্রুটি পেয়েছে পিএমও টিম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে যে ত্রুটি পেয়েছে পিএমও টিম

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২১

সিলেটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে যে ত্রুটি পেয়েছে পিএমও টিম

দেশের গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ঘরগুলো নির্মাণে অপরিকল্পনা, অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে সম্প্রতি।

প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পেয়ে সিলেটসহ সারা দেশে এসব ঘর পরিদর্শন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) পাঁচটি টিম। এরই মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ঘরগুলো পরিদর্শন করেছে একটি পিএমও টিম। উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দল গত ১০ জুলাই (শনিবার) বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানের ঘরগুলো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে ঘরগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন টিমের সমস্যরা।

পিএমও টিম সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় এসব ঘর নির্মাণে বড় ধরনের দুর্নীতির তথ্য পাননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে স্থান নির্ধারণ ও মাটি ভরাটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে করা হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেটে পরিদর্শনে আসা উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, একটি কাজ করতে গেলে অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। সে বিষয়টি আমরা দেখছি। যে বিষয়গুলো বিভিন্ন মিডিয়াতে এসেছে। সেগুলো কি ভুল নাকি ইনটেনশনাল, সেটা আমরা যাচাই করছি। প্রত্যেকটা কেস, প্রত্যেকটা বিষয় আমরা অ্যাটেইন করবো, কোনোটাই আনঅ্যাটেন্ডেড থাকবে না।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সেরা উপহার ভূমিহীন, গৃহহীনদের বিনা পয়সায় গৃহ প্রদান। যেটাকে আমরা বলে থাকি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’, যা সিলেটসহ সারা বাংলাদেশে চলছে। চলমান কার্যক্রম বিষয়ে কোথাও কোথাও থেকে আমরা প্রতিবেদন পেয়েছি এবং মিডিয়াতে এসেছে কোথাও কোথাও সমস্যা হয়েছে। এ বিষয়গুলোর ভিত্তিতে আমাদের প্রকল্প অফিসের ৫টি টিম সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় সরেজমিনে দেখছে। কী সুবিধা-অসুবিধা সেটা শনাক্ত করে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই কাজ করছি এবং দ্রুত কাজ শেষ হবে।

মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, এর আগেই আমাদের সকল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনকে কমিটি করার জন্য বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি করে প্রত্যেকটা ঘর সরেজমিন দেখে যদি কোনো নির্মাণগত ত্রুটি থাকে তাৎক্ষণিক মেরামত করবে। যদি সঠিক থাকে আমাদের জানাবে।

তিনি বলেন, সিলেটে আমরা যেটি দেখেছি- আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের জমি নির্ধারণ এবং মাটি ভরাটের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। ঘরের নিচের ভরাটকৃত মাটি যদি জমাট ও শক্ত না থাকে তবে ঘর ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যায়। প্রয়োজনে ভিটের মাটি টেকাতে ঘরের পাশে গার্ড ওয়াল স্থাপন করতে হবে। সিলেটের কিছু স্থানে এমন সমস্যা রয়েছে। সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

একসময় যাদের ঠিকানা ছিলো গাছতলা, কোনো অফিসের বারান্দা, কারো চিলেকোঠা বা অন্যের বাড়িতে- তারা পাচ্ছেন স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এ প্রাপ্তি ছিলো পরম আনন্দের। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে অসামাঞ্জস্যপূর্ণ ব্যয় নির্ধারণ, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণপদ্ধতি ও অনিয়ম-দুর্নীতি মলিন করে দিয়েছে উপকারভোগীদের মুখের হাসি।

দেশের ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সিলেট জেলায় ঘর পাচ্ছে ৪ হাজারের অধিক পরিবার। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঘরের দলিল উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে বাকিগুলোও হস্তান্তরের কথা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলিল হস্তান্তরকৃত কিছু ঘরে মানুষজন ইতোমধ্যে থাকতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সিলেট জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পে সিলেটসহ সারা দেশে পৌনে ৯ লাখ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪ হাজার ২ শ ৯৩টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেমিপাকা ঘর। ৩৯৪ বর্গফুটের ও ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বাজেটের একেকটি ঘরে রয়েছে ২টি থাকার কক্ষ, ১টি রান্না ও খাবার কক্ষ এবং ১টি বাথরুম বা টয়লেট। দুই দফা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার ২ হাজার ২ শ ৫৯টি ঘরের দলিল এরই মধ্যে উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, মানুষজন যখন স্বপ্নের ঠিকানায় থাকতে শুরু করেছেন ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ঘরগুলো নির্মাণে অপরিকল্পনা, অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পেয়ে সিলেটসহ সারা দেশে এসব ঘর পরিদর্শন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) পাঁচটি টিম।